দীর্ঘ ১৬ বছরের খরা কাটিয়ে অবশেষে ফুটবল বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর মেগা এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বুধবার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন ‘বাফানা বাফানা’দের বেলজিয়ান কোচ হুগো ব্রোস। ঘোষিত এই দলে খুব বড় কোনো চমক না থাকলেও রক্ষণভাগ মজবুত করতে অলওয়েথু মাখানিয়া এবং ব্র্যাডলি ক্রস নামের দুই নবাগতকে দলে টেনেছেন কোচ।
একই সাথে দলে জায়গা ধরে রেখেছেন ৩৬ বছর বয়সী অভিজ্ঞ প্লেমেকার থেম্বা জোয়ানে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকোর বিরুদ্ধে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়েই মাঠের লড়াইয়ে নামবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
গ্রুপ ‘এ’-তে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা মোটেও সহজ হবে না। উদ্বোধনী ম্যাচে সহ-আয়োজক মেক্সিকোর মুখোমুখি হওয়ার পর ১৮ জুন আটলান্টায় চেক প্রজাতন্ত্র এবং ২৪ জুন মনটেরিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে খেলবে তারা।
এই কঠিন মিশনকে সামনে রেখেই কোচ হুগো ব্রোস রক্ষণভাগে বিকল্প বাড়াতে ২২ বছর বয়সী তরুণ সেন্টার-ব্যাক মাখানিয়া (যিনি আমেরিকান লিগে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের হয়ে খেলেন) এবং ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের একাডেমিতে বেড়ে ওঠা কাইজার চিফসের ২৫ বছর বয়সী লেফট-ব্যাক ব্র্যাডলি ক্রসকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
মজার বিষয় হলো, বাছাইপর্বের একটি ম্যাচেও এই দুজনকে দেখা যায়নি। এছাড়া হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গত রবিবার মামেলোডি সানডাউনসের হয়ে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল মিস করা নিয়মিত লেফট-ব্যাক অব্রে মোদিবাকেও ইনজুরি নিয়েই দলে রাখা হয়েছে।
এবারের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার আক্রমণভাগের মূল ভরসা বার্নলির তারকা স্ট্রাইকার লাইল ফস্টার। তবে মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে ৩৬ বছরের জোয়ানেকে দলের জন্য অপরিহার্য মনে করছেন ৭৪ বছর বয়সী চতুর কোচ ব্রোস। উল্লেখ্য, ঘোষিত স্কোয়াডের ২৬ জন খেলোয়াড়ের মধ্যে ১৯ জনই খেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া লিগে।
এই বিশ্বকাপটি মূলত বেলজিয়ান ট্যাকটিশিয়ান হুগো ব্রোসের জন্য এক ‘বিদায়ী রাগিণী’ (Swansong)। তিনি ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন যে বিশ্বকাপের পরই তিনি তাঁর দীর্ঘ কোচিং ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন। কাকতালীয়ভাবে, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপেই একজন খেলোয়াড় হিসেবে বেলজিয়ামকে চতুর্থ স্থান এনে দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন এই সাবেক ডিফেন্ডার।
আর ঠিক ৪০ বছর পর, সেই মেক্সিকোর মাটিতেই কোচ হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায় লিখতে যাচ্ছেন তিনি। দল ঘোষণা নিয়ে ব্রোস বলেন, আমি জানি যেসব খেলোয়াড় দল থেকে বাদ পড়েছেন তারা আজ রাতে ভীষণ হতাশ হবেন। দল গড়ার ক্ষেত্রে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। আশা করি, আমি সঠিক খেলোয়াড়দেরই বেছে নিয়েছি।
দক্ষিণ আফ্রিকা এর আগে ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০১০ সালে (আয়োজক হিসেবে) মোট তিনবার ফুটবল বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল। তবে প্রতিবারই তাদের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। এবার ওল্ড গার্ড আর তরুণদের এই মিশ্রণ দিয়ে বাফানা বাফানারা নকআউট পর্বের নতুন ইতিহাস লিখতে পারে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার ২৬ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: রনওয়েন উইলিয়ামস, রিকার্ডো গস, সিফো চেইন।
ডিফেন্ডার: খুলিসো মুদাউ, অব্রে মোদিবা, খুলুমানি এনদামান, অলওয়েথু মাখানিয়া, ব্র্যাডলি ক্রস, থাবাং মাতুলুদি, এনকোসিনাথি সিবিসি, কামোগেলো সেবেলেবেলে, ইমে ওকোন, সামুকেলে কাবিনি, ম্বেকেজেলি ম্বোকাজি।
মিডফিল্ডার: তেবোহো মোকোয়েনা, জেইডেন অ্যাডামস, থালেন্টে ম্বাথা, স্পেফেলো সিথোল।
ফরোয়ার্ড: অসভিন অ্যাপোলিস, শেপাং মোরেমি, এভিডেন্স মাকগোপা, রেলেবোহিল মোফোকে, লাইল ফস্টার, ইকরাআম রেইনার্স, থেম্বা জোয়ানে, থাপেলো মাসেকো।