আজমুন আর ভিসা বিতর্কে উত্তপ্ত ইরানের ফুটবল!

বিশ্বকাপের ঠিক আগ মুহূর্তে ইরান ফুটবল দলে মাঠের চেয়ে মাঠের বাইরের রাজনীতি যেন বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে! দেশের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার সরদার আজমুনকে বিশ্বকাপ দলে ফেরানো হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম নাটকীয়তা। ৯১ ম্যাচে ৫৭টি আন্তর্জাতিক গোল করা ৩১ বছর বয়সী এই তারকাকে কোচ আমির ঘালিনোইয়ের প্রাথমিক স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, সরকারের প্রতি ‘অ-আনুগত্যের’ চরম মাশুল গুনছেন এই ফরোয়ার্ড।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের শাসক মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাকতুমের সাথে একটি ছবি পোস্ট করে কট্টরপন্থী ইরান সরকারের রোষানলে পড়েন আজমুন। কারণ, আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরান আক্রমণের পর আমিরাতকে এই যুদ্ধের একটি পক্ষ মনে করে তেহরান।

Sardar Azmoun 06
গত সপ্তাহে আজমুন আবেগঘনভাবে নিজের দেশপ্রেমের প্রমাণ দিলেও তাঁর পক্ষে স্বয়ং দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুলকরিম হোসেইনজাদেহ সাফাই গেয়ে এক্সে লেখেন, জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে আজমুনকে দলে ফেরানো হোক। তবে গত বৃহস্পতিবার ইরানি টিভিতে ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ ডাঁট দেখিয়ে বলেছেন, আজমুনের দলে ফেরার ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না! আগামী সোমবার ফিফার চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার শেষ সময়, ফলে আজমুনের ভাগ্য এখন সুতোয় ঝুলছে।

এদিকে মার্কিন বৈরিতার কারণে ইরানি দলের বিশ্বকাপ প্রস্তুতিও পড়েছে বড় ধাক্কায়। যুক্তরাষ্ট্র সরকার তাদের মাটিতে ইরান দলকে ক্যাম্প করতে দিতে অস্বীকৃতি জানালে, ফিফার অনুরোধে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শিনবাম পার্দো দলটিকে মেক্সিকোর টিজুয়ানাতে ক্যাম্প করার অনুমতি দেন।

Iran Football Team
মেক্সিকোতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবুলফজল পাসানদিদেহ গত বৃহস্পতিবার টিজুয়ানা সফর করে মেক্সিকোকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং আমেরিকাকে খোঁচা দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, মেক্সিকোতে ক্যাম্প করলেও ইরানকে তাদের গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচ খেলতে হবে লস অ্যাঞ্জেলেসে এবং একটি সিয়াটেলে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থিত। কিন্তু ইরানি রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, দলের খেলোয়াড়রা এখনও মার্কিন ভিসাই পাননি!

Sardar Azmoun 04
ফুটবল প্রধান মেহেদি তাজ, যিনি নিজে একসময় ইরানের এলিট সামরিক বাহিনী আইআরজিসির  এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন এবং এই লিঙ্কের কারণে গত এপ্রিলে কানাডায় ফিফা কংগ্রেসে ঢোকার অনুমতি পাননি, এবার সরাসরি ফিফাকে হুমকি দিয়েছেন। আমেরিকা ও কানাডা দু’দেশই আইআরজিসি’কে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে গণ্য করে। অথচ ইরানি স্কোয়াডের অনেক খেলোয়াড় এবং টেকনিক্যাল স্টাফের বাধ্যতামূলক সামরিক চাকরি এই আইআরজিসি-তেই করতে হয়েছে।

মেহেদি তাজ কড়া গলায় বলেছেন, ফিফাকেই খেলোয়াড়দের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসার ব্যবস্থা করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র যদি আমাদের ভিসা না দেয়, তবে এর পরিণতি কী হবে তা সবার কাছে খুব পরিষ্কার।  আগামী ১৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে ইরানের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। এখন মার্কিন ভিসা জোটে নাকি ইরান বিশ্বকাপই বয়কট করে, তা নিয়ে বিশ্ব ফুটবলে টানটান উত্তেজনা!