তল্পিতল্পা গুটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ধরার ঠিক আগের রাতেই ঘরের মাঠে মুখ পুড়ল নেদারল্যান্ডসের। বুধবার রাতে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচে পুঁচকে আলজেরিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে ডাচদের। ডাচদের ঘরের মাঠে এমন ভরাডুবি যে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে একটা বড়সড় ‘ওয়েক-আপ কল’ বা সতর্কবার্তা, তা ম্যাচ শেষে অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন দলটির হেড কোচ রোনাল্ড কোম্যান। তবে হারের পর তাঁর শরীরী ভাষায় ঝরে পড়েছে তীব্র হতাশা আর ক্ষোভ।
নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ঘরের মাঠে এই হার ডাচ শিবিরের ফুরফুরে মেজাজে রীতিমতো জল ঢেলে দিয়েছে। উল্টো ডাচ ক্লাব ফেইনুর্ডের হয়ে খেলা আলজেরিয়ান উইঙ্গার আনিস হাজ মুসা ম্যাচের ঠিক ৪ মিনিট বাকি থাকতে ডাচদের জালে বল গলিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন। নিজের চেনা ক্লাবের মাঠেই ডাচদের অহংকার চূর্ণ করে নায়ক বনে যান এই আফ্রিকান তারকা।
ম্যাচ শেষে ক্ষোভে ফুঁসতে থাকা কোম্যান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি হারতে তীব্র ঘৃণা করি। এই ম্যাচটা আমাদের অনায়াসে জেতা উচিত ছিল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে আমাদের যে অবস্থান (৮ম), তাতে ঘরের মাঠে এই ধরণের ম্যাচ আমাদের জিততেই হবে। ম্যাচের প্রথম ২৫ মিনিট ডাচদের একচেটিয়া দাপট ছিল উল্লেখ করে তিনি আফসোস করেন, শুরুর দিকে আমরা চার-পাঁচটা নিশ্চিত গোল করার সুযোগ পেয়েছিলাম। তখনই ম্যাচটা আমাদের পকেটে পুরে নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু আমরা তা করতে পারিনি। আর গোল না করতে পারার খেসারত দিতে গিয়ে পরে আমরা নিজেদের ওপরই চাপ বাড়িয়ে ফেলেছি।
দলের খেলোয়াড়দের গা-ছাড়া মনোভাব নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কোম্যান আরও বলেন, "মাঠে আমাদের ছেলেদের মধ্যে আগ্রাসনের প্রচণ্ড অভাব ছিল। ওরা বড্ড বেশি ভদ্র সেজে খেলছিল।" এক সাংবাদিক যখন তাঁকে প্রশ্ন করেন—বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে হারার চেয়ে প্রস্তুতির সময়ে এই ধাক্কা খাওয়া কি ভালো নয়? তপ্ত গলায় কোম্যানের সটান জবাব, "একদমই না! জয় সবসময় একটা চনমনে অনুভূতি দেয়, আর হার মানেই তা খারাপ। এখনই প্যানিক বা আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই ঠিকই, তবে আমাদের ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে। এটাকে একটা বড় ধাক্কা বা ঘুম ভাঙার ডাক হিসেবেই দেখতে পারেন।"
আগামী সোমবার নিউ ইয়র্কে বিশ্বকাপ অভিযাত্রী উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে নামবে নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপের মূল পর্বে গ্রুপ ‘এফ’-এ ডাচদের লড়তে হবে জাপান, সুইডেন এবং তিউনিসিয়ার মতো কঠিন প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে। এখন দেখার বিষয়, আলজেরিয়ার দেওয়া এই ‘তেতো ওষুধ’ গিলে কোম্যানের শিষ্যরা মূল আসরে কতটা জ্বলে উঠতে পারে!