মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই মাঠের বাইরের নোংরা রাজনীতির শিকার হতে হলো ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো ফুটবল দলকে। দেশে ‘ইবোলা’ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের অজুহাত দেখিয়ে কঙ্গোর পরিকল্পিত একটি প্রীতি ম্যাচ নিজেদের মাটিতে আয়োজন করতে মানা করেছে স্পেনের একটি শহর।
স্প্যানিশ শহর ‘লা লিনিয়া দে লা কনসেপসিওন’-এর মেয়রের এমন চরম বৈষম্যমূলক ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় পড়ে গেছে। তবে, এই অপমানের মুখেও ভেঙে না পড়ে, বৃহস্পতিবারই স্পেনের উদ্দেশ্যে বিমান ধরেছে কঙ্গো দল। তাদের স্পষ্ট বার্তা, ম্যাচ তারা খেলবেই!
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আগামী সপ্তাহে চিলির বিরুদ্ধে কঙ্গোর একটি হাই-প্রোফাইল বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ। কিন্তু কঙ্গোতে ইবোলা ছড়ানোর ওজর দেখিয়ে লা লিনিয়া শহরের মেয়র ম্যাচটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। মেয়রের এই সিদ্ধান্তকে ফুটবল মহল বড্ড ‘অযৌক্তিক’ এবং ‘গায়ে পড়া’ বলে মনে করছে।
কারণ, কঙ্গো দলটির প্রায় সব খেলোয়াড় এবং স্টাফ দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলছেন এবং তাঁরা গত ১০ দিন ধরে বেলজিয়ামে কড়া স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনুশীলন ক্যাম্প আছেন। গত বুধবারই বেলজিয়ামে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচে ডেনমার্কের মতো দলকে রুখে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছে কঙ্গো।
চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচটি বাতিল হতে না দেওয়ার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ কঙ্গোর ফরাসি হেড কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাবের ক্ষোভ ও প্রত্যয় নিয়ে বলেন, "আমরা চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলতে মরিয়া। স্পেনের ওই ভেন্যু বাতিল হলেও আমরা বিকল্প ভেন্যু খুঁজছি এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী যে খুব দ্রুতই তা পেয়ে যাব।
প্রয়োজনে আমরা দর্শকদের ছাড়াই বন্ধ দরজার আড়ালে খেলব, তাও ম্যাচ বাতিল করব না। একই সুরে কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনও জানিয়েছে, তাদের দলের প্রত্যেকে সমস্ত আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য, ক্রীড়া এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন মেনেই চলছেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে ইবোলা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ৩৪৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ৬০ জন মারা গেছেন। দেশের এই কঠিন পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে কোচ দেসাবের আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, দেশের পূর্বাঞ্চলের এই মহামারী আমাদের সব খেলোয়াড়ের মনকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আমরা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে দেশের সম্মানকে উঁচিয়ে ধরতে চাই এবং প্রমাণ করতে চাই যে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো বিশ্বমঞ্চে কতটা মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য।
স্পেনে বিকল্প ভেন্যুতে চিলির বিরুদ্ধে ম্যাচটি খেলার পর কঙ্গো দল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে নিজেদের মূল বিশ্বকাপ ঘাঁটি গাড়বে। আগামী ১৭ জুন পর্তুগালের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর ২৩ জুন গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়া এবং ২৭ জুন আটলান্টায় উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে এই আফ্রিকান জায়ান্টরা। মাঠের বাইরে অপমানের শিকার হওয়া কঙ্গো এবার বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে প্রতিপক্ষদের কীভাবে জবাব দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়!