চোটের মাঝেই খেলায় ফিরতে নেইমারের হুঙ্কার!

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে হেক্সা মিশন শুরু করছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই সেলেসাও ভক্তদের মনে ছিল একটাই প্রশ্ন, তাদের প্রাণভ্রমরা নেইমার জুনিয়র কি খেলবেন?

সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বয়ং ব্রাজিলের হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়ে দিয়েছেন, প্রথম ম্যাচে ডাগআউটে শুধু দর্শক হিসেবেই থাকতে হচ্ছে এই পোস্টার বয়কে। তবে, মাঠের বাইরে থাকলেও ভক্তদের উথাল-পাথাল আবেগে ঘি ঢেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক জম্পেশ ও আগুনে বার্তা দিয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা ফরোয়ার্ড।

Neymar and Vini 03
ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে শনিবার নিজের অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি পরা একটি ছবি পোস্ট করেন নেইমার। ক্যাপশনে চোটের রক্তচক্ষুকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লিখেছেন, যে কোনো চ্যালেঞ্জের জন্য আমি প্রস্তুত।

তার এই পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়, যা প্রথম ম্যাচে নেইমারকে না পাওয়ার হতাশায় ভোগা সেলেসাও সমর্থকদের মনে এনে দিয়েছে নতুন আশার আলো। পায়ের কাফের চোট কাটিয়ে দ্রুত সবুজ গালিচায় ফেরার জন্য তিনি যে দিনরাত এক করে খাটছেন, এই পোস্ট যেন তারই অকাট্য প্রমাণ।

৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়াটা মোটেও মসৃণ ছিল না। শুরুতে তাঁর ক্লাব সান্তোস চোটটিকে সামান্য ফোলাভাব বলে উড়িয়ে দিলেও, পরে স্ক্যান রিপোর্টে ধরা পড়ে যে তাঁর পায়ের কাফের পেশি মারাত্মকভাবে ছিঁড়ে গেছে। এই বড় চোট নিয়েই তিনি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ঢুকে পড়েন।

Neymar 09
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি নেইমারের বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশ ইতিবাচক আপডেট দিয়েছেন। অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড বলেন, নেইমার দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য অবিশ্বাস্য রকমের কঠোর পরিশ্রম করছে। পুনর্বাসন প্রক্রিয়া খুব ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং আশা করছি আগামী সপ্তাহেই সে দলের সাথে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরতে পারবে।

নেইমারকে দলে রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে আনচেলত্তি আরও যোগ করেন, নেইমারকে আমরা শুধু তার জাদুকরী ফুটবল প্রতিভার জন্য দলে নিইনি, এ নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আমাদের এই তরুণ স্কোয়াডের জন্য সবচেয়ে বড় সম্পদ। সে ড্রেসিংরুমে আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা এবং আদর্শ উদাহরণ হতে পারে।

কোচের কথানুযায়ী, মরক্কো ম্যাচে ভিনিসিয়ুস-রাফিনহারা মাঠে যখন সাম্বা ঝড় তোলার চেষ্টা করবেন, গ্যালারিতে বসে নেইমার তখন মেন্টর বা বড় ভাইয়ের ভূমিকায় দলের আত্মবিশ্বাস জোগাবেন। আর হেক্সা প্রত্যাশী ব্রাজিলিয়ান ভক্তরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন আগামী সপ্তাহের দিকে, যখন তাদের প্রিয় ‘নাম্বার টেন’ চোটের ভূত তাড়িয়ে আবারও বল পায়ে মাঠ কাঁপাতে নামবেন!