দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা ফুরোচ্ছে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল তাদের বিশ্বকাপ অভিযানের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হতে আবারও পা রাখছে নিউ জার্সির ঐতিহাসিক মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। শেষবার এই লাকি গ্রাউন্ডে সেলেসাওরা বুট জোড়া গলিয়েছিল প্রায় আট বছর আগে, ২০১৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর। সেই প্রীতি ম্যাচে তৎকালীন কোচ তিতের অধীনে ৭০ হাজারেরও বেশি দর্শকের সামনে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ গোলে চূর্ণ করেছিল লাতিন পরাশক্তিরা।
সেদিনের সেই দুর্দান্ত জয়ের নায়ক ছিলেন রবের্তো ফিরমিনো এবং প্রাণভ্রমরা নেইমার জুনিয়র; দুজনেই প্রথমার্ধে গোল করে ম্যাচ পকেটে পুরেছিলেন। রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায়ের ক্ষত নিয়ে সেবার নতুন এক চক্র শুরু করেছিল ব্রাজিল, যেখানে পুরো ম্যাচে গতির ঝড় তুলে স্পটলাইট কেড়ে নিয়েছিলেন ফরোয়ার্ড দগলাস কস্তা।
কাকতালীয় বিষয় হলো, ২০১৮ সালের সেই মার্কিন বধের ঐতিহাসিক স্কোয়াড থেকে এবারের ২০২৬ বিশ্বকাপ দলেও টিকে আছেন ব্রাজিলের ৭ জন অভিজ্ঞ ক্রুসেডার। তাঁরা হলেন, লুকাস পাকেতা, নেইমার জুনিয়র, গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার, অ্যালেক্স সান্দ্রো, ক্যাসেমিরো, রক্ষণভাগের স্তম্ভ মার্কিনহোস এবং মিডফিল্ডার ফাবিনহো। প্রথম ম্যাচে নেইমার ইনজুরির কারণে গ্যালারিতে থাকলেও বাকি জাঁদরেলরা ভোরে মরক্কোর কোমর ভেঙে দিতে মেটলাইফের সবুজ গালিচায় সাম্বা জাদু দেখাবেন।
মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও এখানে আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া এবং ইকুয়েডরের মুখোমুখি হয়েছে ব্রাজিল। এই মাঠে খেলা মোট ৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ৩টিতেই জিতেছে সেলেসাওরা, ড্র করেছে ১টিতে এবং হারের তিক্ত স্বাদ পেয়েছে মাত্র ১টি ম্যাচে।
১০ আগস্ট ২০১০ সালে এই মাঠেই প্রীতি ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিল, যেখানে গোল করেছিলেন নেইমার ও আলেকজান্দ্রে পাতো। এরপর ২০১২ সালের ৯ জুন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এক রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারে ৩-৪ গোলে হেরে যায় ব্রাজিল।
রবের্তো রোমুলো, অস্কার ও হুলকের গোলের বিপরীতে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি একাই হ্যাটট্রিক করে ব্রাজিলের দর্পচূর্ণ করেছিলেন। একই বছরের ১৪ নভেম্বর কলম্বিয়ার সাথে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল, যেখানে গোলদাতা ছিলেন নেইমার। আর ২০১৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর উইলিয়ানের একমাত্র গোলে ইকুয়েডরকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা।
২০১০ সালের ১০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করা এই স্টেডিয়ামটি শুরুর দিকে ‘নিউ মেডোল্যান্ডস’ নামে পরিচিত ছিল। বর্তমানে এটি আমেরিকার এনএফএল’র দুটি বিখ্যাত দল, নিউইয়র্ক জেটস এবং নিউইয়র্ক জায়ান্টসের হোম গ্রাউন্ড।
৮২,৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই স্টেডিয়ামটি আমেরিকান ফুটবল লিগের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং অন্যতম আধুনিক ভেন্যু। এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে আরও একটি মহাকাব্যিক জয় উপহার দিয়ে পয়া মাঠের রেকর্ডকে আরও সমৃদ্ধ করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামবে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
কান্নাভেজা কণ্ঠে নেইমারের আবেগঘন বার্তা!
নিউইয়র্কের বুকে এক টুকরো মারাকানা!
ব্রাজিল ফেভারিট নয়, তবে অপ্রতিরোধ্য: অ্যালিসন