২০০২ সালের সেই সোনালী অধ্যায়ের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪টি বছর; বিশ্বমঞ্চে আর চুমু খাওয়া হয়নি সোনালী ট্রফিতে। ফুটবল ইতিহাসের সফলতম দল ব্রাজিল কি পারবে এবার আমেরিকার মাটিতে ২৪ বছরের সেই অভিশপ্ত খরা কাটাতে? টুর্নামেন্ট শুরুর সাথে সাথেই এই কোটি টাকার প্রশ্ন নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আড্ডায় ঝড় উঠেছে।
কিন্তু মাঠের লড়াই শুরুর আগেই সেলেসাও শিবিরে বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে প্রাণভ্রমরা নেইমারের চোট। আগামীকাল রবিবার ভোরে মরক্কোর বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে মাঠের বাইরেই থাকতে হচ্ছে ৩৪ বছরের এই অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারকে। এমন এক স্নায়ুচাপের ম্যাচে নামার আগে দলীয় তারকা তথা অন্যতম বিশ্বসেরা গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার যা বললেন, তা এক কথায় জম্পেশ ও বিস্ফোরক!
দেশের হয়ে ৭৮টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ গোলপোস্ট প্রহরী অ্যালিসন বেকার মরক্কো ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্রাজিলকে এখনই ফেভারিট ভেবে হাওয়ায় ওড়ার কোনো কারণ নেই। তবে দল হিসেবে তারা কতটা ভয়ঙ্কর, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন।
গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কিংবা রানার্স-আপ ফ্রান্সের তুলনায় ব্রাজিলের প্রস্তুতি কেমন, এমন জ্বলন্ত প্রশ্নের জবাবে অ্যালিসন বলেন, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় কোনো দলকেই নিশ্চিতভাবে ফেভারিট বলা যায় না। এখানে সব দলের ওপরই সমান চাপ থাকে। প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচ সব সময়ই ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে পরিবেশ এবং পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার একটা বড় ব্যাপার থাকে। তবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। অ্যালিসনের এই চটপটে মন্তব্যই বলে দিচ্ছে, ফেভারিটের সস্তা তকমা গায়ে না মেখে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতে চায় সেলেসাওরা।
টানা পাঁচটি বিশ্বকাপে ট্রফি ছোঁয়া না পারায় ব্রাজিলের ফুটবল কর্তারা এবার আর কোনো ঝুঁকি নেননি। দলীয় সংকট কাটাতে এক বছরের কিছু সময় আগে ব্রাজিলের হটসিটে বসানো হয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা ট্যাকটিশিয়ান কার্লো আনচেলত্তিকে। রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক এই মাস্টারমাইন্ডের কোচিং ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম বিশ্বকাপ।
ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে কোনো বিদেশি কোচের ওপর এভাবে হেক্সা মিশনের দায়িত্ব সঁপে দেয়ার নজির মেলা ভার। তাই পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা এবার অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছেন এই ইতালিয়ান জাদুকরের ফুটবল মস্তিষ্কের দিকে। নেইমারের অনুপস্থিতিতে আনচেলত্তি কীভাবে ডিফেন্স জমাট রেখে আক্রমণভাগ সাজান এবং মরক্কোর ‘লো ব্লক’ ডিফেন্স ভাঙেন, তা দেখার জন্য এখন চাতক পাখির মতো প্রহর গুনছেন সেলেসাও ভক্তরা। সব হিসাব-নিকাশ পাশে সরিয়ে রেখে এবার মাঠের সাম্বা ঝড়ই কথা বলুক!