রাতে কাতারের অগ্নিপরীক্ষা, সামনে শক্তিশালী সুইজারল্যান্ড

ফুটবল দুনিয়ার সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডির নায়কদের একজন তিনি। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার ঠিক দুই দিন আগে স্প্যানিশ ফেডারেশনকে না জানিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হতে রাজি হওয়ায় স্বয়ং প্রধান কোচের পদ থেকে বরখাস্ত হয়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে বাড়ি ফিরতে হয়েছিল হুলেন লোপেতেগিকে।

বিশ্বমঞ্চের সেই পুরোনো ক্ষত আর অভিশাপ ভুলে এবার সম্পূর্ণ ভিন্ন এক মিশন নিয়ে বিশ্বকাপে ফিরছেন এই স্প্যানিশ মাস্টারমাইন্ড। তবে, এবার আর কোনো পরাশক্তি নয়, লোপেতেগির কাঁধে রয়েছে মরুভূমির দেশ কাতারের দায়িত্ব। ২০২২ সালে আয়োজক হিসেবে খেললেও, এবারই প্রথম ফুটবলীয় লড়াইয়ে যোগ্যতা অর্জন করে বিশ্বকাপে এসেছে কাতার।

Qatar Coach 01
আর নিজেদের প্রথম ম্যাচেই, বাংলাদেশ সময় শনিবার দিবাগত রাত ১টায় তারা মুখোমুখি হচ্ছে ইউরো চাণক্য দল সুইজারল্যান্ডের। এই গ্রুপের দুই প্রতিপক্ষ কানাডা এবং বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।

ই-গ্রুপে নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে অকপটে স্বীকার করে নিয়ে লোপেতেগি বলেন, খুব ভালো করেই জানি আমাদের শক্তি ও অবস্থান কোথায়। আমার মনে হয় বাস্তবতাকে মেনে নেয়াই যে কোনো লড়াইয়ের প্রথম ধাপ। ড্রয়ের পর যে দেশই তাদের গ্রুপে কাতারের নাম দেখেছে, নিশ্চিতভাবেই তারা খুশি হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে, আমরা শুরুতেই মাথা নিচু করে ফেলব; বরং আমরা বুক চিতিয়ে লড়াই করব।

অনেকে এই গ্রুপটিকে সহজ বললেও প্রতিপক্ষের শক্তিমত্তা মনে করিয়ে দিয়ে লোপেতেগি আরও যোগ করেন, সুইজারল্যান্ড গত আট বছর ধরে ইউরোপের অন্যতম সেরা দল। কানাডা এই মুহূর্তে উত্তর আমেরিকার সেরা, যারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোকে অনায়াসে হারিয়েছে। আর বসনিয়া তো ইতালি ও ওয়েলসের মতো দলকে বিদায় করে এখানে এসেছে। ফলে আমাদের প্রতিপক্ষরা সবাই হট-ফেভারিট।

Qatar Team 02
টানা ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলছে সুইসরা। গত পাঁচ বিশ্বকাপের চারটিতেই শেষ ষোলোতে ওঠা দলটির শক্তির মূল উৎস তাদের অভিজ্ঞতা। অধিনায়ক গ্রানিত জ্যাকার নেতৃত্বে এই দলে আছেন গ্রেগর কোবেল, ম্যানুয়েল আকাঞ্জি, রিকার্ডো রদ্রিগেজ এবং রেমো ফ্রেউলারের মতো বিশ্বমানের সব তারকা।

সুইস কোচ হাকান ইয়াকিন বলেন, কোচ হিসেবে জ্যাকা বা আকাঞ্জির মতো মানসিকতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন খেলোয়াড়দের দলে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। মাঠে ও ড্রেসিংরুমে তরুণদের জন্য তারা দারুণ উদাহরণ। সুইস শিবিরে এবার সবার নজর থাকবে ২০ বছর বয়সী প্রতিভাবান মিডফিল্ডার জোহান মাঞ্জাম্বি এবং লিডস ইউনাইটেডের হয়ে প্রিমিয়ার লিগে দুর্দান্ত মরশুম কাটানো উইঙ্গার নোয়াহ ওকাফোরের দিকে।

Qatar Team 01
কাতার প্রথম ম্যাচে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামছে, যেখানে তাদের আক্রমণের মূল বাজি এশিয়ান কাপ কাঁপানো তারকা আকরাম আফিফ। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড দলে স্ট্রাইকার পজিশনে ব্রিল এমবোলো নাকি জেকি আমদুনি খেলবেন, তা নিয়ে মধুর সমস্যায় আছেন কোচ ইয়াকিন। সেভিয়ার রুবেন ভার্গাস খেললে ওকাফোরকে হয়তো আজ শুরুর দিকে বেঞ্চেই বসতে হতে পারে।

বাছাইপর্বে অন্তত ১০টি ম্যাচ খেলা এশিয়ান দলগুলোর মধ্যে কাতারের ম্যাচগুলোতে প্রতি ম্যাচে সবচেয়ে বেশি গোল (৩.৬১টি) দেখার রেকর্ড রয়েছে। তবে এশিয়া থেকে বিশ্বকাপে আসা দলগুলোর মধ্যে কাতারই সবচেয়ে বেশি (৫টি) ম্যাচ হেরে মূল পর্বে এসেছে।

Switzerland Practice 01
অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্সই ইউরোপের একমাত্র দুটি দল, যারা গত ৬টি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের (বিশ্বকাপ ও ইউরো) প্রতিটিতেই নকআউট পর্বে উঠেছে। সুইস তারকা ব্রিল এমবোলো বাছাইপর্বে ৪ গোল করে দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। তিনি কেইন, হাভার্টজদের মতো বিশ্বের মাত্র পাঁচজন খেলোয়াড়ের একজন, যিনি ২০২২ বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ ইউরো, উভয় আসরেই একাধিক গোল করার কীর্তি গড়েছেন।

কাতারের সম্ভাব্য একাদশ: আবুনাদা; আল-উই, খুখি, পেড্রো মিগুয়েল, আহমেদ; লায়ে, ফাথি, গাবের; আবদুরিসাগ, আফিফ, এদমিলসন।

সুইজারল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ: কোবেল; জাকারিয়া, আকাঞ্জি, এলভেদি, রদ্রিগেজ; জ্যাকা, ফ্রেউলার; ভার্গাস, মাঞ্জাম্বি, এনদয়ে; এমবোলো।