বিশ্বকাপে ‘গ্রুপ এফ’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে সোমবার সকালে মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরিতে মুখোমুখি হচ্ছে তিউনিসিয়া ও সুইডেন। আর মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই সুইডিশ শিবিরকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তিউনিসিয়ার ফরাসি কোচ সাব্রি লামৌচি।
আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বে টানা ৯ জয় আর ১ ড্রয়ের পাশাপাশি একটি গোলও হজম না করে রক্ষণের দেয়াল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিল তিউনিসিয়া। তবে, সোমবারের ম্যাচে তারা রক্ষণাত্মক ফুটবল খেলে ড্রয়ের জন্য নয়, বরং গোল উৎসবে মেতে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে মাঠে নামবে বলে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন কোচ।
পরবর্তী ম্যাচগুলো জাপান ও নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলগুলোর বিরুদ্ধে হওয়ায়, সুইডেনের বিপক্ষে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করাটাকেই পাখির চোখ করেছে তিউনিসিয়া। শনিবারের এক সংবাদ সম্মেলনে কোচ লামৌচি চটকদার ভঙ্গিতে বলেন, কে জয় দিয়ে শুরু করতে চাইবে না বলুন?
তিনি যোগ করেন, আমার মনে হয় সুইডেনের কোচ এবং খেলোয়াড়রাও জয়ের জন্য মরিয়া। আমাদের তিউনিসিয়ান ভক্তরা এখানে খেলা দেখতে এসেছেন এবং তাঁরা চান তাঁদের জাতীয় দল যেন দুর্দান্ত পারফর্ম করে। আমরা এক অত্যন্ত কঠিন ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিয়ে টুর্নামেন্টে শুভ সূচনা করতে নিজেদের সবটুকু ঢেলে দেব।
সুইডেনের আক্রমণভাগের দুই প্রধান অস্ত্র ভিক্টর গিয়োকেরেস এবং আলেকজান্ডার ইসাককে নিয়ে ফুটবল পাড়ায় এখন তুমুল আলোচনা। তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডারদের এই দুই তারকাকে নিয়ে আলাদা করে চেনাানোর কিছু নেই বলে মনে করেন লামৌচি।
তিনি বলেন, আমার দলের কাছে এই দুই অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়ের মান এবং দক্ষতা খুব ভালো করেই জানা। এছাড়া সেট-পিসেও সুইডেন বেশ বিপজ্জনক। তাদের মাঝমাঠে অ্যান্থনি ইলাঙ্গা, বেঞ্জামিন নাইগ্রেন কিংবা ইয়াসিন আয়ারির মতো দুর্দান্ত সব খেলোয়াড় আছে। তবে গিয়োকেরেস আর ইসাক ইউরোপের টপ লিগে খেলছে, তাই ওদের ওপর আমাদের বাড়তি নজর থাকবেই।"
বিশ্বকাপের ঠিক আগের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বেলজিয়ামের কাছে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত হয়ে তিউনিসিয়ার সেই নিরেট রক্ষণের অহংকার কিছুটা ধুলোয় মিশে গিয়েছিল। তবে সেই অতীত ভুলে ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে চান তিউনিসিয়ার ডিফেন্ডার আলী আব্দি।
তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের ইতিবাচক দিকগুলোতে ফোকাস করতে হবে। আমরা যে আফ্রিকার সেরা রক্ষণাত্মক কাঠামো নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছি, তা মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করব। বেলজিয়াম ম্যাচের নেতিবাচক অভিজ্ঞতা নিয়ে আমরা পড়ে থাকতে চাই না।
ফিফা র্যাংকিংয়ে এই গ্রুপে তিউনিসিয়া সবার নিচে থাকলেও, সেটি নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না কোচ লামৌচি। ইতিহাসের চাকা ঘুরিয়ে এবারই প্রথম বিশ্বকাপের নকআউট বা রাউন্ড অব সিক্সটিনে কোয়ালিফাই করতে চান তাঁরা।
কোচের ভাষায়, আমাদের লক্ষ্য একদম পরিষ্কার, গ্রুপ পর্ব পার করা। তিউনিসিয়া এর আগে কখনো এটি করতে পারেনি। আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি এটা সম্ভব, আর এই বিশ্বাসটাই আমি আমার খেলোয়াড়দের মনে ঢুকিয়ে দিয়েছি। আশা করি, দেশের সমস্ত নারী-পুরুষ নির্বিশেষে আমাদের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে পাশে থাকবেন। মেক্সিকোর মাটিতে তিউনিসিয়ার এই আক্রমণাত্মক রূপ সুইডিশদের নীল-হলুদ শিবিরকে তছনছ করতে পারে কিনা, সেটাই এখন দেখার বিষয়।