হাইতিকে হারিয়ে তিন যুগের অভিশাপ কাটালো স্কটল্যান্ড

দীর্ঘ ৩৬ বছরের এক বুকভাঙা অপেক্ষা আর অভিশপ্ত খরা পেরিয়ে অবশেষে বিশ্বমঞ্চে জয়ের মুখ দেখল স্কটল্যান্ড। বোস্টনে সি-গ্রুপের শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে লড়াকু হেইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে রাজকীয় সূচনা করেছে ‘টার্টান আর্মি’রা। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে সুইডেনের বিপক্ষে জয়ের পর বিশ্বকাপে এটিই স্কটল্যান্ডের প্রথম জয়। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে ফেরা স্কটিশদের জন্য রাতটি ছিল প্রচণ্ড আবেগ আর স্নায়ুযুদ্ধের।

তবে স্কটল্যান্ডের এই ঐতিহাসিক জয়ের রাতে বড় ধাক্কা খেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কয়েক ঘণ্টা আগে অনুষ্ঠিত গ্রুপের অন্য ম্যাচে মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছে সেলেসাওরা। ফলে প্রথম ম্যাচ শেষেই ব্রাজিল-মরক্কোকে টপকে ‘গ্রুপ সি’-এর পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে স্কটল্যান্ড।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের ফুটবলপ্রেমীরা যখন মাঝরাতে নিজেদের ঘুম বিসর্জন দিয়ে টিভির পর্দায় চোখ রেখেছিলেন, তখন মাঠের লড়াইয়ে দর্শকদের হৃদকম্পন বাড়িয়ে দিয়েছিল পুঁচকে হাইতি। ম্যাচের শুরু থেকে র‍্যাঙ্কিংয়ের তলানিতে থাকা হেইতি একের পর এক আক্রমণ করে স্কটল্যান্ডের ডিফেন্স কাঁপিয়ে দিচ্ছিল।

তবে ম্যাচের ২৮ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। অ্যাস্টন ভিলা মিডফিল্ডার জন ম্যাকগিনের এক দুর্দান্ত শট হেইতির ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালের ঠিকানা খুঁজে নেয় (১-০)। অবশ্য এই গোলের পেছনে বড় অবদান ছিল হেইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিডের।  

ছবি: সংগৃহীত
তিনি চে অ্যাডামসের একটি বুলেট গতির শট ফিরিয়ে দিলেও ফিরতি বলে পাঞ্চ করে গোলটি আদায় করে নেন ম্যাকগিন। এর ঠিক আগেই স্কটল্যান্ডের তারকা মিডফিল্ডার স্কট ম্যাকটমিনে একটি জোরালো শট নিলেও তা গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, বিশেষ করে খেলা শেষ হওয়ার ঠিক ৫ মিনিট আগে হেইতির ফরোয়ার্ড ফ্রান্টজডি পিয়েরো এক জোরালো হেডে গোল প্রায় করেই ফেলেছিলেন, কিন্তু বলটি পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে গেলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যায় স্কটল্যান্ড। বাকি সময় লিড ধরে রেখে এক ঐতিহাসিক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্টিভ ক্লার্কের দল।

ছবি: সংগৃহীত
ম্যাচের গোলের চেয়েও বড় আকর্ষণ ছিলেন স্কটল্যান্ডের তরুণ উইঙ্গার বেন গ্যা নন-ডোক। মাত্র ২০ বছর ২১৪ দিন বয়সে মাঠে নেমে স্কটল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাসে বিশ্বকাপে খেলা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের রেকর্ড গড়লেন তিনি। গত আগস্টে লিভারপুল থেকে কেন বোর্নমাউথ ২০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করে এই তরুণকে দলে এনেছিল, আজ মাঠের ডান প্রান্তে গতির ঝড় তুলে তিনি তার জাত চেনালেন।

গ্র্যান্ট হ্যানলির বাড়ানো নিখুঁত পাস নিজেদের হাফ থেকে দারুণ টাচে নিয়ন্ত্রণে নেন চে অ্যাডামস, আর সেখান থেকেই গ্যা নন-ডোকের সেই বিষাক্ত ক্রসটিই মূলত লিড এনে দেয় স্কটল্যান্ডকে।

ছবি: সংগৃহীত
ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের প্রাক্তন গোলরক্ষক জো হার্ট বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, ও একদম তরুণ, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার মাত্র শুরু করেছে। কিন্তু ওর আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী। সেল্টিকের যুব দলে থাকার সময় থেকেই আমি ওকে চিনি, ও কোন লেভেলে খেলছে তা নিয়ে বিন্দুমাত্র পরোয়া করে না। ও শুধু নিজের খেলাটা উপভোগ করতে চায়।

স্কটল্যান্ডের প্রাক্তন মিডফিল্ডার স্কট ব্রাউনও এই তরুণের ইতিবাচক ফুটবল ও ডিফেন্স চেরা রানের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ও হেইতির ডিফেন্ডারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে। স্কটিশ ফুটবলারদের কাছ থেকে আমরা এমন আগ্রাসী ফুটবলই দেখতে চাই। হেইতিকে হারিয়ে শীর্ষস্থান দখল করা স্কটল্যান্ড এখন ফুরফুরে মেজাজে পরবর্তী ম্যাচে মরক্কো ও ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার স্বপ্ন দেখছে!