কাতার বিশ্বকাপের সেই গ্রুপ পর্বের জঘন্য ও লজ্জাজনক বিদায়ের ক্ষত এখনো দগদগে। সোনালী প্রজন্মের শেষ সলতেটুকু নিয়ে রাতে সিয়াটলের মাঠে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক ফুটবলের ‘চোকার্স’ হিসাবে খ্যাত বেলজিয়াম।
কাগজে-কলমে গত এক দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ও প্রতিভাবান স্কোয়াড নিয়েও প্রতিবার বিশ্বমঞ্চে খৈ হারিয়ে ফেলা ‘রেড ডেভিলস’দের সামনে রাতে প্রথম ম্যাচেই বড় পরীক্ষা। কারণ তাদের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার ‘ফারাও’ তথা মরুঝড় তোলার অপেক্ষায় থাকা মিশর। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে বেলজিয়ামের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে মোহাম্মদ সালাহর দল।
কোচ রুডি গার্সিয়ার অধীনে অবশ্য দারুণ এক বাছাইপর্ব পার করে সতর্ক আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমেরিকায় পা রেখেছে বেলজিয়াম। ৮ ম্যাচে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে ২৯টি গোল করার পাশাপাশি তারা হজম করেছিল মাত্র ৭টি গোল।
তবে বেলজিয়ামের জন্য সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো মিশরের বিরুদ্ধে তাদের অতীত ইতিহাস। দুই দলের মুখোমুখি ৪টি লড়াইয়ের ৩টিতেই জিতেছে মিশর! এমনকি সর্বশেষ ২০২২ সালের নভেম্বরের প্রীতি ম্যাচেও বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে মাঠ ছেড়েছিল মিশরীয়রা।
মিশর শিবিরের সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর, হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামছেন তাদের প্রাণভ্রমরা মোহাম্মদ সালাহ। ঘরোয়া মৌসুমের শেষের দিকে লিভারপুলের হয়ে খেলার সময় চোটে পড়া সালাহ হয়তো শতভাগ ফিট নন, কিন্তু মাঠে তার উপস্থিতিই বেলজিয়ামের বুক কাঁপানোর জন্য যথেষ্ট।
সালাহকে সহায়তার জন্য আক্রমণভাগে থাকছেন ওমর মারমুশ, ত্রেজেগে এবং জিজো। দলের অধিনায়কত্ব করবেন অভিজ্ঞ গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি। আফ্রিকার এই দলটি এবার তাদের ইতিহাসের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছে। ২০১৮ সালের সব ম্যাচ হারা মিশর এবার অপরাজেয় থেকে কনকাকাফ অঞ্চলের টিকিট কেটেছে (২৬ পয়েন্ট)।
অন্যদিকে, বেলজিয়াম তাদের পূর্ণ শক্তির একাদশ নিয়েই মাঠে নামছে। রিয়ালের প্রাচীর কোর্তোয়া থাকছেন পোস্টের নিচে। মাঝমাঠের দখল থাকবে অ্যাস্টন ভিলার জুটি ইউরি টিলেমান্স ও আমাদু ওনানার হাতে। আর আক্রমণভাগকে বল জোগানোর মূল দায়িত্বে থাকছেন ফুটবল জাদুকর কেভিন ডি ব্রুইনে। দুই প্রান্তে গতিঝড় তুলতে প্রস্তুত ম্যান সিটির জেরেমি ডোকু এবং আর্সেনালের লিয়েন্দ্রো ট্রোসার্ড, যাঁদের নিখুঁত পাস থেকে গোল করার জন্য ওত পেতে থাকবেন বেলজিয়ামের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা রোমেলু লুকাকু।
ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, কাগজে-কলমে বেলজিয়ামের স্কোয়াড শক্তিশালী হলেও বড় টুর্নামেন্টে নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার না করার এক অদ্ভুত রোগ আছে তাদের। অন্যদিকে, মিশর অত্যন্ত গোছানো এবং রক্ষণভাগে জমাট। সালাহর কাউন্টার অ্যাটাক যে কোনো মুহূর্তে বেলজিয়ামের ডিফেন্স ভেঙে চূর্ণ করে দিতে পারে। সিয়াটলের মাঠে কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না, ফলে গ্রুপ পর্বের এই ব্লকবাস্টার ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্রয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হতে পারে বলেই আভাস মিলছে ফুটবল পণ্ডিতদের কাছ থেকে।
বেলজিয়ামের সম্ভাব্য একাদশ: কোর্তোয়া, মুনিয়ের, এনগয়, থিয়েট, কুইপার, ওনানা, টেলেমান্স, ট্রোসার্ড, ডি ব্রুইন, ডোকু, লুকাকু।
মিশরের সম্ভাব্য একাদশ: এল শেনাওয়ি, হানির, রাবিয়া, ইব্রাহিম, ফাতুহ, লাশিন, ফাতি, সালাহ, ত্রেজেগে, জিজো, মারমুশ।