উত্তর আমেরিকার ফিফা বিশ্বকাপে বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ক্যালিফোর্নিয়ার ইংলেউডের চোখ ধাঁধানো সোফাই স্টেডিয়ামে শুরু হচ্ছে জি-গ্রুপের এক রোমাঞ্চকর মাঠের লড়াই। মুখোমুখি হচ্ছে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ২০ নম্বরে থাকা এশিয়ান পরাশক্তি ইরান এবং ৮৫ নম্বরে থাকা ওশেনিয়া প্রতিনিধি নিউজিল্যান্ড।
মাঠের বাইরে দুই দেশের তুমুল রাজনৈতিক উত্তাপ আর শান্তিচুক্তির খবরের মাঝেই এবার আসল যুদ্ধটা শুরু হচ্ছে সবুজ গালিচায়। ৭০ হাজার ধারণক্ষমতার এ মেগা স্টেডিয়ামে দুই দলই চাইবে জয় দিয়ে আসরে স্বস্তির শুভসূচনা করতে, কারণ এই গ্রুপে নকআউটের টিকিট পেতে হলে প্রথম ম্যাচের ৩ পয়েন্টের বিকল্প নেই।

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই দুই দলের সাম্প্রতিক ফর্মের এক আকাশ-পাতাল বৈপরীত্য স্পষ্ট। ইরান এই ম্যাচে মাঠে নামছে টানা ৩টি ম্যাচে জয়ের এক দুর্দান্ত জয়যাত্রা সঙ্গী করে। রক্ষণভাগকে ইস্পাতকঠিন বানিয়ে ম্যাচ কীভাবে পকেটে পুরতে হয়, তা খুব ভালো করেই জানা আছে ‘টিম মেল্লি’র।
ঠিক উল্টো দশা নিউজিল্যান্ডের; নিজেদের শেষ ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের একটিতেও ক্লিন শিট (গোল না খাওয়া) রাখতে পারেনি তারা! এর ওপর তাদের রয়েছে এক জঘন্য রোগ, শেষ ৬ ম্যাচের ৫টিতেই প্রথম গোল হজম করেছে কিউইরা। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে শুরুতেই গোল খেয়ে ব্যাকফুটে চলে যাওয়ার এই বাজে অভ্যাস আজ ক্রিস উডদের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এর আগে কখনোই আন্তর্জাতিক বা বিশ্বকাপের মঞ্চে একে অপরের মুখোমুখি হয়নি ইরান ও নিউজিল্যান্ড। ফলে কোনো অতীত বৈরিতার ইতিহাস ছাড়াই একদম নতুন ছকে লড়তে হবে দুই দেশের কোচকে। লিনআপ এখনও শতভাগ নিশ্চিত না হলেও, বর্তমান ডাটা অনুযায়ী ইরান মাঠে নামতে পারে রক্ষণাত্মক ৫-৩-২ ফর্মেশনে।
গোলপোস্টের নিচে আলিরেজা বেইরানভান্দকে সুরক্ষা দিতে ডিফেন্সে থাকছেন সালেহ হারদানি, হোসেন কানানি, শোজা খলিলজাদেহ এবং মিলাদ মোহাম্মদী। মাঝমাঠের দখল রাখতে সাইদ এজাতোলাহির সাথে থাকছেন রামিন রেজাইয়ান ও সামান গদ্দোস। আর নিউজিল্যান্ডের নড়বড়ে ডিফেন্স গুঁড়িয়ে দিতে আক্রমণে তোপ দাগবেন মোহাম্মদ মোহেবি, শাহরিয়ার মোগানলো এবং গতিময় মেহেদি ঘায়েদি।

অন্যদিকে, নিউজিল্যান্ডের ডাচ-শৈলীর ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে গোলপোস্টে থাকছেন ম্যাক্স ক্রোকম্বে। টিম পেইন, ফিন সুরম্যান ও মাইকেল বক্সালের রক্ষণভাগের সামনে ডাবল পিভট হিসেবে মাঝমাঠ সামলাবেন জো বেল ও মার্কো স্টামেনিক। আর দলের আক্রমণের মূল ভরসা এবং ৪.৭ মিলিয়ন ইউরো বাজারমূল্যের তারকা মেহেদি ঘায়েদির বিরুদ্ধে কিউইদের ট্রাম্পকার্ড হলেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার ক্রিস উড। তার শরীরী ফুটবল ও এরিয়াল ক্ষমতার ওপর ভর করেই গোল আদায়ের ছক কষছে নিউজিল্যান্ড।
বাজির বাজারে ইরানকে স্পষ্ট ফেভারিট ধরা হচ্ছে। তবে ম্যাচটি যে খুব একটা মারকুটে বা নোংরা হবে না, তার আভাস দিচ্ছে দুই দলের ডিসিপ্লিনারি রেকর্ড। ইরানের শেষ ৮ ম্যাচের ৭টিতেই ৪.৫-এর কম কার্ড ছিল, আর নিউজিল্যান্ড শেষ ১০ ম্যাচে রয়েছে একই ট্র্যাকে।

যদিও রেফারি হিসেবে মাঠে বাঁশি হাতে থাকছেন মেক্সিকোর অভিজ্ঞ সিজার রামোস পালাজুয়েলোস, যিনি তাঁর ক্যারিয়ারের ৩৫৮ ম্যাচে ১,৫৬৮টি হলুদ কার্ড এবং ৯২টি সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়েছেন, অর্থাৎ ম্যাচ প্রতি গড়ে ৪টির বেশি কার্ড পকেট থেকে বের করার এক কড়া রেকর্ড রয়েছে তাঁর।
ফলে ম্যাচের টেম্পো বাড়লে কার্ডের বন্যা বয়ে যেতেই পারে। ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, নিউজিল্যান্ড উডকে ব্যবহার করে কাউন্টার অ্যাটাকে সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করলেও, ইরানের সাম্প্রতিক ফর্ম ও মাঝমাঠের ভারসাম্য এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেবে। প্রথম ১০ মিনিটে নিউজিল্যান্ড যদি গোল হজম না করে নিজেদের সামলে নিতে পারে, তবে ম্যাচ জমবে; অন্যথায় ইরানের তিন ম্যাচের জয়ের ক্ষুধা সোফাই স্টেডিয়ামে কিউইদের পিষে ফেলবে বলেই অনুমান!
