উত্তর আমেরিকার বিশ্বমঞ্চে মঙ্গলবার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে এক চরম রোমাঞ্চকর ও স্মৃতি জাগানিয়া রাত। ফুটবরের মহাযজ্ঞে মাঠে নামছে বিশ্বফুটবলের দুই পরম পরাশক্তি, লিওনেল মেসির ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং কিলিয়ান এমবাপের ফ্রান্স।
মিসৌরির কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়ে নিজেদের মিশন শুরু করবে আর্জেন্টিনা। তবে দিনের সবচেয়ে হাইভোল্টেজ এবং রসালো ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে। যেখানে ২০১৮ সালের বিশ্বজয়ী ফ্রান্সের মুখোমুখি হচ্ছে আফ্রিকার গর্জনশীল সিংহ ‘সেনেগাল’। ২৪ বছর আগের এক রূপকথার প্রতিশোধ নেয়ার মঞ্চে রাত ১টায় মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই দল।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের কথা মনে করলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। সেবার ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে স্তব্ধ করে দিয়েছিল বিশ্বকাপ ডেবিউট্যান্ট সেনেগাল। পাপা বুবা দিওপের সেই আইকনিক গোল পুরো ডাকার শহরকে উৎসবে ভাসিয়েছিল, তৎকালীন সেনেগালিজ প্রেসিডেন্ট দেশে সরকারি ছুটি পর্যন্ত ঘোষণা করেছিলেন! সেবার সেনেগাল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠলেও ফ্রান্স এক ম্যাচও না জিতে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল।
২৪ বছর পর নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আবারও সেই একই সমীকরণ। ফরাসিদের বিদায়ী গুরু দিদিয়ের দেশমের সামনে এটিই শেষ সুযোগ নিজের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার। কাগজে-কলমে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বরে থাকা ফ্রান্স এই ম্যাচে স্পষ্ট ফেভারিট। অপ্টা সুপারকম্পিউটার ফরাসিদের জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ৬৪.৮ শতাংশ, যেখানে ১৬ নম্বর র্যাঙ্কিংয়ের সেনেগালের জয়ের সুযোগ মাত্র ১৪.৯ শতাংশ এবং ড্রয়ের সম্ভাবনা ২০.৩ শতাংশ। তবে আফ্রিকার চ্যাম্পিয়নদের হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই, কারণ বাছাইপর্বে তারা একটি ম্যাচও হারেনি।
ফরাসি শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো, পিঠের চোট কাটিয়ে পুরোদমে অনুশীলনে ফিরেছেন আর্সেনাল ডিফেন্ডার উইলিয়াম সালিবা। মাংসপেশির চোট কাটিয়ে ফিট জুলস কুন্দেও। অন্যদিকে গোলরক্ষক মাইক মাইনোকে গত অনুশীলনে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল শুধু কাজের চাপ কমানোর জন্য, আজ তিনি পোস্টের নিচেই থাকছেন। আক্রমণের নেতৃত্বে থাকবেন রিয়াল মাদ্রিদের নতুন গ্যালাক্টিকো কিলিয়ান এমবাপে। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি অলিভিয়ের জিরুর করা ফ্রান্সের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন। বিগত দুটি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ১২টি গোল ও ১৪টি গোল কন্ট্রিবিউশন করা এমবাপে রাতে একাই সেনেগালের রক্ষণ চূর্ণ করতে প্রস্তুত।
অন্যদিকে সেনেগাল শিবিরে প্রধান অস্ত্র হয়ে ফিরছেন সাদিও মানে, যিনি চোটের কারণে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ মিস করেছিলেন। আজ অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন তিনি। আসানে দিয়াও, শেরিফ এনদিয়ায়ে এবং ইদ্রিসা গেয়ির সামান্য চোটের সমস্যা থাকলেও আজকের ম্যাচে তাঁদের খেলা নিশ্চিত। চেলসি স্ট্রাইকার নিকোলাস জ্যাকসনও থাকছেন ফরাসি ডিফেন্সের পরীক্ষা নিতে।
১৯৯৮ সালের পর খেলা ৭টি বিশ্বকাপের ৪টিতেই ফাইনালে উঠেছে ফ্রান্স। এবার তাদের লক্ষ্য টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে ব্রাজিল ও জার্মানির রেকর্ডে ভাগ বসানো। মজার ব্যাপার হলো, বিশ্বকাপে খেলা ১২টি ম্যাচের মধ্যে সেনেগাল মাত্র একটিতেই ক্লিন শিট বা গোল না খেয়ে ম্যাচ শেষ করতে পেরেছিল, আর সেটি ছিল ২০০২ সালের ফ্রান্সের বিপক্ষেই!
ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, উসমান ডেম্বেলে, মাইকেল অলিস এবং দেজিরে দুয়েদের মতো ক্ষুরধার আক্রমণভাগকে সাথে নিয়ে এমবাপে আজ সেনেগালের রক্ষণকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবেন। সেনেগালের আক্রমণভাগ গোল করার সামর্থ্য রাখলেও, ৯০ মিনিটের যুদ্ধ শেষে ফ্রান্স ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে বলেই ফুটবল বোদ্ধাদের প্রেডিকশন!