কাতার বিশ্বকাপের সেই অবিস্মরণীয় মহাকাব্যের পর ভোর সাতটায় আবারও বিশ্বমঞ্চে নামছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে জে-গ্রুপের উদ্বোধনী ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হয়ে নিজেদের খেতাব ধরে রাখার মিশন শুরু করছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা।
ফুটবল ইতিহাসের মাত্র তৃতীয় দল হিসেবে ইতালি (১৯৩৪-১৯৩৮) এবং ব্রাজিলের (১৯৫৮-১৯৬২) পর টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরে অনন্য কীর্তি গড়ার লক্ষ্য এখন আলবিসেলেস্তোদের। তবে মাঠের লড়াইয়ে নামার ঠিক আগে প্রতিপক্ষকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের খেলোয়াড়দের মাটিতে পা রাখার পরামর্শ দিয়েছেন মাস্টারমাইন্ড কোচ লিওনেল স্কালোনি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তকমা আমাদের মাঠে কোনো বাড়তি সুবিধা বা জেতার নিশ্চয়তা দেবে না।

ভোরের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। তবে এই দুই দলের অতীত ইতিহাস ঘাটলে ভেসে ওঠে আজ থেকে ১৯ বছর আগের এক ঝাঁঝালো প্রীতি ম্যাচের স্মৃতি। ২০০৭ সালের জুনে বার্সেলোনার ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দল। সেই ম্যাচে ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছিল আর্জেন্টিনা, আর ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ‘ব্রেস’ বা জোড়া গোল করেছিলেন সেই আলজেরিয়ার বিপক্ষেই!
দুই দশক পর আবারও সেই প্রতিপক্ষ সামনে। ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি বেশ আত্মবিশ্বাসী হলেও প্রতিপক্ষকে সমীহ করে বলেন, আমাদের আগের মতোই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে এবং আমরা যা অর্জন করেছি তা আবারও মাঠে প্রমাণ করতে হবে। আমরা একই মানসিকতা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই এবং যখন প্রয়োজন, তখনই নিজেদের সেরাটা ঢেলে দিতে চাই। আমাদের প্রস্তুতি দারুণ, দল মানসিকভাবে শান্ত। আমরা খুব ভালো ফর্মে এখানে এসেছি। ২০২২ সালের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার (সৌদি আরবের কাছে হার) শিক্ষা আমাদের আছে; আমরা জানি প্রথম ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটিই শেষ কথা নয়।

ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীদের চোখ থাকবে একজন মানুষের ওপরই, তিনি আলবিসেলেস্তোদের মহাতারকা লিওনেল মেসি। ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২৬টি ম্যাচ খেলার একক রেকর্ড নিজের দখলে রাখা এই জাদুকরের ঝুলিতে রয়েছে ১৩টি গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট।
আজ আলজেরিয়ার বিপক্ষে মেসি কেবল মাঠে পা রাখলেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ ‘৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপে’ খেলার এক অনন্য ও অবিস্মরণীয় বিশ্বরেকর্ড গড়বেন (যদিও পরবর্তীতে পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সামনেও এই সুযোগ আসবে)।
অধিনায়ককে নিয়ে কোচ স্কালোনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, লিওনেল মেসি সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন এবং দলের জন্য তিনি অপরিহার্য। এবার টুর্নামেন্টে তিনি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন এবং তাঁকে এখন দুর্দান্ত ছন্দে দেখাচ্ছে।

ইতিহাসের পাতা থেকে কিছু মুখরোচক তথ্য: পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বে শুধু ব্রাজিল (৫ বার), জার্মানি এবং ইতালি (৪ বার করে) আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি বিশ্বকাপ জিতেছে। তবে ১৯৭৮ সালে আর্জেন্টিনার প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশ্বফুটবলের আর কোনো দেশ লাতিন আমেরিকার এই পরাশক্তির মতো এত বেশিবার (৩ বার) সোনালী ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি।
পণ্ডিতদের মতে, আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ ভাঙতে আজ মেসি, লাউতারোদের চেনা ছন্দই যথেষ্ট। স্কালোনির চাণক্য নীতি আর মেসির রেকর্ড গড়ার এই ঐতিহাসিক রাতে আর্জেন্টিনা এক দুর্দান্ত জয় দিয়েই তাদের হেক্সা মিশন শুরু করবে, এমনটাই আশা করছেন ফুটবলপ্রেমীরা!
