তবুও হাইতিকে নিয়ে ‘আতঙ্কিত’ ব্রাজিল!

মরক্কোর সাথে ১-১ গোলে ড্র করে হেক্সা মিশনের শুরুতেই জোর ধাক্কা খাওয়া ব্রাজিলের সামনে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টায় ঘুরে দাঁড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ। ফিলাডেলফিয়ার মাঠে গ্রুপ ‘সি’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ পুচকে দেশ হাইতি।

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর আগ্রাসী ফুটবলের সামনে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের জাদুকরী গোলে কোনোমতে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে হেরে কার্যত নকআউটের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র হাইতি। তবে কাগুজে কলমে ব্রাজিল ফেবারিট হলেও, এই ম্যাচ নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে বইছে চাপা অস্বস্তির হাওয়া।

Brazil Team 03
দলের অন্যতম অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার দানিলোর কথায় সেই ভয়ের ছাপ স্পষ্ট। মরক্কো ম্যাচের ধাক্কা সামলাতে না পেরে দানিলো বলেন, এটা বেশ ভীতি জাগানিয়া ছিল, কারণ সবার প্রত্যাশা ছিল আমরা একটা বিশাল জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করব। কিন্তু যখন কৌশল কাজ করে না, তখন তা হজম করা কঠিন। আমাদের ট্যাকটিক্যাল এবং মেন্টাল, দুই জায়গাতেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে।

স্পেনকে কেপ ভার্দে যেভাবে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়েছে, তার উদাহরণ টেনে দানিলো হাইতিকে উড়িয়ে দেয়ার আকাশকুসুম কল্পনা নিয়ে বলেন, সবাই দেখেছে কেপ ভার্দে স্পেনের বিরুদ্ধে কেমন রক্ষণাত্মক দেয়াল তুলেছিল। এই মুহূর্তে হাইতিকে গোলের বন্যায় ভাসিয়ে দেব ভাবাটা পাগলামি।

Haiti Team 01
হাইতি ম্যাচেও ব্রাজিলের ডাগআউটে দেখা যাবে না চোটাক্রান্ত নেইমার জুনিয়রকে। এছাড়া মরক্কো ম্যাচে রাইট-ব্যাকে চরম ফ্লপ রজার ইবানেজকে একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলতে পারেন আনচেলত্তি।

তবে ব্রাজিলকে স্বস্তি দিচ্ছে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ফর্ম, যিনি বিশ্বকাপে খেলা নিজের শেষ ৫ ম্যাচে ৪টি গোলে সরাসরি অবদান (২ গোল, ২ অ্যাসিস্ট) রেখেছেন। অন্যদিকে হাইতি প্রথম ম্যাচে হারলেও প্রতিপক্ষের বক্সে বল ছোঁয়ার দিক থেকে (২২ বার) ব্রাজিলের সমান রেকর্ড গড়েছিল, যা সেলেসাও ডিফেন্সকে সকালে সতর্ক থাকার বার্তা দিচ্ছে।

Brazil Team 01
ইতিহাসের বৃহত্তম ব্যবধান:
ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে থাকা ব্রাজিল এবং ৮৪ নম্বর দল হাইতির মধ্যকার এই লড়াইটি চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের সবচেয়ে বড় র‍্যাঙ্কিং ব্যবধানের (৭৮ ধাপ) ম্যাচ।

অরলান্ডোর সেই স্মৃতি: বিশ্বকাপে দুই দল এই প্রথম মুখোমুখি হলেও, অতীতে তিনবারের দেখায় প্রতিবারই জিতেছে ব্রাজিল (১৭ গোল দিয়ে খেয়েছে মাত্র ১টি)। যার সবশেষ স্মৃতি ২০১৬ কোপা আমেরিকায় ওর্ল্যান্ডোর মাঠে হাইতিকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করা।

১৯৭৮ সালের ভূত: যদি ব্রাজিল হাইতিকে হারাতে না পারে, তবে ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচেই জয়হীন থাকার লজ্জাজনক রেকর্ডে নাম লেখাবে তারা।

Coach Carlo Ancelotti 01
হাইতির পাঁচের গেরো:
বিশ্বকাপে নিজেদের খেলা ৪টি ম্যাচের প্রতিটিতেই হেরেছে হাইতি (২ গোল দিয়ে খেয়েছে ১৫টি)। সকালে হারলে মেক্সিকো, এল সালভাদর ও কানাডার পর ইতিহাসের চতুর্থ দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের প্রথম ৫ ম্যাচেই হারার রেকর্ড গড়বে তারা।

৫২ বছরের অপেক্ষা: ১৯৭৪ সালের পর ২০২৬- দীর্ঘ ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা হাইতির এই অপেক্ষার দৈর্ঘ্য টুর্নামেন্টের ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ।

হাইতির ফরাসি কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে (যিনি হাইতির ইতিহাসের প্রথম বিদেশি বিশ্বকাপ কোচ) স্কটল্যান্ড ম্যাচের লড়াকু পারফরম্যান্সের ওপর ভরসা রাখলেও, কাম কামে গোল করা স্ট্রাইকার ডাকেন্স নাজোঁর (বাছাইপর্বের সর্বোচ্চ ৬ গোলদাতা) ওপরই থাকবে পুরো আলোর ঝলকানি।

Coach Carlo Ancelotti 02
তবে ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, আনচেলত্তির চাঙ্গা ব্রাজিলের সামনে হাইতির রূপকথা লেখার সুযোগ মেলা ভার। অনেকেই ম্যাচটিতে ব্রাজিলের ৩-০ গোলের সহজ জয় দেখছেন। এখন দেখার বিষয়, সাম্বা ঝড় ফিলাডেলফিয়ায় আছড়ে পড়ে, নাকি হাইতি কোনো নতুন রূপকথার জন্ম দেয়!