মাঠের বাইরে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বুক কাঁপানো তাপপ্রবাহ আর তীব্র দাবদাহে যখন হিউস্টন এলাকা পুড়ছে, ঠিক তখনই টেক্সাসের হিউস্টন স্টেডিয়ামের ভেতরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস ও সুইডেনের খেলোয়াড়দের জন্য এক পরম আশীর্বাদ।
স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর থেকে সাধারণ মানুষকে ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, এমনকি ফিফার ফ্যান জোনও বাতিল হওয়ার মুখে। তবে, মাঠে নামার আগে দুই দলের ফুটবলারদের কপালে চিন্তার রেখা নেই, কারণ স্টেডিয়ামের ভেতরের তাপমাত্রা থাকবে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রিত।
প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে উড়তে থাকা সুইডেন শনিবার রাত ১১টায় এই এসি-ম্যাজিকে ভর করেই ডাচদের চূর্ণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
লিডস ইউনাইটেডের সুইডিশ লেফট-ব্যাক গ্যাব্রিয়েল গুডমুন্ডসন যেমনটা বলছিলেন, মেক্সিকোর মন্টেরির মতো এখানেও আমাদের রুটিন একই। যতটুকু জানি ভেতরের এসি আমাদের বেশ সাহায্য করবে। তবে মন্টেরির চেয়ে এই ম্যাচে ফুটবলারদের মধ্যে অনেক বেশি শক্তির লড়াই দেখা যাবে।
সুইডেনের এই বিধ্বংসী রূপের নেপথ্যে আছেন লিভারপুলের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক, যিনি ইনজুরিতে জর্জরিত একটি মৌসুম কাটানোর পরও প্রথম ম্যাচে এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন।
দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ভিক্টর লিন্ডেলফ ফিফা ডটকম’কে বুক চিতিয়ে বলেছেন, বিশ্বকাপের আগে ওর ফর্ম নিয়ে যারা প্রশ্ন তুলেছিল, ইসাক প্রথম ম্যাচেই প্রমাণ করেছে ও কোন জাতের খেলোয়াড়। ওর কাছ থেকে আমি এটাই আশা করি।
সুইডেন যেখানে নকআউটের দোরগোড়ায়, নেদারল্যান্ডসের অবস্থা কিন্তু ততটা স্বস্তিদায়ক নয়। জাপানের বিরুদ্ধে ২-2 গোলে ড্র করে পয়েন্ট খুইয়েছে তারা। দলের অন্যতম বড় তারকা ও লিভারপুল ফরোয়ার্ড কোডি গাকপো নিজেদের দুর্বলতা স্বীকার করে বলেছেন, আমাদের আরও গোল করতে হবে। জাপানের লো-ব্লক ডিফেন্সের বিরুদ্ধে আমাদের ট্রানজিশনে সমস্যা ছিল। সুইডেনের বিরুদ্ধে আমাদের অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও নিখুঁত ফুটবল খেলতে হবে।
তবে ডাচ শিবিরের বড় স্বস্তি হলো, জাপানের বিরুদ্ধে চোখে মারাত্মক চোট পাওয়া ডিফেন্ডার জান পল ভ্যান হেককে ফিট ঘোষণা করা হয়েছে। দুই দলেই এই মুহূর্তে কোনো নতুন ইনজুরি সমস্যা নেই।
ব্রাজিলের রেকর্ডে ভাগ বসানো ডাচরা: বিশ্বকাপের ইতিহাসে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলায় টানা ১৩ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রয়েছে নেদারল্যান্ডস! টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটি যৌথভাবে দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার রেকর্ড, যা ১৯৫৮ থেকে ১৯৬৬ সালের মধ্যে শুধু ব্রাজিল গড়েছিল। নির্ধারিত সময়ে ডাচদের সবশেষ পরাজয় এসেছিল ২০১০ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিরুদ্ধে।
সুইডেনের গোল উৎসব: তিউনিসিয়ার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই ৫ গোল করে ২০১৮ বিশ্বকাপের পুরো গ্রুপ পর্বের গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছে সুইডেন। ১৯৯৪ সালের (৬ গোল) পর গ্রুপ পর্বে এত বড় শুরু তারা আর কখনো পায়নি।
মুখোমুখি লড়াইয়ের জুজু: নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে শেষ ৭টি আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের মাত্র একটিতে জিততে পেরেছে সুইডেন।
ফুটবল পণ্ডিতদের মতে, শনিবার হিউস্টনের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ড্র করতে পারলেই সুইডেনের নকআউটের টিকিট প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। অন্যদিকে ডাচরা অল-আউট আক্রমণে গিয়ে বড় কোনো ঝুঁকি নিতে চাইবে না, কারণ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ গ্রুপের সবচেয়ে দুর্বল দল তিউনিসিয়া। সব হিসাব-নিকাশ মিলিয়ে ফুটবলপ্রেমীরা শনিবার রাতে হিউস্টনের এসির ঠান্ডা বাতাসে ১-১ গোলের এক গরম ড্র দেখারই সম্ভাবনা বেশি দেখছেন!