ক্যাঙ্গারুদের খাঁচায় বন্দি করে নকআউট পর্বে আমেরিকা!

ক্যাপ্টেন এবং দলের মূল প্রাণভোমরা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক নেই তো কী হয়েছে? বেঞ্চের জোর আর গ্যালারির গগনবিদায়ী গর্জনকে পুঁজি করেই শুক্রবার সিয়াটলের মাঠে সকারুজদের রীতিমতো নাকানিচুবানি খাওয়াল যুক্তরাষ্ট্র। শুরুতেই এক আত্মঘাতী গোল আর অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের জাদুকরী হেডারে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলল সহ-আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র।

US win over Australia 05
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের উড়ন্ত শুরুর পর এই ম্যাচেও ভাগ্যের দেবী যেন মার্কিনীদের দিকেই হাত বাড়িয়ে রেখেছিলেন। ম্যাচের মাত্র ১১ মিনিটে বাঁ প্রান্ত দিয়ে ফল্যারিন বালোগানের এক বিষাক্ত দৌড় খেই হারিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়ান ডিফেন্সকে। বালোগান বক্সের ভেতর রিকার্ডো পেপির উদ্দেশ্যে বল বাড়ালে, তা ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই জড়িয়ে দেন ক্যাঙ্গারু ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্গেস! ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে যেন মাঠেই ঝিমিয়ে পড়ে টনি পোপোভিচের দল।

US win over Australia 04
প্রথমার্ধের ৪৩ মিনিটে আসে সেই কাঙ্ক্ষিত দ্বিতীয় গোল। সার্জিনো ডেস্টের শট প্রতিহত হয়ে বাতাসে ভাসলে অস্ট্রেলিয়ান কিপার প্যাট্রিক বিচকে মাটিতে ফেলে রেখে ফাকা বারে সহজ হেডে বল জড়ান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। অফসাইডের কারণে প্রথমে গোলটি বাতিল হলেও ভিএআর রিভিউতে গোল আসতেই উল্লাসে ফেটে পড়ে পুরো মার্কিন ডাগআউট। আবেগঘন ফ্রিম্যান ম্যাচ শেষে বলেন, এটি পরাবাস্তব! প্রথমে বাতিল হওয়ায় বুকটা কাঁপছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে গোল করা তো প্রতিটি শিশুর স্বপ্ন!

US win over Australia 03
প্রথম ম্যাচে তুরস্ককে হারানো অস্ট্রেলিয়া দলের দুই গোলদাতা, নেস্টোরি ইরানকুন্ডা এবং কনর মেটকাফকে শুরুর একাদশে না নামিয়ে এক চরম জুয়া খেলেছিলেন অজি কোচ পোপোভিচ। বিরতির পর এই দুজনকে মাঠে নামিয়ে ক্যাঙ্গারুরা কিছুটা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও মার্কিন ডিফেন্স ভাঙার মতো ধার তাদের ছিল না।

ম্যাচ শেষে ক্ষুব্ধ পোপোভিচ বলেন, জানি না বড় মঞ্চের চাপ নাকি অন্য কিছু, প্রথমার্ধে আমাদের বড্ড ক্লান্ত ও ভারী লেগেছে। এই লেভেলে প্রথমার্ধে এত বড় সুযোগ প্রতিপক্ষকে দিলে ফিরে আসা অসম্ভব। ম্যাচের শেষ ৫ মিনিটে হ্যারি সাউটার অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করার এক সুবর্ণ সুযোগ হাত না হারালে হয়তো ম্যাচের গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। হতাশ সাউটার বলেন, সুযোগ আমরা পেয়েছিলাম, কিন্তু কাজে লাগাতে পারিনি। এই মুহূর্তে মনের ভেতর এত রাগ উথলে উঠছে যে মুখে ভাষা আসছে না।

US win over Australia 02
দুই ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ডি-গ্রুপের টেবিলের শীর্ষে থাকা আমেরিকার পরবর্তী ম্যাচ বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে, তুরস্কের বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে ক্যাপ্টেন পুলিসিককে ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করে কোচ মরিসিও পচেত্তিনো সংবাদমাধ্যমে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা যদি টুর্নামেন্ট জিততে চাই, তবে শুধু এক বা দুজন নয়, আমাদের পুরো স্কোয়াডের গভীরতা লাগবে। আজ পুলিসিক ছাড়াও ছেলেরা যেভাবে ম্যাচ বের করেছে, তা-ই আমাদের আসল শক্তি। ক্যাপ্টেনকে ছাড়া এই দাপুটে জয় প্রমাণ করে দিল, ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে এবার বড় কিছুর জন্যই ছক কষছে মার্কিনরা!