প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্রয়ের হতাশা ঝেড়ে ফেলে অবশেষে জয়ে ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শনিবার সকাল সাড়ে ছ’টায় ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে পুচকে হাইতিকে ৩-০ গোলে সহজেই গুঁড়িয়ে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের ‘গ্রুপ সি’-এর শীর্ষস্থান দখল করেছে সেলেসাওরা।
প্রথমার্ধেই মাথেউস কুনহার জোড়া গোল এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের এক গোলের ওপর ভর করে এই দাপুটে জয় নিশ্চিত হয়। দলের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানিয়েছেন, প্রথম ম্যাচের তুলনায় দল প্রতিটি বিভাগেই দারুণ উন্নতি করেছে।
ম্যাচ শেষে মাঠের ভেতরেই নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড বলেন, আমরা প্রথমার্ধে অনেক বেশি গোছানো ও নিখুঁত ফুটবল খেলেছি। আমাদের খেলার গুণগত মান, তীব্রতা এবং আক্রমণের ধার, সব কিছুই মরক্কো ম্যাচের চেয়ে ঢের ভালো ছিল। আমরা উন্নতি করেছি, তবে আমাদের এখানেই থেমে থাকলে চলবে না; পরবর্তী ম্যাচে আরও ভালো করতে হবে।

দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বেশ কিছু সহজ সুযোগ হাতছাড়া করায় ব্যবধান আর বাড়েনি, তবে তা নিয়ে একেবারেই চিন্তিত নন কোচ। বরং আক্রমণভাগের পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সামনে আমাদের ফরোয়ার্ডরা চমৎকার বোঝাপড়া দেখিয়েছে। আক্রমণে সবসময় আমাদের পাঁচজন খেলোয়াড় সক্রিয় ছিল, যা প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কার্লো আনচেলত্তি উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পজিশন নিয়ে তাঁর নতুন কৌশলের ব্যাখ্যা দেন। এই ম্যাচে ভিনিকে একদম উইংয়ে না খেলিয়ে কিছুটা ভেতরের দিকে বা সেন্ট্রাল পজিশনে খেলানো হয়েছিল, আর বাঁ প্রান্তের পুরো জায়গাটি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল ডগলাস সান্তোসের জন্য।
আনচেলত্তি বলেন, আমরা ভিনিসিয়ুসকে কিছুটা ভেতরের দিকে পজিশন নিয়ে খেলতে বলেছিলাম, আর উইংয়ের দায়িত্ব ডগলাস খুব ভালোভাবে সামলেছে। ভিনি শুধু ওয়ান-টু-ওয়ান ড্রিবলিংয়েই বিপজ্জনক নয়, মাঝমাঠ দিয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্স চূর্ণ করতেও ও সমান ওস্তাদ। আজ ও একটি গোল করার পাশাপাশি অ্যাসিস্টও করেছে। ও নিজের পজিশন বদলালে দলের বাকিরাও সেই অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।
ম্যাচের নায়ক ও জোড়া গোলদাতা মাথেউস কুনহার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন কোচ। ভবিষ্যতে কুনিয়াহকে মাঝমাঠে খেলানোর ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, কুনিহার পজিশন আজ হাইতির রক্ষণভাগের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ ছিল। ও দারুণভাবে বল পাস দিয়ে বক্সে ঢুকেছে। আক্রমণভাগে ওর কার্যকারিতা ছিল অসাধারণ। আমরা দলের কোনো নির্দিষ্ট বা চেনা ছক ধরে রাখতে চাই না; প্রতিপক্ষ অনুযায়ী আগামী ম্যাচেও আমাদের রণকৌশল বদলে যেতে পারে।

মরক্কো ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচে দলের ইতিবাচক পরিবর্তনগুলো স্পষ্ট করে তুলে ধরে আনচেলত্তি শেষ লাইনে বলেন, এই ম্যাচ থেকে আমি চেয়েছিলাম ফুটবলের মান উন্নয়ন, কম ভুল করা, আক্রমণে কার্যকারিতা এবং ডিফেন্সে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। রক্ষণভাগ আজ দুর্দান্ত খেলেছে। তবে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে এবং আমরা তা করব। এই গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে যাতে নকআউট বা শেষ ৩২-এর লড়াইয়ের আগে দল শতভাগ প্রস্তুত হতে পারে, তবে তা নিয়ে অতিরিক্ত ভেবে নিজেদের ওপর চাপ বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই।
বুধবার মায়ামির মাঠে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামার আগে আনচেলত্তির এই আত্মবিশ্বাসী বার্তা নিশ্চিতভাবেই স্বস্তি দেবে কোটি কোটি সেলেসাও সমর্থককে।
