বিশ্বকাপের ডি-গ্রুপের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে শনিবার সকালে রাতে তুরস্কের বিপক্ষে এক অভাবনীয় জয় তুলে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে টুর্নামেন্টের এ যাবৎকালের দ্রুততম গোলটি করেন মাতিয়াস গালারজা।
এই এক গোলের লিড ধরে রেখে তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে ১-০ ব্যবধানের নাটকীয় জয় পেয়েছে লা আলবিরোজারা। এই হারের ফলে আসর থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো তুরস্কের, একই দিনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের সুবাদে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলের হতাশাজনক হার থেকে শিক্ষা নিয়ে প্যারাগুয়ে এদিন শুরু থেকেই ছিল অগ্নিমূর্তি ধারণ করা। সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ার গ্যালারিতে ড্রামের তালে তালে যখন হাজারো দর্শক উত্তেজনার পারদ চড়াচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শটে তুরস্কের জালে বল জড়িয়ে গ্যালারিতে উল্লাস ছড়িয়ে দেন গালারজা। গোল করার পর সেই ছন্দ ধরে রেখে প্যারাগুয়ে এদিন যে রক্ষণাত্মক অটল দেয়াল তৈরি করেছিল, তা ভাঙার সাধ্যই ছিল না তুর্কিদের।
ম্যাচের উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে। তুরস্কের মের্ত মুলদুরের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। ঝগড়ার সময় নিজের মুখ হাত দিয়ে ঢেকে রাখার অপরাধে নতুন নিয়মে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। বাকি পুরো দ্বিতীয়ার্ধ প্যারাগুয়েকে খেলতে হয়েছে মাত্র ১০ জন নিয়ে। তবে নিজেদের গোলপোস্টের সামনে প্যারাগুয়ে ছিল পাহাড়সম অবিচল।
অন্যদিকে, বলের দখলে ৭৯ শতাংশ সময় এগিয়ে থেকেও তুরস্কের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের চরম বাজে ফিনিশিং। পুরো ম্যাচে ৩২টি শট নিয়েও একটি গোলও করতে পারেনি তারা। জুভেন্টাস তারকা কেনান ইলদিজ এবং রিয়াল মাদ্রিদের আর্দা গুলার বারবার প্রতিপক্ষের বক্সে আতঙ্ক ছড়ালেও গোলমুখে গিয়েই যেন খেই হারিয়ে ফেলছিলেন তুর্কিরা। অনেকটা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচের হারের পুনরুক্তিই ঘটল তাদের ক্ষেত্রে।
ম্যাচ শেষে গোলদাতা মাতিয়াস গালারজা যেন আবেগে ভাসছিলেন। তিনি বলেন, দশে পরিণত হওয়ার পরও আমরা যে লড়াকু মানসিকতা দেখিয়েছি, তা আমাদের দলের গভীর গুণমানকেই প্রকাশ করে। আজকের দিনটি আমার জীবনের সেরা দিনগুলোর একটি।
অন্যদিকে, তুরস্কের কোচ ভিনসেনজো মন্তেলা পরাজয় মেনে নিয়ে বলেন, ৱআমি সত্যিই দুঃখিত, তবে আমার খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত তারা সবকিছু উজাড় করে দিয়ে লড়েছে। ফুটবলে এমন নিষ্ঠুর ফলাফল মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই।
২০১০ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে ফেরা প্যারাগুয়ে এই জয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে, আর অকাল বিদায়ের শোকে মুষড়ে পড়ছে তুর্কি শিবির।