ব্রাজিলের নকআউট পর্বে খেলা এখনও নিশ্চিত নয়!

প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সাথে ড্রয়ের হতাশা ভুলে বিশ্বকাপে চেনা ছন্দে ফিরেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নেইমারহীন সেলেসাওরা নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে নকআউট পর্ব বা দ্বিতীয় রাউন্ডের একেবারে দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে।

ব্রাজিলের বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গাণিতিক টুল ‘বোলা দে ক্রিস্তাল’ (ক্রিস্টাল বল) তো ইতিমধ্যেই হিসাব কষে জানিয়ে দিয়েছে, ব্রাজিলের পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সম্ভাবনা এখন প্রায় শতভাগ, তথা ৯৯.৯ শতাংশ! এমনকি কার্লো আনচেলত্তির এই দলটির ফাইনাল খেলার দৌড়েও ৬.৮ শতাংশ সম্ভাবনা টিকে রয়েছে।

বর্তমানে সি-গ্রুপে দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট এবং তিন গোল ব্যবধান নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করে আছে ব্রাজিল। সমান ৪ পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে (১) পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মরক্কো। তিন পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে থেকে আশা বাঁচিয়ে রেখেছে স্কটল্যান্ড, আর টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় ঘণ্টা বেজে গেছে হাইতির।

যদি ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের রাউন্ডে যায়, তবে নকআউটে তাদের মুখোমুখি হতে হবে এফ-গ্রুপের (যেখানে আছে নেদারল্যান্ডস, জাপান, সুইডেন ও তিউনিসিয়া) এর রানার্স-আপ দলের। ক্রিস্টাল বলের বর্তমান অনুমান অনুযায়ী, ব্রাজিলের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ হতে পারে শক্তিশালী সুইডেন, যাদের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা ২৪.৭৪ শতাংশ। আর সেই সম্ভাব্য লড়াইয়ে সুইডেনের ২৮.৮ শতাংশ সম্ভাবনার বিপরীতে ব্রাজিলের জয়ের পাল্লাই ভারী (৩৭.৫ শতাংশ)।

পরবর্তী রাউন্ডে সরাসরি কোয়ালিফাই করার জন্য ব্রাজিলের সামনে এখন সমান্তরাল ও সহজ সমীকরণ। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শুধু একটি ড্র বা এক পয়েন্ট পেলেই চলবে আনচেলত্তির দলের। স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ড্র করলে ব্রাজিলের পয়েন্ট হবে ৫, যা স্কটল্যান্ড (সর্বোচ্চ ৪ পয়েন্ট) কোনোভাবেই টপকাতে পারবে না। ফলে ব্রাজিল শীর্ষ দুইয়ে থেকে সরাসরি পরের রাউন্ডে যাবে।

Brazil Win 02
একই নিয়মে মরক্কোও যদি হাইতির সঙ্গে ড্র করে, তবে তারাও পরের রাউন্ডে চলে যাবে। অন্যদিকে, স্কটল্যান্ডকে সরাসরি যেতে হলে ব্রাজিলকে হারাতেই হবে।

তবে শুধু কোয়ালিফাই করাই নয়, গ্রুপের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে ব্রাজিলকে নজর রাখতে হবে মরক্কো ম্যাচের দিকেও। স্কটল্যান্ডের সঙ্গে ব্রাজিল ড্র করলে এবং মরক্কো হাইতিকে হারাতে না পারলে ব্রাজিলই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। কিন্তু মরক্কো জিতে গেলে তারা ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে চলে যাবে।

আবার যদি ব্রাজিল ও মরক্কো উভয়ই নিজ নিজ ম্যাচে জয় পায়, তবে দুজনেরই পয়েন্ট হবে ৭। যেহেতু তাদের মধ্যকার ম্যাচটি ১-১ ড্র হয়েছিল, তাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ হবে গোল ব্যবধানে। মরক্কোর জয়ের ব্যবধান যদি ব্রাজিলের চেয়ে সর্বোচ্চ ১ গোল বেশি হয়, তবে ব্রাজিলই শীর্ষে থাকবে।

Brazil Win 03
দুই গোল বেশি হলে হিসাব হবে মোট করা গোলের ওপর, আর ৩ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে মরক্কো জিতলে তারাই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে।

টুইস্ট আসতে পারে শুধু এক জায়গায়, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে একমাত্র পরাজয়ই ব্রাজিলের সরাসরি নকআউটে যাওয়ার পথ সাময়িকভাবে আটকে দিতে পারে। তেমনটি হলে স্কটল্যান্ড ৬ পয়েন্ট নিয়ে ওপরে চলে যাবে এবং ব্রাজিল ৪ পয়েন্টেই আটকে থাকবে।

এই অবস্থায় মরক্কো যদি হাইতির বিপক্ষে জয় বা ড্র পায়, তবে ব্রাজিল গ্রুপে তৃতীয় স্থানে নেমে যাবে। তবে মরক্কোও যদি হাইতির কাছে অলৌকিকভাবে হেরে যায়, তখন ৪ পয়েন্ট নিয়ে ব্রাজিল ও মরক্কো সমতায় থাকবে। সেক্ষেত্রেও গোল ব্যবধানের মারপ্যাঁচে মরক্কোর চেয়ে এক গোল কম ব্যবধানে হারলে ব্রাজিল দ্বিতীয় হবে।

Brazil Win 01
এমনকি সব দিক থেকে পিছিয়ে ব্রাজিল যদি গ্রুপে দুর্ভাগ্যবশত তৃতীয়ও হয়, তাহলেও টুর্নামেন্টের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেরা আটটি 'তৃতীয় স্থান অধিকারী' দলের একটি হয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাকআপ সুযোগ থাকবে। তবে তখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপের ফলাফলের দিকে।

তাই সব হিসাব-নিকাশের মারপ্যাঁচ ও জটিলতা দূরে ঠেলে সরাসরি রাজকীয়ভাবে নকআউটে যেতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে অন্তত একটি পয়েন্টই যথেষ্ট আনচেলত্তির সাম্বার দলটির জন্য।