খানাপিনা আর নাচে-গানে মাতোয়ারা সুইডেন ও ডাচ সমর্থকরা

ফুটবল বিশ্বকাপের উত্তাপ ছাপিয়ে এখন টক-অফ-দ্য-টাউন টেক্সাসের হিউস্টন শহরের অবিশ্বাস্য আবহাওয়া ও দুই ইউরোপীয় পরাশক্তির সমর্থকদের পাগলামি! শনিবার ‘গ্রুপ এফ’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে সুইডেন এবং নেদারল্যান্ডস।

তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার বহু আগেই হিউস্টনের রাস্তাঘাট কাঁপিয়ে দিচ্ছেন দুই দেশের হাজার হাজার ফুটবল ভক্ত। একদিকে প্রথম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে ৮৮ বছরের মধ্যে নিজেদের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ জয়ের রেকর্ড গড়ে ফুরফুরে মেজাজে আছে সুইডেন। অন্যদিকে জাপানের সাথে ২-২ গোলে ড্র করে কিছুটা ব্যাকফুটে থাকা ডাচরা মরিয়া জয়ের খোঁজে। কিন্তু মাঠের সেই স্নায়ুচাপকে একপাশে ঠেলে দুই দলের সমর্থকরা মেতে উঠেছেন নাচ, গান আর চরম মদ্যপানের উত্সবে।

Swidish Fan 01
শুক্রবার দুপুর থেকেই হিউস্টনের একটি স্থানীয় হোটেলে উৎসবের জোয়ার বইয়ে দেয় সুইডিশ সমর্থকরা। কাকতালীয়ভাবে এটি ছিল সুইডেনের অন্যতম প্রধান জাতীয় উৎসব ‘মিডসামার’। হোটেলের উঠানে মেপোল (উৎসবের প্রতীকী খুঁটি) পুঁতে, মাথায় ফুলের মুকুট পরে ডিজে গানের তালে তালে নাচতে দেখা যায় হাজারো সুইডিশ ভক্তকে।

সুইডেন সমর্থক গোষ্ঠীর প্রধান আন্দ্রেয়াস রিখট হেসেই বলেন, বিশ্বকাপের মাঝে মিডসামার উৎসব পড়লে কি আর ঘরে থাকা যায়? আমরা এখানে ভদকা গিলছি আর ঐতিহ্যবাহী হেরিং মাছ খাচ্ছি। সুইডেনের বিখ্যাত ‘ইয়েলো ওয়াল’ আজ পুরোপুরি উৎসবের মুডে আছে।

Swidish Fan 05
শনিবার স্টেডিয়ামে ঢোকার আগে প্রায় ৭,০০০ সুইডিশ সমর্থক একসাথে বিশাল মার্চ বা পদযাত্রা করার পরিকল্পনা করেছেন, যদিও গত রাতের ভদকার হ্যাংওভার কাটিয়ে কজন সকালে বিছানা থেকে উঠতে পারবেন, তা নিয়ে খোদ সমর্থকদের মধ্যেই হাসাহাসি চলছে! সমর্থক নিকোল স্টোনহ্যাম বলেন, এখানে আমরা সবাই এক জাতি, সবাই সবাইকে ভালোবাসছি, পরিবেশটা জাস্ট অসাধারণ!"

সুইডিশরা যদি হলুদ ঝড় তোলে, তবে ডাচরা হিউস্টনকে পুরো ‘কমলা’ রঙে রাঙিয়ে দিতে প্রস্তুত। নেদারল্যান্ডস থেকে প্রায় ১৫ হাজার উন্মাদ সমর্থক এসে জড়ো হয়েছেন হিউস্টনে, যারা তাদের ঐতিহ্যবাহী ‘অরেঞ্জ বাস’-এর পেছনে পেছনে গেয়ে-চেঁচিয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে ওস্তাদ।

Swidish Fan 02
তবে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় ভিলেন হিউস্টনের আবহাওয়া, যেখানে তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছুঁয়েছে। এই গনগনে গরমে প্রায় আড়াই মাইল পথ পায়ে হেঁটে স্টেডিয়ামে যাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়! ২৫ বছর বয়সী ডাচ তরুণ নিলস ফ্যান্ডারমির রসিকতা করে বলেন, নেদারল্যান্ডসের শীতল আবহাওয়ার সাথে এখানকার গরমের কোনো তুলনাই হয় না। এই গরমে আমাদের হাইড্রেটেড থাকতে হবে। আর হাইড্রেটেড থাকার একটাই সহজ উপায়, প্রচুর বিয়ার গেলা, তারপর আরও বিয়ার গেলা! আমরা এত জোরে গান গাইব যে হিউস্টনবাসী এর আগে এমন কিছু শোনেনি।

Swidish Fan 04
হিউস্টন ফ্যান ফেস্টে ডাচ ডিজে’র তালের সাথে পা মিলিয়ে হাজার হাজার কমলা জার্সিধারী সমর্থক পতাকা উড়িয়ে নাচছেন। ৪৪ বছর বয়সী ডাচ ভক্ত অ্যান্ডরিস ফিওল্ড অত্যন্ত গর্বের সাথে বলেন, আজকের অরেঞ্জ ওয়াক হবে ঐতিহাসিক। পুরো আমেরিকা আজ নেদারল্যান্ডসের শক্তি দেখবে। তবে, সবচেয়ে সুন্দর বিষয় হলো, সুইডিশদের সাথে আমাদের ভাইব্রেশন দারুণ মেলে। আমরা একে অপরকে সম্মান করি এবং একসাথে আনন্দ করতে ভালোবাসি।

মাঠে পিচ গলানো গরমে ফুটবলাররা যখন একে অপরকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না, তখন মাঠের বাইরে দুই দেশের সমর্থকদের এই ভদকা, বিয়ার আর নাচের ‘কার্নিভাল’ প্রমাণ করে দিচ্ছে যে ফুটবল আসলে মানুষকে মেলাতে জানে। শনিবারের এই মহাযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত ডাচদের কমলার জয় হবে নাকি সুইডিশদের হলুদ ঝড়ের, তা দেখতে চোখ রাখতে হবে হিউস্টনের স্টেডিয়ামে!