কেপ ভার্দের তারকা গোলরক্ষক ভোজিনহার খ্যাতি এখন আর শুধু নিজের দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা অনায়াসেই পার হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত। ফুটবল বিশ্বকাপ শেষ হতেই এই তারকা গোলরক্ষককে নিয়ে বিশ্বজুড়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে। শুধু কি তাই, দু’দিন আগেও ইনস্টাগ্রামে যার ৫০ হাজার ফলোয়ার ছিলো, সেটি এখন ছাড়িয়ে গেছে দেড় কোটিরও বেশি, কোথায় থামবে, কেউ জানে না।
অসংখ্য টেলিভিশন প্রোগ্রাম, বড় বড় ব্র্যান্ডের স্পনসরশিপের লোভনীয় চুক্তি, আর ইন্টারভিউয়ের জন্য সাংবাদিকদের লাইন, সব মিলিয়ে ভোজিনহা এখন টক অব দ্য টাউন। তবে আন্তর্জাতিক মহলে এখন তাঁকে নিয়ে হুলুস্থুল পড়ে গেলেও, নিজের দেশ কেপ ভার্দেতে তাঁর এই ‘সুপারস্টার’ তকমা কিন্তু নতুন কিছু নয়!
আজ থেকে ঠিক দশ বছর আগের কথা। ২০১৬ সালে ভোজিনহা ফুটবল মাঠের গ্লাভস জোড়া সাময়িকভাবে তুলে রেখে একেবারে ভিন্ন এক রূপে হাজির হয়েছিলেন। দেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘রেভিস্তা সেম্প্রে ভিভা’ -র কভার স্টোরির মূল আকর্ষণ বা ‘মডেল’ ছিলেন তিনি। সেই ম্যাগাজিনের কভারের মূল শিরোনামটি ছিল দারুণ আকর্ষণীয়, আমরা সবাই নীল হাঙর।
ভোজিনহার মডেলিং জগতের সেই দুষ্প্রাপ্য স্মৃতি বা ঐতিহাসিক রিলিকটি গত দশটি বছর ধরে পরম যত্নে আগলে রাখা হয়েছে। আর সেটি ধুলোবালি থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এর চেয়ে নিরাপদ ও উপযুক্ত জায়গা আর হতেই পারত না! রিলিকটি আর কোথাও নয়, স্বয়ং ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা এভোরার কেপ ভার্দের নিজের বাড়িতেই সযত্নে রাখা আছে। ধুলো জমা সেই ম্যাগাজিনটির পাতা ওল্টালেই এখনো দেখা মেলে ভোজিনহার এক দুর্দান্ত পোস্টার, যেখানে খোদ জাতীয় দলের এই বিশ্বস্ত প্রাচীরের নিজস্ব অটোগ্রাফ জ্বলজ্বল করছে।
পেশাদার ফুটবলার হলেও সেবার শুধুই শখের বশে এক বেলার জন্য মডেল সেজে ক্যামেরার সামনে পোজ দিয়েছিলেন ভোজিনহা। তবে সেই এক বেলার গ্ল্যামারাস রূপেই তিনি বাজিমাত করেছিলেন পুরো দেশজুড়ে। ভোজিনহার মা আশা প্রকাশ করেন, তাঁর ছেলে হয়তো একদিনের জন্যই ম্যাগাজিনের রঙিন পাতার মডেল হয়েছিলেন, কিন্তু মাঠ ও মাঠের বাইরে তাঁর সততা, লড়াই আর সাফল্য কেপ ভার্দের নতুন প্রজন্মের কাছে চিরকাল এক অনুপ্রেরণাদায়ী আদর্শ বা রোল মডেল হিসেবে বেঁচে থাকবে।