ফুটবল বিশ্বকাপের ১,০০০তম ম্যাচে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন জাপানের কোচ হাজিমে মরিয়াসু। তিনিই জাপানের প্রথম কোচ যিনি বিশ্বকাপে টানা তিনটি জয়ের রেকর্ড গড়লেন। এখন চোখ তাদের নকআউটের দিকে।
মরিয়াসুর স্বপ্ন, ভোর ৫টায় আর্লিংটনে সুইডেনের বিপক্ষে জয়ী হয়ে এফ-গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হওয়া এবং তার প্রিয় শহর মন্টেরিতেই শেষ ৩২-এর লড়াইয়ে ফেরা। জাপানি কোচ যেন আবেগে ভেসে বলেছেন, মন্টেরির স্টেডিয়াম আর সেখানকার মেক্সিকান দর্শকদের ভালোবাসা ছিল জাদুকরী। আমরা সেখানে নির্ভীক ফুটবল খেলেছি। পরের ম্যাচ কোথায় হবে তা তো বিধাতাই জানেন, তবে আমরা প্রস্তুত!
অন্যদিকে, সুইডেনের জন্য এই ম্যাচটি শুধু জেতা নয়, বরং বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াই। নেদারল্যান্ডসের কাছে ৫-১ গোলের শোচনীয় পরাজয় তাদের নকআউটে ওঠার চার আসরের ধারাবাহিকতায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। কোচ গ্রাহাম পটার অবশ্য দলের ওপর আস্থা হারাচ্ছেন না।
তিনি মনে করেন, জাপান ও নেদারল্যান্ডস উভয়ই টুর্নামেন্টের শক্তিশালী দল। পটার বলেন, আমরা কোনো কিছু আগাম চিন্তা করছি না। দল এখন পরিবর্তনের অপেক্ষায়। সুইডিশ খেলোয়াড়রা সততার সাথে দায়বদ্ধতা নিতে জানে। গত ম্যাচে অ্যান্টনি এলাঙ্গা ও লুকাস বার্গভালের মতো তরুণদের পারফরম্যান্স তাকে নতুন করে দল সাজানোর রসদ দিচ্ছে।
জাপান শিবিরে অবশ্য একটি বড় দুঃসংবাদ রয়েছে। ইনজুরির কারণে দলের প্রাণভোমরা তাকেফুসা কুবো, যাকে ভক্তরা ‘জাপানি মেসি’ বলে ডাকেন, তিনি দলের সাথে নেই। তবে লিডস ইউনাইটেডের আও তানাকা এবং ক্রিস্টাল প্যালেসের দাইচি কামাদা যেভাবে মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন, তাতে কুবোর অভাব খুব একটা টের পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৮ সাল থেকে টানা আটবার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া জাপান এখন এশিয়ার ফুটবল পরাশক্তি। কিন্তু তাদের একটি অপূর্ণতা আছে, তারা আজও কখনো রাউন্ড অব ১৬-এর গণ্ডি পেরোতে পারেনি। ২৫টি ম্যাচ খেলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে না পারার রেকর্ডটি ভাঙার জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর কী হতে পারে?
সুইডেনের ভাগ্য ঝুলে আছে ভিক্টর গিওকেরেসের ওপর। প্লে-অফে ইউক্রেনের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা এই স্ট্রাইকারই পটারের শেষ ভরসা। ১৯৫৮ সালে জর্জ রেনরের পর প্রথম ইংরেজ কোচ হিসেবে পটার সুইডেনকে নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, কিন্তু জাপানের বর্তমান ফর্ম দেখলে গা শিউরে ওঠার কথা যে কারো। গত ১৫টি ম্যাচে মাত্র একটি হার, সামুরাই ব্লুরা এখন যেন এক অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছুটছে।
ইউরোপীয় দলগুলোর বিপক্ষে টানা তিনটি ১-০ ব্যবধানের জয় এবং নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বুক চিতিয়ে লড়াই করা জাপান কি পারবে সুইডেনকে হারিয়ে তাদের চিরচেনা কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্নকে নতুন রূপ দিতে? আর্লিংটনের মাঠ এখন সেই উত্তেজনার অপেক্ষায়!