ফিফা বিশ্বকাপের ডি-গ্রুপ থেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ইতিমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। তবে শেষ ম্যাচে তুরস্কের বিপক্ষে শুক্রবার সকাল ৮টায় মাঠে নামার আগে মার্কিন শিবিরে এক অদ্ভুত অস্বস্তি, হলুদ কার্ডের খাঁড়া! দলের অন্যতম মূল ভরসা এবং মাঝমাঠের লড়াকু সৈনিক টাইলার অ্যাডামস কার্ডের ঝুঁকি নিয়ে বেশ সতর্ক। ইতিমধ্যেই এক ম্যাচে কার্ড দেখা এই মিডফিল্ডার নকআউটের টিকিট হাতছাড়া করতে চান না। ইএসপিএনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন, পরিস্থিতি সামলানোর মতো বুদ্ধি আমার আছে। গত ম্যাচেই তা দেখিয়েছি, আশা করি এবারও পারব।
তবে অ্যাডামসের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার চেয়ে কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনোর কৌশল এখানে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। গ্রুপ পর্ব শেষে হলুদ কার্ডের আমনেস্টি বা ক্ষমার নিয়ম থাকলেও, পচেত্তিনো হয়তো ঝুঁকি নিয়ে সেরা খেলোয়াড়দের মাঠে নামাবেন না।

ফোলারিন বালোগুন, ক্রিস রিচার্ডস এবং অ্যান্থনি রবিনসনের মতো প্রভাবশালী খেলোয়াড়রাও রয়েছেন একই ঝুঁকির মুখে। পচেত্তিনোর পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্তত চারটি পরিবর্তন আসতে পারে একাদশে। বিশেষ করে ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ ইনজুরির কারণে আবারও মাঠের বাইরে থাকতে পারেন, যা মার্কিন ভক্তদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
অন্যদিকে, তুরস্কের জন্য এই বিশ্বকাপটি যেন দুঃস্বপ্নের এক নাম। প্যারাগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে দারুণ দাপট দেখালেও গোলের দেখা পায়নি তারা। টানা ৬২টি শট নিয়েও একটিও গোল না করতে পারাটা তাদের চরম ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ।
২০০২ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি তারা। তুরস্কের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ইব্রাহিম হাচিওসমানোগলু অবশ্য কোচ ভিনসেঞ্জো মন্তেলার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। আমরা কোচের পাশেই আছি। খেলোয়াড়রা এখনো তরুণ, তাদের ওপর ভরসা রাখতে হবে, এমনটাই তার সোজা কথা। তবে তুরস্কের ভক্তরা পরিবর্তনের দাবিতে সরব।

পরিসংখ্যান বলছে, এই দুই দলের আগের পাঁচটি সাক্ষাতে দুই দলই সমান দুটি করে জয় পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই ম্যাচে জিতলে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা তিনটি জয়ের বিরল রেকর্ড গড়বে। তবে খেলাটা যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামে, তখন তুরস্কের মতো ‘হারানোর ভয়হীন’ দলের বিপক্ষে পচেত্তিনোর শিষ্যরা কিছুটা চাপে থাকবেই।
তরুণ ও ক্ষুধার্ত তুর্কিরা শেষ ম্যাচে সম্মান রক্ষায় মরিয়া হয়ে মাঠে নামলে তা মার্কিনদের জন্য বিপদ বয়ে আনতে পারে। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন, ম্যাচের ফলাফল ২-১ ব্যবধানে তুরস্কের অনুকূলে যেতে পারে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র জয়ের ধারা বজায় রাখতে সর্বস্ব উজাড় করবে, তবে পচেত্তিনোর সাবধানী মনোভাব শেষ পর্যন্ত ম্যাচে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়!
