কাতারকে বিদায় করে নকআউটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল বসনিয়া

বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে কাতারকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর পথে বড় এক লাফ দিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। বুধবার রাতের এই ম্যাচে ইউরোপীয় দলটি শুধু জয়ই তুলে নেয়নি, বরং ১৮ বছর বয়সী বিস্ময়বালক কেরিম আলাজবেগোভিকের এক চোখ ধাঁধানো গোলের সাক্ষী হয়ে রইল ফুটবল বিশ্ব। এই হারের ফলে কাতার তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টানল গ্রুপ পর্বেই, তবে চার পয়েন্ট নিয়ে বসনিয়া এখন নকআউটের টিকিট পাওয়ার দারুণ অবস্থানে।

Bosnia end Qatar 04
ম্যাচের ২৯ মিনিটে গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো বসনিয়ান সমর্থককে আনন্দে ভাসান তরুণ তুর্কি আলাজবেগোভিক। ডি-বক্সের বাইরে থেকে দুই ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিংয়ে বোকা বানিয়ে তার নেওয়া বুলেট গতির শটটি কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদাকে শুধু দর্শক বানিয়ে জালে আশ্রয় নেয়।

গোল করার পাঁচ মিনিট পরেই বসনিয়ার অধিনায়ক এদিন জেকোর ক্রস বিপদমুক্ত করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল খেয়ে বসে কাতার, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ইউরোপীয়দের হাতে তুলে দেয়। জেকোর জন্য এটি ছিল ক্যারিয়ারের ১৫০তম ম্যাচ, যেখানে তিনি নিজের গোল না পেলেও দলের জয়ে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ অবদান। যদিও বিরতির আগে হাসান আল-হাইদোস এক গোল শোধ করে কাতারকে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

Bosnia end Qatar 02
চণ্ড গরমের মধ্যে খেলাটি ছিল যেন দাবার বোর্ডের মতো কৌশলগত। বিরতির আগে কাতারের পেদ্রো মিগুয়েলের শট পোস্টে লাগলে কাতার সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করে। দ্বিতীয়ার্ধে বসনিয়া রক্ষণভাগে মনোযোগী হলেও প্রতি আক্রমণে কাতার তেমন কোনো হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি।

বদলি হিসেবে নামা আলমোয়েজ আলিকে নিয়েও গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হয় কাতার। খেলার ১০ মিনিট বাকি থাকতে বক্সের ভেতরে আলগা বল পেয়ে গোল করে বসনিয়ার জয় নিশ্চিত করেন বদলি খেলোয়াড় এরমিন মাহমিচ। এই গোলটি কাতারের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয় এবং বসনিয়াকে ১ জুলাই আমেরিকার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ নকআউট ম্যাচের স্বপ্ন দেখায়।

Bosnia end Qatar 01
২০২২ সালে আয়োজক দেশ হিসেবে বিদায় নেওয়া কাতার এবারও গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ল। পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকলেও বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জনই তাদের সান্ত্বনা। অন্যদিকে, প্লে-অফে ওয়েলসের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে জেতানো গোল করে লাইমলাইটে আসা আলাজবেগোভিক আবারও প্রমাণ করলেন, ইউরোপের ফুটবলে নতুন এক সুপারস্টারের জন্ম হচ্ছে।

বসনিয়ার কোচ এখন তাকিয়ে আছেন সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দলের তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার দিকে। বলকান অঞ্চলের এই দেশটির ফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতা আর তারুণ্যের মিশেল কি পারবে নকআউটের নকশা নতুন করে সাজাতে? তা সময়ই বলে দেবে, তবে বুধবারের রাতে তারা যে দাপট দেখিয়েছে, তাতে ফুটবলবিশ্ব এখন তাদের দিকে নতুন করে নজর রাখছে!