মাঠে পারফরম্যান্সের চরম দৈন্যতা আর রক্ষণভাগের একের পর এক ‘ছেলেমানুষি’ ভুলে ব্রাজিলের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে স্কটল্যান্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কারলো আনচেলত্তির ব্রাজিলের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছে স্টিভ ক্লার্কের দল। এই হারের পর তিন ম্যাচে তিন পয়েন্ট এবং মাইনাস তিন গোল ব্যবধান নিয়ে স্কটল্যান্ডের বিশ্বকাপ স্বপ্ন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। নকআউট পর্ব তথা শেষ বত্রিশে জায়গা পাওয়ার ভাগ্য এখন আর স্কটিশদের নিজেদের হাতে নেই; তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপগুলোর জটিল সমীকরণের দিকে।
মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটে স্কটিশ ডিফেন্ডার স্কট ম্যাককেনার মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে ভিনিসিয়াস জুনিয়র আলতো টোকায় ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+২ মিনিটে) ব্রুনো গুইমারেসের ক্রস থেকে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়াস।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে ব্রাজিলের পক্ষে তৃতীয় গোলটি করেন ম্যাথিউস কুনহা। এই গোলের পুরো কৃতিত্বই ছিলো গুইমারেসের, যিনি চমৎকার ফুটওয়ার্কে স্কটিশ রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে নিঃস্বার্থভাবে কুনহাকে পাস বাড়িয়েছিলেন।
ম্যাচের পরিসংখ্যান:
- পজিশন:
ব্রাজিল ৫১% — ৪৯% স্কটল্যান্ড
- শট অন টার্গেট:
ব্রাজিল ৮ — ৫ স্কটল্যান্ড
- শট অফ টার্গেট:
ব্রাজিল ১৩ — ৯ স্কটল্যান্ড
- কর্নার:
ব্রাজিল ৬ — ৭ স্কটল্যান্ড
- ফাউল:
ব্রাজিল ১০ — ১০ স্কটল্যান্ড
- ফলাফল:
ব্রাজিল ৩ — ০ স্কটল্যান্ড
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য ম্যাচের অন্যতম বড়ো আকর্ষণ ছিলো খেলা শেষ হওয়ার ১৪ মিনিট আগে কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড নেইমারের মাঠে নামা। ২০২৩ সালের শেষভাগ থেকে দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অনুপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তিনি সেলেসাওদের জার্সিতে মাঠে ফিরলেন।
অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে স্কটল্যান্ডের ফুটবল ছিল চূড়ান্ত রকমের লক্ষ্যহীন ও ধীরগতির। ম্যাচের ৫০ মিনিটে স্কট ম্যাকটমিনের একটি হেড ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার লুফে নেন, যা ছিলো পুরো ম্যাচে স্কটল্যান্ডের প্রথম অন-টার্গেট শট।
গ্রুপ পর্বে হাইতি, নিউজিল্যান্ড, ইরান ও কেপ ভার্দের মতো দলগুলো গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায়, স্কটল্যান্ডকে এখন টুর্নামেন্টে টিকে থাকার জন্য অন্য দলগুলোর পয়েন্ট হারানোর অপেক্ষায় প্রহর গুনতে হচ্ছে।