মেক্সিকোর তিনে তিন, গোলপোস্টও অক্ষত!

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে অপরাজিত থাকার পাশাপাশি জয়ের হ্যাটট্রিক! বুধবার রাতে চেক প্রজাতন্ত্রকে (ডাকা হয় চেকিয়া নামে) ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে নতুন এক স্বর্ণালী অধ্যায় লিখল মেক্সিকো। এই জয়ে এ-গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউটে পা রাখল দলটি, তাও আবার প্রথমবারের মতো গ্রুপ পর্বের সব কটি ম্যাচ জিতে।

Mexico Win 01
ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকলেও দ্বিতীয়ার্ধে যেন এক নতুন মেক্সিকোর দেখা মিলল। মাত্র ছয় মিনিটের ঝড়ে চেকদের রক্ষণভাগ লন্ডভন্ড করে দিলেন মেক্সিকোর ফরোয়ার্ডরা। ৫৫ মিনিটে ২২ বছর বয়সী মাতেও চাভেজ নিজের প্রথম বিশ্বকাপে গোল করে খাতা খোলেন।

ঠিক ছয় মিনিট পর অর্থাৎ ৬১ মিনিটে জুলিয়ান কুইনোনেস এবারের বিশ্বকাপে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে ইনজুরি টাইমে আলভারো ফিদালগো আরও একটি গোল করলে ৩-০ গোলের দাপুটে জয় নিশ্চিত হয় মেক্সিকোর।

Mexico Win 02
এই ম্যাচটি মেক্সিকোর জন্য শুধু একটি জয় ছিল না, বরং ছিল ঐতিহ্য আর নতুন প্রজন্মের মিলনমেলা। ১৭ বছর বয়সী গিলবার্তো মোরা মেক্সিকোর ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে শুরুর একাদশে মাঠে নেমে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, অভিজ্ঞতার পূর্ণতায় ৭৭ মিনিটে মাঠে নামেন ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়া। এই ম্যাচেই তিনি অনন্য এক রেকর্ডে নাম লেখালেন, লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার গৌরব অর্জন করলেন এই মেক্সিকান গোলরক্ষক।

Mexico Win 03
১৯৮৬ ও ২০০২ সালে মেক্সিকো দুটি জয় ও একটি ড্র নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল, যা এতদিন ছিল তাদের সেরা সাফল্য। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে জাভিয়ের আগুয়েরার শিষ্যরা বুঝিয়ে দিল, তারা কেবল অংশগ্রহণের জন্য নয়, শিরোপার স্বপ্ন নিয়েই মাঠে নেমেছে।

গ্রুপ সেরা হওয়ায় মেক্সিকো আগামী মঙ্গলবার তাদের পরবর্তী নকআউট ম্যাচটি খেলবে ঘরের মাঠ বিখ্যাত অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে। প্রতিপক্ষ এখনো নির্ধারিত না হলেও, বর্তমান ফর্ম আর আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান মেক্সিকো যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য এখন এক আতঙ্কের নাম। নিজেদের প্রিয় দর্শকের সামনে মেক্সিকানরা কি পারবে এই জয়ের ধারা বজায় রাখতে? উত্তর এখন সময়ের হাতে!