বিশ্বকাপের ডি-গ্রুপের লড়াই এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার মোড়ে। পয়েন্ট টেবিলে অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ে, উভয়েরই সংগ্রহ তিন পয়েন্ট। সমীকরণের মারপ্যাঁচে দাঁড়িয়ে ড্র করলেই দুই দলের জন্য নকআউটের দরজা খুলে যেতে পারে, কিন্তু অসি ডিফেন্ডার জেসন গেরিয়া যেন এক অদম্য জেদ নিয়ে মাঠে নামছেন। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ম্যাচের ১০ মিনিট বাকি থাকতে ড্রয়ের চিন্তা করা মানে ফুটবলের সঙ্গে প্রতারণা করা। আমরা এখানে জিততেই এসেছি, সমীকরণ মেলানোর জন্য নয়!
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শুক্রবার সকাল ৮টার ম্যাচটি সকারুদের জন্য যেমন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, তেমনি নিজেদের আধিপত্য প্রমাণেরও মঞ্চ। গোল পার্থক্যে এগিয়ে থাকলেও গেরিয়া বলছেন, খেলা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত পা টেনে নেওয়ার কোনো সুযোগই নেই তাদের।
অন্যদিকে, তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে টগবগ করা প্যারাগুয়ে তাদের লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত। গত ম্যাচে মিগুয়েল আলমারন লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেও ১০ জন নিয়ে যেভাবে প্যারাগুয়ে লড়াই করেছে, তাতে তাদের কোচ গুস্তাভো আলফারো বেশ গর্বিত। তিনি বলেন, “আমরা হয়তো অন্যদের চেয়ে সংখ্যায় কম হতে পারি, কিন্তু লড়াইয়ের ময়দানে আমরা কারো চেয়ে কম নই।”
ইনজুরি ও নিষেধাজ্ঞার দোলাচল: ম্যাচের আগে ইনজুরি যেন অস্ট্রেলিয়া শিবিরের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পাওয়া অভিজ্ঞ উইঙ্গার ম্যাট লেকির টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আশঙ্কায় দলের আক্রমণভাগ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তার পরিবর্তে ক্রিশ্চিয়ান ভোলপাটো, কনর মেটকাফে কিংবা নেস্টরি ইরাকুন্ডার মধ্যে একজনকে দেখা যেতে পারে একাদশে। জকব ইতালিয়ানোকে নিয়েও কোচ বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়েকে আজ খেলতে হবে তাদের প্রাণভোমরা মিগুয়েল আলমারন ছাড়াই। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচে মুখ ঢেকে উদযাপন করতে গিয়ে লাল কার্ড দেখা আলমারনের নিষেধাজ্ঞা বড় এক ধাক্কা প্যারাগুয়ের জন্য।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান বাস্তবতা: পরিসংখ্যানের পাতায় চোখ রাখলে অস্ট্রেলিয়ার পাল্লাই ভারী। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তাদের আগের তিনটি দেখায় কোনো হার নেই অসিদের। তবে গত চার ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয় মাত্র একটি, যা তাদের কিছুটা চাপে রেখেছে।
অন্যদিকে, প্যারাগুয়ের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে দেখা গেছে জয় ও হারের এক অদ্ভুত অদলবদল। তাদের আগের ম্যাচটি ছিল জয়, তাই পরিসংখ্যানের নিয়মে আজ তাদের হারার কথা!
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দলই প্রকাশ্যে ড্রয়ের কথা না বললেও সান ফ্রান্সিসকোর মাঠে এক রক্ষণাত্মক এবং ঝুঁকিমুক্ত লড়াই দেখার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও গেরিয়ারা জয়ের হুঙ্কার দিচ্ছেন, তবুও শেষ পর্যন্ত গোলশূন্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
নকআউটের হাতছানি আর হার এড়ানোর তাড়নায় সান ফ্রান্সিসকোর ফুটবল উৎসব কি গোল উৎসবে পরিণত হবে, নাকি জমে উঠবে কৌশলগত এক লড়াই? উত্তর মিলবে সকালে মাঠের লড়াইয়ে!