বিশ্বকাপে বাজি ধরার নতুন রেকর্ড, ফুলেফেঁপে উঠছে জুয়ার বাজার!

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল শুধু মাঠের লড়াই নয়, বরং অর্থলগ্নি ও জুয়ার বাজারেও তৈরি করেছে নতুন ইতিহাস। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বাজি ধরার সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। ৪৮টি দেশের অংশগ্রহণ এবং উত্তর আমেরিকায় আয়োজনের ফলে সময়ের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে বাজি ধরার পরিমাণ গত কাতার বিশ্বকাপের চেয়েও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, সব মিলিয়ে এবার বিশ্বব্যাপী বাজি ধরা অর্থের পরিমাণ ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা ২০২২ সালের ৩৫ বিলিয়ন ডলারকে পেছনে ফেলে দেবে।

বিশ্বের বৃহত্তম অনলাইন বেটিং কোম্পানি ‘ফ্লাটার এন্টারটেইনমেন্ট’ (যাদের অধীনে ফ্যানডুয়েলের মতো প্ল্যাটফর্ম রয়েছে) জানিয়েছে, তারা বিশ্বকাপের শিখর সময়ে প্রতি মিনিটে ১ লাখ বাজি ব্যবস্থাপনা করছে। আমেরিকার বাজারে বৈধ জুয়ার প্রসার এবং ফ্যানডুয়েল ও ড্রাফটকিংস-এর মতো জায়ান্টদের ব্যবসায়িক আধিপত্য এই বিপুল অঙ্কের লেনদেনের মূল কারিগর।

ড্রাফটকিংস জানিয়েছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে ২০২২ বিশ্বকাপের তুলনায় এবার বাজি ধরার পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকা এবং ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো তাদের প্ল্যাটফর্মের ইতিহাসে সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল ম্যাচ হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

বেটিং কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে এবার নতুন নতুন সব অফার নিয়ে হাজির হয়েছে। যেমন, কোনো খেলোয়াড়ের ওপর বাজি ধরার পর তিনি যদি মাঠ ছাড়েন, তবে তার বদলি খেলোয়াড়ের ওপর সেই বাজি স্থানান্তর করার মতো অভিনব সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

বেট৩৬৫-এর মতো কোম্পানিগুলো খেলোয়াড়দের গোল ও অ্যাসিস্টের ওপর ভিত্তি করে কোটি কোটি টাকা অর্থ প্রদান করেছে। ইংল্যান্ডের ম্যাচ বা মেসির গোল, প্রতিটি মুহূর্ত যেন বাজি ধরার নতুন এক উপলক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উইলিয়াম হিল জানিয়েছে, মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচে লাল কার্ডের ছড়াছড়ির সময় ইন-প্লে বেটিংয়ে তারা লাখ লাখ ডলারের বাজি সামাল দিয়েছে।

বাজি ধরার এই জোয়ারে কোম্পানিগুলোর এনগেজমেন্ট বা অংশগ্রহণ প্রত্যাশার চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। তবে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এই উত্তেজনার মুহূর্তগুলোকে দীর্ঘমেয়াদী ব্যবসায়িক সাফল্যে রূপান্তর করা। ম্যাককুয়ারির মতো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানের মতে, এই বিশ্বকাপটি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন গ্রাহক সংগ্রহের এক বিশাল সুযোগ, কিন্তু আসল লড়াই হলো এই বাজি ধরেন এমন ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে অন্যান্য খেলাধুলায় নিয়মিত গ্রাহক হিসেবে ধরে রাখা।

এদিকে এন্টেইন গ্রুপের মতো কোম্পানিগুলো কিছুটা সতর্ক। তাদের মতে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে অনেকগুলো একপেশে ম্যাচ এবং অঘটন বাজি ধরার বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। মেসি, এমবাপ্পে বা হালান্ডের মতো মহাতারকাদের গোলগুলো জুয়াড়িদের জন্য যেমন মুনাফা এনেছে, তেমনি গোলশূন্য ড্রয়ের ম্যাচগুলো অনেককে হতাশও করেছে।

সব মিলিয়ে, এই ৩৯ দিনের বিশ্বকাপ কেবল ফুটবলপ্রেমীদের জন্যই নয়, বরং জুয়া ব্যবসার ইতিহাসে বিশাল ‘রোলার কোস্টার রাইড’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঠে গোল বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজির বাজারের উত্তাপ, এখন দেখার বিষয়, নকআউট পর্বে এই পাগলামি কোন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছায়!

এআরএস
২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের দৌড়টি এখন শুধু একটি খেলার মাঠের সিদ্ধান্ত নয়, রীতিমতো এক হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক যুদ্ধে পরিণত হয়েছে। স্পেনের ঐতিহ্যবাহী রিয়াল মাদ্রিদের সান্তিয়াগো...
বিশ্বকাপজয়ের মহারথী হয়ে ২০২৬ ব্যালন ডি’অরের বিশ্বমঞ্চে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের পতাকা ওড়াতে প্রস্তুত মিডফিল্ডার রদ্রি। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত ট্রফিটি যেন কোনো স্প্যানিয়ার্ডের হাতেই...
বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে আলো ছড়ানো খেলোয়াড়দের ঘিরে বিশ্বজুড়ে সদ্য সমাপ্ত মধ্য বছরের ট্রান্সফার উইন্ডোতে রেকর্ড বাণিজ্য হয়েছে। ফুটবল সংস্থা ফিফা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক এই...
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে স্পেনের কাছে পরাজয়ের তিক্ততা নাকি বিশ্বমঞ্চে মল্লযুদ্ধ, কোনটি বেশি দাগ কাটল আর্জেন্টিনার গায়ে? শিরোপা হারানোর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফিফার শাস্তির খড়গ এসে পড়ল...
ক্ষমতায় আসার মাত্র আট মাসের মাথায় বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদল ও অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার কঠোর পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পরিচালিত সরকার। এই অল্প সময়ের মধ্যেই...
ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার...
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক খাতের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সোনালী, জনতা ও রূপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও)...
মাদকের বিষাক্ত ছোবলে বিপথে যাওয়া সন্তানের অত্যাচারে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল পুরো পরিবারের। বুঝিয়ে, শাসন করে, কোনোভাবেই যখন ঘরোয়াভাবে শুধরানো যাচ্ছিল না, তখন আর কোনো উপায় না দেখে চরম এক কঠিন...
লোডিং...
সর্বশেষপঠিত

এলাকার খবর