ঘানার সাথে গোলশূন্য ড্র করে গত মঙ্গলবার বোস্টনে পয়েন্ট খুইয়েছে ইংল্যান্ড। আর এই ধাক্কার পর থ্রি লায়ন্সদের নতুন ডাগআউট মাস্টার টমাস টুখেল বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এই লড়াই মোটেও মধুর নয়।
নিজেদের শেষ ম্যাচে ইতিমধ্যে টুর্নার্মেন্ট থেকে বিদায় নেওয়া পানামার মুখোমুখি হওয়ার আগে শিষ্যদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে টুখেল আইটিভি’কে বলেছেন, আমি সবাইকে পরিষ্কার বলে দিতে চাই, পানামা ম্যাচ মোটেও সহজ হবে না। কাগজে-কলমে তারা হয়তো এই গ্রুপের সবচেয়ে অচেনা নাম, কিন্তু ঘানার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে তারা যেভাবে বুক চিতিয়ে লড়েছিল, তা সত্যিই অসাধারণ। এই গ্রুপটি আমাদের নানাভাবে পরীক্ষা করছে, যা পরবর্তীতে নকআউটের কঠিন বৈতরণী পার হতে আমাদের সাহায্য করবে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৪২ নম্বরে থাকা পানামা নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে ১-০ ব্যবধানের টানা হারে ইতিমধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছে। দলের এই বিদায়ে পানামার ডেনমার্ক বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ কোচ টমাস ক্রিস্টিয়ানসেনের মন ভীষণ আহত হলেও নিজের ছেলেদের নিয়ে তিনি গর্বিত।
ক্রিস্টিয়ানসেনের মতে, এই বিশ্বকাপের মঞ্চ বিশ্বকে দেখিয়েছে যে পানামার ফুটবলারদেরও দারুণ প্রতিভা আছে, যা তাদের ইউরোপের আরও ভালো লিগে খেলার দুয়ার খুলে দেবে। তবে একটি পুরো দেশের মানুষের ফুটবলীয় আবেগ এভাবে ভেঙে চুরমার হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
পানামা ম্যাচের আগে ইংলিশ শিবিরে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে চোটের আক্রমণ। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে গত বৃহস্পতিবার অনুশীলনে নামতে পারেননি রাইট-ব্যাক রিস জেমস। একই সাথে কাফ মাসেলের চোটে ভুগছেন মিডফিল্ডের প্রাণ ডেক্লান রাইসও। রাইসের জন্য বড় ভয় হলো, পানামা ম্যাচে আর একটি হলুদ কার্ড দেখলেই পরবর্তী নকআউট ম্যাচে নিষিদ্ধ হতে হবে তাঁকে।
তবে এই হতাশার মাঝেই বোস্টনের মাঠে ইতিহাস গড়েছেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বেলিংহ্যাম। মাত্র ২২ বছর ৩৫৯ দিন বয়সে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে নিজের ৫০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন এই তরুণ তুর্কি, যা থ্রি লায়ন্সদের ফুটবল ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এক মহাকাব্যিক রেকর্ড। এছাড়া গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ডও ইংল্যান্ডের হয়ে নিজের ১৪তম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, পানামার বিশ্বকাপ রেকর্ড বেশ করুণ। বিশ্বকাপে খেলা নিজেদের ৫টি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছে তারা, গোল করেছে মাত্র দুইটি। একমাত্র এল সালভাদর (৬ ম্যাচ) ছাড়া বিশ্বকাপের ইতিহাসে শতভাগ হারের এমন লজ্জাজনক রেকর্ড আর কারও নেই। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে এই পানামাকেই ৬-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয়টি পেয়েছিল ইংল্যান্ড।
ঘানার বিপক্ষে গত ম্যাচে প্রায় ৭৯ শতাংশ বল পজিশন রেখেও এবং ১৯টি শট নিয়েও গোল করতে না পারার যে আফসোসে পুড়ছে ইংল্যান্ড, তা ২০০২ সালের পর গোল ছাড়া তাদের সর্বোচ্চ শটের রেকর্ড। তবে পানামার ইতিহাস এবং ২০১৮ সালের সেই মধুর স্মৃতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আজ রাতের ম্যাচে গোলখরা কাটিয়ে এক রাজকীয় জয় দিয়েই নকআউটে পা রাখবে টুখেলের দল।
বিদায়ী ম্যাচে পানামা কোচ ক্রিস্টিয়ানসেন নিজেদের একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনে ইংল্যান্ডকে কোনো মরণকামড় দিতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়!