ফিফা বিশ্বকাপে ভোর সাড়ে ৫টায় আটলান্টায় উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নামছে ডিআর কঙ্গো। আর এই মহা-গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ঠিক আগমুহূর্তে কঙ্গোর জাতীয় ফুটবল দল- ‘লেপার্ডস’-দের উদ্দেশে এক টানটান ও আবেগঘন বার্তা পাঠিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কঙ্গোর পুরো দলকে উজ্জীবিত করে তিনি লিখেছেন, আজকের এই লড়াই শুধু কোনো ফুটবল ম্যাচ নয়। এটি আমাদের জাতীয় ঐক্যের এক পরম মুহূর্ত; এমন এক মাহেন্দ্রক্ষণ যেখানে পুরো দেশের মানুষ একই অভিমুখে তাকাবে, বুকে থাকবে দেশের প্রতি একই আবেগ, একই আশা আর জাতীয় পতাকার প্রতি গভীর ভালোবাসা।
কে-গ্রুপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে পর্তুগালের সাথে ১-১ গোলে ড্র এবং কলম্বিয়ার কাছে ১-০ ব্যবধানের লড়াকু হারে মাত্র এক পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে আছে কঙ্গো। টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে তাদের জয়ের কোনো বিকল্প নেই। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচ হারা সাবেক বিশ্বসেরা ক্যানাভারোর উজবেকিস্তানেরও আজ অলৌকিক এক জয়ের মাধ্যমে নকআউটে যাওয়ার ক্ষীণ গাণিতিক পথ খোলা রয়েছে।
কঙ্গোর ১০ কোটিরও বেশি জনগণকে ফুটবলারদের পেছনে ঢাল হয়ে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট শিসেকেদি আরও লেখেন, এই শনিবার আটলান্টার মাঠে তোমরা কিন্তু একা নও। তোমাদের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে ১০ কোটিরও বেশি কঙ্গোলিজ মানুষ, আমাদের পরিবার, তরুণ প্রজন্ম, প্রবীণ সমাজ, প্রবাসী ভাই-বোনেরা, আমাদের দেশের সাহসী সৈনিক ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। আমরা সবাই আজ এক হয়ে তোমাদের পেছনে আছি। আমি প্রতিটি কঙ্গোবাসীকে অনুরোধ করছি, আজ একতাবদ্ধ হয়ে আমাদের ‘লেপার্ডস’দের সেই কাঙ্ক্ষিত বিজয়ের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান।
১৯৭৪ সালের জার্মানি বিশ্বকাপের পর (যখন দেশটির নাম ছিল জাইর), এই দীর্ঘ ৫২ বছর পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পা রেখেছে ডিআর কঙ্গো। অথচ কয়েক মাস আগেও আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইপর্বে সরাসরি টিকিট না পেয়ে যখন তারা রানার্সআপদের মধ্যকার প্লে-অফ খেলছিল, তখন দলটির বিশ্বকাপে আসাটাই অলৌকিক মনে হচ্ছিল। সেই খাদের কিনারা থেকে উঠে এসে আজ বিশ্বমঞ্চে কঙ্গোর এই মরণপণ লড়াই দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে পুরো ফুটবল দুনিয়া!
ফিফাকে একহাত নিলেন ইরানের অধিনায়ক তারেমি
ফুটবলের সৌন্দর্য বুঝতে শুরু করেছে আমেরিকানরা