ফুটবল বিশ্বকাপের কে- গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণী মহারণে রোববার ভোর সাড়ে ৫টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হচ্ছে লাতিনের অদম্য শক্তি কলম্বিয়া এবং ইউরোপের পরাশক্তি পর্তুগাল। আর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ শুরুর আগেই মাঠের আবহ নিয়ে মুখ খুলেছেন পর্তুগিজ মিডফিল্ড জেনারেল ব্রুনো ফার্নান্দেস। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো গ্লোবাল সুপারস্টার দলে থাকা সত্ত্বেও মায়ামির মাঠে কলম্বিয়ান সমর্থকদের কাছ থেকে এক বৈরী ও মারমুখী অভ্যর্থনা আশা করছেন তিনি।
গ্রুপের সমীকরণ বলছে, উজবেকিস্তান ও ডিআর কঙ্গোকে হারিয়ে ইতিমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলা কলম্বিয়ার গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে মাত্র একটি পয়েন্ট প্রয়োজন। আর সেই ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে আমেরিকার আনাচে-কানাচে থাকা হাজার হাজার কলম্বিয়ান সমর্থক মায়ামিতে ভিড় জমিয়েছেন। এর আগে কলম্বিয়ার প্রথম দুটি ম্যাচ মেক্সিকোর মাটিতে হওয়ায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কলম্বিয়ানদের জন্য নেস্টর লোরেঞ্জোর শিষ্যদের সরাসরি দেখার এটাই প্রথম সুযোগ।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেস দক্ষিণ ফ্লোরিডার এই ‘হলুদ সমুদ্র’র চ্যালেঞ্জ মেনে নিয়ে বলেন, “আমার মনে হয় আগামীকাল কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে গ্যালারিতে পর্তুগালের চেয়ে কলম্বিয়ান সমর্থক অনেক বেশি থাকবে। তবে এটা নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই, এটাই ফুটবল। কখনো গ্যালারি আমাদের পক্ষে থাকবে, কখনো থাকবে না, এটা মেনে নিয়েই আমাদের জিততে হবে।”
উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পর্তুগাল শিবির এখন আত্মবিশ্বাসে ফুটছে। বিশেষ করে, তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা ৩৯ বছর বয়সী অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ওপর ভরসা রেখেছিলেন কোচ রবের্তো মার্তিনেস। আর বসের সেই আস্থার প্রতিদান দিয়ে উজবেকদের জালে জোড়া গোল উৎসব করেন সিআর সেভেন। এই দুই গোলের মাধ্যমে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার এক অবিশ্বাস্য ও অলৌকিক রেকর্ড গড়েন তিনি। একই সাথে বিশ্বকাপে পর্তুগালের ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাও এখন রোনালদো।
অধিনায়কের এই ফর্মে ফেরা নিয়ে ব্রুনো বলেন, আমাদের অধিনায়কের গোল পাওয়াটা ভীষণ দরকার ছিল। আক্রমণভাগে ওই আমাদের মূল চালিকাশক্তি। রোনালদোর এই জোড়া গোল দলের চারপাশের সব সমালোচনার মুখ বন্ধ করে দিয়েছে এবং আমরা সবাই ওর জন্য অত্যন্ত আনন্দিত।
ভোরের ম্যাচের আগে কলম্বিয়া শিবিরে স্বস্তির খবর হলো, কাঁধের চোট কাটিয়ে একদম ফিট হয়ে দলে ফিরছেন স্ট্রাইকার লুইস সুয়ারেজ। অন্যদিকে, পর্তুগাল ডিফেন্ডার তমাস আরাউজো চোটের কারণে অনিশ্চিত হওয়ায় রুবেন দিয়াসের সাথে রক্ষণভাগ সামলাবেন রেনাতো ভেইগা।
পরিসংখ্যানের খাতা বলছে, কলম্বিয়ার বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ কখনো ০-০ ড্র হয়নি! দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে আর্জেন্টিনার পর ওরাই সর্বোচ্চ ২৮টি গোল করেছিল, যার মধ্যে রেকর্ড ৭টি ছিল হেড থেকে করা গোল। দলের প্রধান তারকা লুইস দিয়াজ বাছাইপর্বে ৭টি গোল করে মেসির ঠিক পেছনে ছিলেন এবং কিংবদন্তি হামেস রদ্রিগেস একাই করেছেন ৭টি অ্যাসিস্ট। কলম্বিয়ার আর্জেন্টাইন কোচ নেস্টর লোরেঞ্জো খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯0 সালের বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছিলেন এবং গত ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালেও কলম্বিয়াকে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে, ২০০২ সাল থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইউরোপের মাত্র ৫টি দেশের একটি হলো পর্তুগাল। কোচ রবের্তো মার্তিনেসের অধীনে পর্তুগিজদের আক্রমণভাগ যদি উজবেকিস্তান ম্যাচের মতো জ্বলে ওঠে, তবে কলম্বিয়ার ডিফেন্সের জন্য তা থামানো অসম্ভব হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কলম্বিয়ানদের লড়াকু ফুটবল ম্যাচটিকে ১-১ গোলে ড্রয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে, যা কলম্বিয়াকে গ্রুপ সেরা বানাবে। রোনালদোর হ্যাটট্রিকের ক্ষুধা নাকি কলম্বিয়ার সাম্বা প্রতিরো, মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ হাসি কে হাসে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব!