কঙ্গোর অবিশ্বাস্য সমীকরণের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান

ফিফা বিশ্বকাপের কে-গ্রুপের মহানাটকীয় শেষ রাউন্ডে ভোর সাড়ে ৫টায় আমেরিকার আটলান্টায় মুখোমুখি হচ্ছে ডিআর কঙ্গো ও উজবেকিস্তান। ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল যখন টেবিল টপার কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছে, ঠিক তখনই অন্য মাঠে এক অবিশ্বাস্য সমীকরণ মেলানোর লক্ষ্যে নামছে কঙ্গো।

উজবেকদের বড় ব্যবধানে হারাতে পারলে এবং অন্য ম্যাচে পর্তুগাল হেরে গেলে, সিআর সেভেনদের হটিয়ে সরাসরি গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানটি ছিনিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে আফ্রিকান দলটির সামনে!

তবে কাগজে-কলমে কাজটা বেশ কঠিন, কারণ সরাসরি দ্বিতীয় হতে হলে কঙ্গোকে কম করে হলেও ছয় গোলের ব্যবধান টপকাতে হবে। তবে সেই জটিল হিসেব পাশে সরিয়ে ম্যাচে যে কোনো ব্যবধানে একটি জয় পেলেই অন্তত অন্যতম সেরা তৃতীয় দল হিসেবে কঙ্গোর নকআউট বা শেষ ৩২-এর টিকিট প্রায় নিশ্চিত।

Uzbekistan Team 01
দলের এই পবিত্র লক্ষ্য নিয়ে স্ট্রাইকার সাইমন বাঞ্জা রয়টার্সকে বলেন, উজবেকিস্তান খুবই লড়াকু দল, ওরা কখনো হাল ছাড়ে না। কিন্তু আমরাও এক ইঞ্চি জমি ছাড়বো না। বিশ্বকাপে পা রাখার দিন থেকেই আমাদের একটাই লক্ষ্য, টুর্নামেন্টের অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়া।

অন্যদিকে, ইতালির ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ডিফেন্ডার ফ্যাবিও ক্যানাভারোর কোচিংয়ে থাকা উজবেকিস্তানেরও গাণিতিকভাবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে, তার জন্য তাদের এক অলৌকিক ও বিশাল জয় পেতে হবে, যা কলম্বিয়া ও পর্তুগালের বিরুদ্ধে প্রথম দুই ম্যাচে মাত্র ১টি গোল করা দলটির জন্য এভারেস্ট জয়ের মতোই কঠিন।

গোল বন্যার খোঁজে থাকা কঙ্গো কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে তাঁর চেনা ৫-ডিফেন্ডার ফরমেশন ভেঙে ৪-ডিফেন্ডারের অতি-আক্রমণাত্মক কৌশলে দল নামাতে পারেন। এর ফলে প্রথম দুই ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকা সান্ডারল্যান্ডের তরুণ মিডফিল্ডার নোয়াহ সাদিকি আজ শুরু থেকেই মাঠে নামার সুযোগ পেতে পারেন। অন্যদিকে, চোটের কোনো নতুন সমস্যা নেই উজবেক শিবিরে।

পরিসংখ্যানের পাতা উল্টালে দেখা যায়, বিশ্বকাপে সবচেয়ে দীর্ঘ বিরতির পর খেলতে আসার রেকর্ডে কঙ্গো রয়েছে ইতিহাসের চতুর্থ স্থানে (এর ওপরে আছে ওয়েলস, মিশর ও নরওয়ে)। এছাড়া কঙ্গো এমন এক অদ্ভুত রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে, যেখানে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোলটি করার জন্য তারা চাতক পাখির মতো চেয়ে আছে। আফ্রিকান বাছাইপর্বে দলের দুই তারকা সেড্রিক বাকাম্বু ও উইসা প্রত্যেকেই ৬টি করে গোলে সরাসরি অবদান রেখে কঙ্গোকে মূল পর্বে নিয়ে এসেছিলেন।

Uzbekistan Team 01
অন্য ডাগআউটে থাকা উজবেকিস্তান এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ২০১০ সালে স্লোভাকিয়ার পর প্রথম দল হিসেবে নিজেদের অভিষেক বিশ্বকাপেই নকআউটে যাওয়ার এক ঐতিহাসিক স্বপ্ন দেখছে তারা। এশিয়ান কাপের নিয়মিত এই পরাশক্তিকে পুরো বাছাইপর্বে একমাত্র কাতার ছাড়া কেউ হারাতে পারেনি, তাও আবার ম্যাচের ১১২ মিনিটে গোল হজম করে!

দলটির প্রধান তারকা এলডর শমুরোদভ (৫ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট) ক্যানাভারোর তুরুপের তাস। খেলোয়াড় হিসেবে ইতালির হয়ে ৪টি বিশ্বকাপ খেলা এবং ২০০৬ সালে ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ক্যানাভারো কোচ হিসেবে উজবেকদের এই রূপকথা সত্যি করতে পারেন কি না, তা দেখার বিষয়।

বিশেষজ্ঞদের প্রেডিকশন বলছে, ম্যাচটিতে ডিআর কঙ্গো ২-০ ব্যবধানে জয় পেতে পারে, যা তাদের ৪ পয়েন্ট এনে দিয়ে নকআউটের ‘ওয়েটিং রুমে’ বসিয়ে দেবে। তবে তারা গোল সংখ্যায় রোনালদোর পর্তুগালকে পেছনে ফেলে সরাসরি দ্বিতীয় হতে পারে কি না, তা দেখতে আটলান্টার মাঠের দিকে চোখ রাখতেই হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের!