জর্ডানের বিপক্ষে মেসির রেকর্ড গোল, শেষ আটে আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসি মাঠে নামবেন, আর ইতিহাস তৈরি হবে না—তা কী করে হয়! বেঞ্চ থেকে উঠে এসে মাত্র আধ ঘণ্টার জাদুতে গ্যালারি মাতালেন ৩৯ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা। জর্ডানের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচে আরও একটি অবিশ্বাস্য ফ্রি-কিক গোলে ফুটবলপ্রেমীদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখলেন তিনি। লিওনেল স্কালোনির ৯টি পরিবর্তনের এই ম্যাচে জর্ডানকে সহজেই হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করেছে আলবিসেলেস্তেরা। আটলান্টায় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার পরবর্তী প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে।

বিশ্বকাপ ফুটবলে নিজের ১৯তম এবং ৩৯ বছর বয়সের পর প্রথম গোলটি করলেন মেসি। চলমান আসরের তিন ম্যাচে এটি তার ষষ্ঠ গোল। গ্রুপ পর্বের সমীকরণ ও ফিফার হেড-টু-হেড নিয়মে আর্জেন্টিনার গ্রুপ ‘জে’-র শীর্ষস্থান আগেই নিশ্চিত ছিলো। অন্যদিকে, একই জটিল নিয়মের মারপ্যাঁচে ম্যাচ শুরুর আগেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল জর্ডানের। ফলে ম্যাচটি অনেকটা আনুষ্ঠানিকতার হলেও মাঠের উত্তেজনা কম ছিলো না।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে আক্রমণ চালাতে থাকে আর্জেন্টিনা। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে ফেরা হুলিয়ান আলভারেসের বানিয়ে দেওয়া বল থেকে জিওভানি লো সেলসো বল জালে পাঠালেও তা অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। তবে জর্ডানের রক্ষণভাগ বেশিক্ষণ আর্জেন্টাইন আক্রমণ রুখতে পারেনি। ২০ গজের মাথায় আবু তাহাকে ফাউল করার অপরাধে রেফারি ফ্রি-কিকের নির্দেশ দিলে সুযোগ হাতছাড়া করেননি লো সেলসো। ২৫ গজ দূর থেকে তার নেওয়া বাঁ-পায়ের নিখুঁত শট জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলাকে পরাস্ত করে জালে জড়ায় (১-০)। এটি লো সেলসোর পঞ্চম আন্তর্জাতিক গোল।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে মূল একাদশে মেসির সঙ্গী হওয়ার দৌড়ে আজ লাউতারো মার্তিনেস ও হুলিয়ান আলভারেসকে একসঙ্গে নামিয়েছিলেন স্কালোনি। ম্যাচের আধঘণ্টা পেরোতেই মার্তিনেস নিজের দাবি জোরালো করেন। নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর ক্রস থেকে মার্তিনেসের নেওয়া দুর্বল শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে মার্কোস সেনেসি হেড করার চেষ্টা করেন। তবে জর্ডানের নিজার আল-রশদানের বুট সেনেসির মুখে লাগলে ভিএআর এর মাধ্যমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন রেফারি। স্পট কিক থেকে নিখুঁত নিচু শটে গোল করে ব্যবধান ২-০ করেন মার্তিনেস।

বিরতির আগে নিকো পাস ও এসেকিয়েল পালাসিওসরা বেশ কিছু সুযোগ তৈরি করলেও জর্ডানের গোলরক্ষক আবুলাইলার দারুণ কিছু সেভে প্রথমার্ধে আর গোল বাড়েনি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জর্ডানের সমর্থকরা নড়েচড়ে বসেন। আর্জেন্টিনার মাঝমাঠের কিছুটা গাছাড়া ভাবের সুযোগ নিয়ে আক্রমণ শানায় জর্ডান। ম্যাচের অন্যতম সেরা মুহূর্তে জর্ডানের অধিনায়ক এহসান হাদ্দাদ চমৎকার ফুটওয়ার্কে নিকো পাসকে পরাস্ত করে বক্সে ক্রস বাড়ান। বদলি হিসেবে নামা মুসা আল-তামারি চলন্ত বলে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল করে ব্যবধান ২-১ এ নামিয়ে আনেন। সমতায় ফেরার এক বুক আশা নিয়ে গ্যালারির জর্ডান সমর্থকরা তখন উল্লাসে মাতোয়ারা।

ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হতেই স্কালোনি মাঠে নামান মহাতারকা লিওনেল মেসিকে। মার্তিনেসের বদলি হিসেবে মেসি যখন মাঠে প্রবেশ করেন, তখন পুরো স্টেডিয়ামের গগনবিদারী চিৎকারই বলে দিচ্ছিল দর্শক আসলে কী দেখতে এসেছে।

মাঠে নেমেই প্রথম ফ্রি-কিকটি লক্ষ্যভ্রষ্ট করেছিলেন এলএমটেন। তবে গোল থেকে ২২ গজ দূরে যখন দ্বিতীয়বার ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা, ম্যাচের ভাগ্য তখনই লেখা হয়ে গিয়েছিল। মেসির নেওয়া তীব্র গতির শটটি মানবদেয়ালের পাশ দিয়ে অবিশ্বাস্য বাঁক খেয়ে জর্ডানের জালের উপরিভাগে আশ্রয় নেয়। গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা কেবল স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে বলের জালে জড়ানোই দেখলেন।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় জর্ডানের বিপক্ষে সহজ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই জয়ের ফলে আগামী রাউন্ডের জন্য স্কালোনির শিষ্যরা যে পুরোপুরি প্রস্তুত, সেই বার্তাই দিয়ে রাখলো আলবিসেলেস্তেরা।