বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যখন হেক্সা শিরোপার খোঁজে বিশ্বকাপের প্রথম নকআউট ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল, তখন পুরো ফুটবল বিশ্বের চোখ থাকবে একজন মানুষের ওপর, নেইমার জুনিয়র। দীর্ঘ প্রায় ১০০০ দিন পর ইনজুরি কাটিয়ে গত ম্যাচে মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য মাঠে ফেরা এই তারকাকে নিয়ে যখন সমালোচনা আর বিতর্কের শেষ নেই, ঠিক তখনই নেইমারের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়ালেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মহাতারকা ও ব্রাজিলের পঞ্চম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ‘দ্য ফেনোমেনন’ রোনাল্ডো নাজারিও। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক ‘এল ইকুইপ’-কে দেওয়া এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নেইমারকে নিয়ে এক আবেগঘন ও ঝাঁঝালো বার্তা দিয়েছেন এই কিংবদন্তি।
রোনাল্ডো মনে করেন, চোট আর সমালোচনায় জর্জরিত নেইমারের জন্য এই বিশ্বকাপটিই হতে যাচ্ছে নিন্দুকদের মুখে চুনকালি দেওয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা ওকে বিশ্বাস করেনি, যারা ওর শেষ দেখে ফেলেছিল, এই বিশ্বকাপে তাদের সবার মুখ চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার একটা দারুণ এবং আদর্শ সুযোগ রয়েছে নেইমারের সামনে।
নেইমারের বর্তমান চোট ও প্রত্যাবর্তন লড়াইয়ের মাঝে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায়ের মিল খুঁজে পাচ্ছেন ওয়ান ডিরেকশন্যাল এই স্ট্রাইকার। ২০০২ সালের জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপের আগে ভয়াবহ হাঁটুর ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন রোনালদো। তৎকালীন ফুটবল পণ্ডিতরা ধরে নিয়েছিলেন রোনাল্ডোর ক্যারিয়ার শেষ।
কিন্তু সব সংশয় ও সমালোচনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সেই বিশ্বকাপে ৮ গোল করে ব্রাজিলকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানিয়েছিলেন তিনি। সেই সোনালী অতীত স্মরণ করে রোনাল্ডো বলেন, ২০০২ সালে আমিও ঠিক এমন একটা মরণপণ প্রত্যাবর্তন পর্বের মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম। অনেকেই আমার শেষ দেখে ফেলেছিল। তাই আমি নেইমারের মানসিকতা বুঝতে পারছি এবং আমি সম্পূর্ণভাবে ওর পক্ষে আছি।
সাক্ষাৎকারে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের বর্তমান অবস্থান নিয়েও বেশ খোলামেলা কথা বলেছেন রোনাল্ডো। একসময় বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের যে একক রাজত্ব ছিল, তা এখন আর নেই বলে স্বীকার করেছেন তিনি। রোনালদোর মতে, আমরা বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাটি নিয়ে কথা বলছি। এখন পুরো বিশ্বজুড়েই দুর্দান্ত সব ফুটবলার এবং শক্তিশালী দল তৈরি হয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রাজিল হয়তো তার ‘একক ফেবারিট’ তকমাটি হারিয়েছে, কিন্তু এখনও তারা ফুটবলের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবেই বিবেচিত হয়।
তবে তকমা হারালেও ব্রাজিলের ওপর চাপ বা প্রত্যাশা যে বিন্দুমাত্র কমেনি, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, চিরন্তন ফেবারিট হিসেবে ব্রাজিলের ইতিহাস এবং আমাদের সংস্কৃতিতে ফুটবলের শিকড় এতটাই গভীরে প্রোথিত যে, এই দলটির প্রতি ভক্তদের প্রত্যাশা সবসময়ই আকাশচুম্বী থাকে।
রাতে জাপানের বিপক্ষে যদি নেইমার শুরু থেকেই মাঠে নামেন, তবে তা শুধু ব্রাজিলের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটার লড়াই হবে না, বরং রোনাল্ডোর দেখানো পথে নেইমারের এক মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনের নতুন অধ্যায় হবে, যা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে পুরো সাম্বা ভক্তরা!