নাগেলসমানের বিদায়, ক্লপের অপেক্ষায় জার্মানি

টানা তিনবার বিশ্বকাপে ভরাডুবি, জার্মান ফুটবলের জন্য এ যেন এক দুঃস্বপ্নের ধারাবাহিকতা। ২০১৪ সালের বিশ্বজয়ের পর থেকে যেন ছন্দ হারিয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপে প্যারাগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে রাউন্ড অফ ৩২ থেকেই বিদায় নেওয়ার পর জার্মান ফুটবলে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ইয়ুর্গেন ক্লপ।

শুক্রবার জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, জাতীয় দলের নতুন কোচ নিয়োগের জন্য তারা সাবেক লিভারপুল বস ইয়ুর্গেন ক্লপের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে।
Germany Football 01
ডিএফবি’র বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচ জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে মৌখিকভাবে সম্মতি দিয়েছেন। বর্তমানে রেড বুলের ‘গ্লোবাল হেড অফ সকার’ হিসেবে কাজ করা ক্লপ বিশ্বকাপে জার্মান টিভির বিশ্লেষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। জার্মান ভক্তদের কাছে তিনি বর্তমানে কোচ হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় পছন্দ।

এদিকে, প্যারাগুয়ের কাছে হারের পর জুлиয়ান নাগেলসমানের বিদায়টা ছিল অনেকটা নাটকীয়। মাত্র ৩৮ বছর বয়সী এই কোচ শুরুতে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানালেও, দলের বৃহত্তর স্বার্থে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এক বিবৃতিতে নাগেলসমান বলেন, দলের সাফল্যই আমার কাছে সব সময় অগ্রাধিকার পেয়েছে। এমন তিক্ত পরাজয়ের পর দলের জন্য একটি নতুন শুরুর প্রয়োজন ছিল। ২০২২ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও, ডিএফবির সঙ্গে তিন ঘণ্টার এক ম্যারাথন বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে তার বিদায় নিশ্চিত করা হয়।

Germany Football 02
নাগেলসমানের বিদায় নিয়ে ডিএফবি প্রেসিডেন্ট বার্নড নিউয়েনডর্ফ বলেন, নাগেলসমান অত্যন্ত দায়িত্ববান ও আন্তরিক একজন মানুষ। তার কঠোর পরিশ্রম এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তবে তার রক্ষণাত্মক কিংবা কিছুটা বিতর্কিত কৌশলের বিপরীতে ইয়ুর্গেন ক্লপের সরাসরি ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শনের দিকেই ঝুঁকছে জার্মান ফুটবল।

ডর্টমুন্ড এবং লিভারপুলের হয়ে অসামান্য সাফল্য পাওয়া ক্লপ জার্মান ফুটবলের জন্য এক নতুন আশার নাম। তবে বড় টুর্নামেন্টের ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে ক্লপ কতটা কার্যকর হতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ভক্তদের প্রত্যাশা, ক্লপের হাত ধরেই আবারও সেই পুরনো ধারায় ফিরবে 'ডাই ম্যানশাফট'। জার্মানির এই নতুন সূচনায় এখন মাঠের চেয়ে ড্রেসিংরুম আর বোর্ডের আলোচনার টেবিলই হয়ে উঠেছে বেশি উত্তপ্ত।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স