বিশ্বকাপের ঝকঝকে মঞ্চ, চারদিকে তারকার ছড়াছড়ি, এমন পরিবেশে একজন তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের জন্য বেঞ্চে বসে থাকাটা নিশ্চয়ই সহজ নয়। কিন্তু ব্রাজিলের বিস্ময় বালক এনদ্রিক যেন একেবারেই অন্য ধাতুতে গড়া। রিয়াল মাদ্রিদের এই তরুণ স্ট্রাইকার জানালেন, বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত খুব কম সময় মাঠে নামার সুযোগ পেলেও তিনি মানসিকভাবে একদম ‘শান্ত’। আর, এই অটল ধৈর্যের পেছনে আছে কোচ কার্লো আনচেলত্তির প্রতি তার অগাধ আস্থা।
এখন পর্যন্ত হাইতি, স্কটল্যান্ড ও জাপানের বিপক্ষে শুধু বদলি হিসেবে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন এনদ্রিক। কিন্তু কোনো অভিযোগ নেই তার কণ্ঠে। বরং আনচেলত্তিকে নিয়ে তার মূল্যায়ন বেশ চমকপ্রদ। এনদ্রিক বলেন, কার্লো আমার বা অন্য কারো ব্যক্তিগত উন্নতির কথা ভাবছেন না, তিনি ভাবছেন দলের জন্য যা সেরা, সেটাই করবেন। তিনি নির্ভীক, তিনি যা সঠিক মনে করেন তাই করেন। অদ্ভুত বিষয় হলো, যেন স্বয়ং ঈশ্বর তার ওপর নজর রাখছেন, কার্লো যা-ই করেন, তা-ই সফল হয়!
আনচেলত্তির সঙ্গে সম্পর্কের রসায়নটাও বেশ পুরোনো। রিয়াল মাদ্রিদে এনদ্রিকের প্রথম মৌসুমে কোচের ছায়াতলে থেকেই বেড়ে উঠেছেন তিনি। এমনকি চলতি মৌসুমে আনচেলত্তির পরামর্শেই লিঁওতে ধারে খেলতে গিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন এই কিশোর। এনদ্রিক হাসিমুখে জানালেন, কোচ যখনই তাকে মাঠে নামার ইঙ্গিত দেবেন, তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। তার কথায়, আমি এখানে শুধু কোনো অভিজ্ঞতার জন্য আসিনি, আমি এসেছি বিশ্বকে দেখাতে এনদ্রিক আসলে কে।
রোববার নিউ জার্সিতে নরওয়ের বিপক্ষে রাউন্ড অফ সিক্সটিনের হাইভোল্টেজ ম্যাচে তিনি মূল একাদশে থাকবেন কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। তবে, এই অনিশ্চয়তা এনদ্রিকের চোখেমুখে একবিন্দু ভয়ের রেখাও ফেলতে পারেনি। তিনি অকপটে বললেন, আমি একদম শিশুর মতো নিশ্চিন্তে ঘুমাব। ঈশ্বর এবং কোচের ওপর পূর্ণ আস্থা আছে আমার। আমি জানি, সব কিছুর জন্য একটা সঠিক সময় আছে।
ব্রাজিল দলের এই ২৬ সদস্যের সবাই যে সুযোগের অপেক্ষায় অধীর আগ্রহে বসে আছেন, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে, এনদ্রিকের এই পরিণত মানসিকতা আর ঈশ্বরপ্রদত্ত আস্থার জায়গাটি তাকে দলের অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।
মাঠে নামলে নরওয়ের রক্ষণভাগকে কাঁপিয়ে দিতে প্রস্তুত তিনি। এখন দেখার পালা, আনচেলত্তির তুরুপের তাস হিসেবে এনদ্রিক কি পারবে নকআউটের এই অগ্নিপরীক্ষায় নিজের জাত চিনিয়ে ব্রাজিলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে নিতে? ফুটবলপ্রেমীরা এখন সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষাতেই!