বিশ্বজয়ের রাতে ভোজিনহাকে কী বললেন মেসি?

আর্জেন্টিনা বনাম কেপ ভার্দের মধ্যকার বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের  সেই শ্বাসরুদ্ধকর ৩-২ গোলের ম্যাচে গোল ছিল, চরম নাটকীয়তা ছিল, আর ছিল লিওনেল মেসির চিরন্তন জাদুকরী ফুটবল। তবে, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে আফ্রিকার এই ‘আন্ডারডগ’ দলটির মরণপণ লড়াইয়ের অন্যতম এক অবিস্মরণীয় এবং আবেগঘন মুহূর্তের জন্ম হয়েছিল ম্যাচ শেষে, মাঠের ক্যামেরার একেবারে আড়ালে।

টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলেও বিশ্বজুড়ে কোটি ফুটবলপ্রেমীর মন জয় করে নিয়েছে কেপ ভার্দে। ম্যাচ আর্জেনন্টিনা জিতলেও, হারেনি কেপ ভার্দেও। আর, তাদের এই বীরোচিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রধান কাণ্ডারি ছিলেন দলের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা।

Vozinha 03
আর্জেন্টিনার তারকাখচিত আক্রমণভাগের একের পর এক বুলেট গতির শট রুখে দিয়ে পুরো ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের চরম হতাশায় ডুবিয়ে রেখেছিলেন এই বর্ষীয়ান গোলরক্ষক। তিন-তিনটি গোল হজম করলেও পুরো ১২০ মিনিট জুড়ে ভোজিনহা যেভাবে নির্ভীক চিত্তে গোলপোস্ট সামলেছেন, তা এক কথায় রূপকথার মতো। ম্যাচ শেষে গ্যালারির দর্শকদের পাশাপাশি স্বয়ং আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসিও নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের প্রশংসা করা থেকে।

ম্যাচ শেষে ক্যামেরার আড়ালে মেসির সাথে সেই আবেগঘন সাক্ষাতের কথা উন্মোচন করে ভোজিনহা বলেন, খেলা শেষ হওয়ার পর আমি মেসির কাছে গিয়েছিলাম। ও আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল এবং বলল, তুমি সত্যিই অসাধারণ। তোমার দেশের মানুষের তোমাকে নিয়ে গর্ব করা উচিত। মেসির মুখ থেকে এই কথাগুলো শোনা আমার জন্য অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত ছিল।

Vozinha 01
আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবল ঈশ্বরের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পাওয়া যে কত বড় প্রাপ্তি, তা অকপটে স্বীকার করেছেন কেপ ভার্দের এই অতন্দ্র প্রহরী। তিনি যোগ করেন, লিও মেসির মতো একজন মানুষের কাছ থেকে এমন মন্তব্য শোনার পর আমার বুকটা গর্বে ভরে গেছে। আমিও ওকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছি, ‘ধন্যবাদ লিও, তুমিই ইতিহাসের সেরা’।

তবে এই স্মরণীয় মুহূর্তের গল্প এখানেই শেষ হয়নি। ফুটবল ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ভোজিনহা যখন মেসিকে তাঁর ম্যাচ উইনিং জার্সিটি অদলবদল করার অনুরোধ জানান, মেসি হাসিমুখে তাতে রাজি হন।

Vozinha 02
ভোজিনহা সেই মুহূর্তটি রোমন্থন করে বলেন, আমি ওকে জিজ্ঞেস করেছিলাম আমরা জার্সি বদলাতে পারি কি না। লিও পরম মমতায় বলল, ও ইন্টারভিউ শেষ করে টানেলের ভেতরে আমাকে ওর জার্সিটি দিয়ে দেবে। নিজের জীবনের অন্যতম সেরা এই মুহূর্ত নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এই গোলরক্ষক আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং বলেন, এই ধরনের মুহূর্তগুলো মানুষের হৃদয়ে চিরকালের জন্য খোদাই করা থাকে।

আর্জেন্টিনা ম্যাচ জিতে শেষ ১৬-তে পা রাখলেও, কেপ ভার্দে বিশ্বমঞ্চ ছেড়েছে মাথা উঁচু করে। আর বিশ্বসেরা ফুটবলারের কাছ থেকে পাওয়া ভোজিনহার এই অনন্য সম্মান ফুটবল ইতিহাসের পাতায় মাঠের ভেতরের যেকোনো স্কোরের চেয়েও অনেক বেশি উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি-ওলে