বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর লড়াইয়ে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে হট-ফেভারিট ফ্রান্স। তবে, ফিলাডেলফিয়ার মাঠে ম্যাচটি মোটেও সহজ ছিল না, বরং ছড়ালো তীব্র উত্তেজনা ও মাঠের বাইরের চিরন্তন কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি।
লা ব্লুজদের আটকাতে ল্যাটিন আমেরিকার দলটি যে কুৎসিত ও আগ্রাসী ফুটবল খেলেছিল, ম্যাচ শেষে তার কড়া জবাব দিয়েছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়াল মাদ্রিদ মহাতারকা সরাসরি খোঁচা দিয়ে বলেছেন, ফরাসিরা শুধু সুন্দর ফুটবলই খেলে না, পরিস্থিতি বুঝে কীভাবে ‘নোংরা ফুটবল’ খেলতে হয়, তা-ও তাদের বেশ ভালোই জানা আছে!
ম্যাচের ৭০ মিনিটে ডেজিরে দুয়ে’কে ডি-বক্সে প্যারাগুয়ের দিয়েগো গোমেস ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। সেই স্পট-কিক থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে টুর্নামেন্টে নিজের সপ্তম গোলটি তুলে নেন এমবাপ্পে। এই একমাত্র গোলেই শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয় ফ্রান্সের। অথচ এর আগে শেষ ৩২-এর ম্যাচে জার্মানিকে টাইব্রেকারে বিদায় করে আসা প্যারাগুয়ে এদিন শুরু থেকেই ফরাসি তারকাদের ওপর চড়াও হয়েছিল। একের পর এক কড়া ট্যাকল, ফাউল আর সস্তা উসকানি দিয়ে ফরাসিদের ছন্দ নষ্ট করাই ছিল তাদের মূল কৌশল।
ম্যাচ শেষে এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চরম ক্ষোভ ও কড়া রসিকতার মিশেলে এমবাপ্পে বলেন, আমরা জানতাম মাঠে আজ কেমন ম্যাচ হতে যাচ্ছে। আমরা আজ বিশ্বকে দেখিয়েছি ফ্রান্স শুধু আক্রমণাত্মক সুন্দর ফুটবলই খেলে না, দরকারে আমরাও হাত নোংরা করতে (কঠোর ফুটবল খেলতে) পারি। প্যারাগুয়ে ভেবেছিল আমরা বুঝি মাঠে টাক্সিডো স্যুট-টাই পরে হিরোগিরি দেখাতে এসেছি!
এমবাপে আরও যোগ করেন, ওরা ভেবেছিল শুধু সুন্দর ওয়ান-টু পাস আর ফ্যান্সি স্কিল দেখাব। ওরা ভুলে গিয়েছিল, আমরা নোংরা ফুটবল খেলতেও জানি। প্রতিপক্ষের খেলার ধরণকে কটাক্ষ করে তিনি আরও যোগ করেন, ওরা ওদের মতো খেলেছে, আমরা আমাদের মতো। ফুটবলে ভালো বা খারাপ খেলার কোনো ব্যাকরণ নেই, এখানে একটাই শেষ কথা- জয়। ওরা আমাদের যে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল, আমরা উল্টো ওদের সেই ফাঁদেই কুপোকাত করেছি।
অন্যদিকে, ম্যাচের পেনাল্টি আদায়কারী ফরাসি তরুণ ডেজিরে দুয়ে এই ম্যাচটিকে টুর্নামেন্টের বাকি অংশের জন্য এক বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ম্যাচটি শারীরিক দিক থেকে প্রচণ্ড তীব্র এবং ট্যাকলে ঠাসা ছিল। অনেক রুক্ষ খেলা এবং উসকানি ছিল মাঠজুড়ে, তবে আমাদের মাথা ঠান্ডা রাখতে হতো। কিছু জায়গায় আমরা একটু মেজাজ হারিয়েছিলাম, সেখানে আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে। তবে আমরা কাজের কাজটি করতে পেরেছি এবং গোল পেয়েছি, এটাই সবচেয়ে বড় কথা। এই অভিজ্ঞতা আমাদের পরবর্তী বড় ম্যাচগুলোতে দারুণ সাহায্য করবে।
মাঠের এই যুদ্ধংদেহী কন্ডিশন পার হয়ে ফ্রান্স এখন সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। আগামী বৃহস্পতিবার বোস্টনের মাঠে সেমিফাইনালে ওঠার মহালড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে মরক্কোর। এবার ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’দের টেকনিক্যাল ফুটবলের বিরুদ্ধে এমবাপ্পে বাহিনী কোন পোশাকে মাঠে নামবে, সেটাই দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা!