রাতে নিউ জার্সিতে ব্রাজিল-নরওয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ

ব্রাজিলের গৌরবময় ও সমৃদ্ধ বিশ্বকাপ ইতিহাস নিয়ে বিন্দুমাত্র মাথা ঘামাতে রাজি নন উঠতি তারকা মাথেউস কুনিয়া; তাঁর একমাত্র লক্ষ্য এবারের এই বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের এক নতুন সাম্রাজ্য তৈরি করা। হেক্সা বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের মিশন নিয়ে বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে নরওয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল।

ইতালিয়ান গুরু কার্লো আনচেলত্তির অধীনে থাকা এই সেলেসাও দলটি পূর্বের বিশ্বজয়ী দলগুলোর মতো অতটা জাঁকজমকপূর্ণ বা ‘ভিন্টেজ’ না হলেও, ড্রয়ের সহজ অংশে থাকার কারণে অন্তত সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে। তবে, তার আগে রাতে নিউ জার্সির মাঠে তাদের পার করতে হবে নরওয়েজিয়ান বাধা।


Brazil Team 06ম্যাচের আগে ব্রাজিলের পুরনো ইতিহাস নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ফরোয়ার্ড কুনিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমরা আমাদের নিজস্ব ইতিহাস গড়তে চাই এবং ঠিক যেভাবে পূর্ববর্তী প্রজন্ম আমাদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিল, আমরাও সেভাবে সাধারণ ব্রাজিলিয়ানদের মন জয় করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য অনেক বড়, তবে সব কিছুর ঊর্ধ্বে আমরা দেশের মানুষকে গর্বিত করতে চাই। যদি আমাদের এই প্রজন্মকে অমর করে রাখতে হয়, তবে তা জার্সিতে আরেকটি নতুন নক্ষত্র (ষষ্ঠ তারকা) যোগ করার মাধ্যমেই করতে হবে।

ম্যাচের আগে ব্রাজিল শিবিরে বড় ধাক্কা মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতার হ্যামস্ট্রিং চোট, যার কারণে এই ম্যাচে মাঠে দেখা যাবে না তাঁকে। পাকেতার অনুপস্থিতি দলে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে কুনিয়া বলেন, সবকিছু কোচের গেমপ্ল্যানের ওপর নির্ভর করছে। তবে আমরা দিন দিন আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠছি। পাকেতাকে আমরা অবশ্যই মিস করব কারণ মাঝমাঠের রসায়নটা জমে উঠেছিল। এখন কোচ তাঁর জায়গায় কাকে খেলাবেন তা তিনিই ভালো জানেন; আমি এই মুহূর্তে কোচের গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে চাই না!

Norway Team 01
কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে মাঝমাঠে পাকেতার জায়গায় দেখা যেতে পারে দানিলো সান্তোসকে। বার্সেলোনা উইঙ্গার রাফিনিয়া চোট কাটিয়ে অনুশীলনে ফিরলেও আজ রাইট উইংয়ে রায়ানের ওপরই ভরসা রাখছেন আনচেলত্তি। তবে সুখবর হলো ক্যাসেমিরো পুরোপুরি ফিট আছেন।

অন্যদিকে, কাগজে-কলমে নরওয়ে ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে মাঠে নামলেও শুধু একজন আর্লিং হালান্ডের উপস্থিতিই ব্রাজিলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার জন্য যথেষ্ট। টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে পাঁচটি গোল করে ম্যানচেস্টার সিটির এই গোল মেশিন আছেন বিধ্বংসী ফর্মে। শেষ বত্রিশের ম্যাচে আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে দলকে জিতিয়েছিলেন তিনিই। মাঠে হালান্ডের সাথে ব্রাজিলের আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলের ডিফেন্সিভ লড়াইটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।

Brazil Team 05
পরিসংখ্যান কিন্তু ব্রাজিলের পক্ষে খুব একটা সুসংবাদ দিচ্ছে না। বিশ্বকাপে এই দুই দলের একমাত্র দেখা হয়েছিল ১৯৯৮ সালের মার্সেইতে, যেখানে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছিল নরওয়ে। শুধু তা-ই নয়, ২০০২ সালের পর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই নকআউট পর্বে প্রথম কোনো ইউরোপীয় দলের মুখোমুখি হলেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়ার এক অদ্ভুত ‘অভিশাপ’ তাড়া করে বেড়াচ্ছে সেলেসাওদের।

ওলে’র প্রেডিকশন অনুযায়ী, নরওয়ের মাঝমাঠের শারীরিক সক্ষমতা এবং হালান্ডের ফর্মের কারণে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হয়ে টাইব্রেকারের লটারিতে গড়াতে পারে। তবে, সব বাধা পেরিয়ে আনচেলত্তির শীর্ষরা হেক্সার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে পারে কি না, রাতে নিউ জার্সির মাঠেই মিলবে সেই উত্তর!