পেনাল্টি ট্র্যাজেডিতে মুখ খুললেন ভিনিসিয়াস

নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর তৈরি হওয়া চরম বিতর্কের মুখে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন সেলেসাওদের সবচেয়ে বড় পোস্টার বয় ভিনিসিয়াস জুনিয়র। ম্যাচ যখন ০-০ গোলে সমতায়, তখন পেনাল্টি স্পটে রিয়াল মাদ্রিদের এই মহাতারকাকে না দেখে ভুরু কুঁচকেছিলেন কোটি কোটি সাম্বা ভক্ত।

পরবর্তীতে খণ্ডকালীন পেনাল্টি টেকার ব্রুনো গিমারায়েস সেই পেনাল্টি মিস করতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা, কেন ভিনিসিয়াস দায়িত্ব এড়ালেন? ম্যাচ শেষের চরম হতাশার মাঝে ড্রেসিংরুমের সেই গোপন সত্য ও ইতালিয়ান বস কার্লো আনচেলত্তির রণকৌশল ফাঁস করে জলঘোলা করা পরিস্থিতির অবসান ঘটালেন স্বয়ং ভিনি।

Vinícius Júnior 02
সমালোচকদের মুখে ছাই দিয়ে ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পেনাল্টি না নেয়ার সিদ্ধান্তটি তাঁর নিজের ছিল না, ছিল কোচের সরাসরি নির্দেশ। ভিনিসিয়ুস বলেন, আমি কেন পেনাল্টি নিইনি? কারণ এটা ম্যানেজারের সিদ্ধান্ত ছিল। আমি কখনোই লুকিয়ে থাকি না বা নিজের দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাই না।

নিজের অহংকার বা স্বার্থপরতার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা আরও যোগ করেন, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যখনই কোচ আমাকে বলেছেন, আমি পেনাল্টি নিয়েছি। এখানেও আমি কোচিং স্টাফদের তৈরি করা নিয়মকে সম্মান জানিয়েছি। এটা প্রমাণ করে যে আমি স্বার্থপরের মতো আচরণ করিনি বা সস্তা লাইমলাইটের খোঁজে দলের নিয়ম ভাঙিনি।

মাঠের সেই মারাত্মক ভুলের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় যখন ব্রুনো গিমারায়েসকে ধুয়ে দেয়া হচ্ছে, তখন সতীর্থের দিকে বুক চিতিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ভিনিসিয়াস। ব্রুনোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার যেন এই একটি ভুলের জন্য শেষ না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করতে সংহতি জানিয়ে ভিনি বলেন, আমি আশা করি ব্রুনো ব্রাজিল জাতীয় দলের ক্যারিয়ার এই একটি ভুলের জন্য কলঙ্কিত বা থমকে যাবে না।

টুর্নামেন্ট জুড়ে আনচেলত্তির একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে ফুটবল পণ্ডিতেরা কোচের মণ্ডুপাত করলেও, ভিনি কিন্তু তাঁর রিয়াল মাদ্রিদের গুরুর পাশেই দাঁড়াচ্ছেন। আনচেলত্তির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি এমন একজন ম্যানেজার যিনি আমাকে মাঠে প্রচুর আত্মবিশ্বাস দেন। দীর্ঘ ২৪ বছরের খরা কাটাতে এসে খালি হাতে বিদায় নেওয়ার কষ্টটা ছুঁয়ে গেছে ভিনিসিয়ুসকেও।

Vinícius Júnior 01
ব্রাজিলের ‘টরসিডা’ বা পাগল সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে এই তারকা বলেন, আমাদের এখন এই ধাক্কা সামলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমি আমাদের সমর্থকদের কাছে কেবল ক্ষমাই চাইতে পারি, যাঁরা সব সময় আমাদের বিশ্বাস করেছেন এবং পাশে থেকেছেন। এই হতাশাটা অনেক বড়, কারণ সেলেসাওরা অনেক দিন ধরে বড় কিছু জিততে পারছে না।

২০০২ সালের পর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বকাপের ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে পারেনি ব্রাজিল—এই পরিসংখ্যান বর্তমান প্রজন্মের পিঠে এক বিশাল মানসিক চাপ। তবে এই হৃদয়ভঙ্গ থেকেই ভবিষ্যতের নতুন আলো দেখছেন ভিনিসিয়াস। তরুণেরা এই ধাক্কা থেকেই শিক্ষা নিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে আবার বিশ্বমঞ্চের চূড়ায় তুলবে বলে প্রতিজ্ঞা করেন তিনি।

ভিনির হুঙ্কার, আমরা যারা তরুণ খেলোয়াড় আছি, তারা লড়াই চালিয়ে যাব এবং সেলেসাওদের আবার বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে নিয়ে যেতে আমাদের সবটুকু উজাড় করে দেব। সাম্বা ম্যাজিক এই বিশ্বকাপে ফ্লপ হলেও, ভিনির এই পরিণত রূপই এখন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আগামী দিনের আশার আলো।