এই বিশ্বকাপ কোন ফেবারিট নেই: স্কালোনি

ব্রাজিল আর জার্মানির মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা বিদায় নিয়েছে ইতিমধ্যেই। দুরন্ত ফ্রান্সকে কোয়ার্টারে উঠতে পেনাল্টি শুটআউটের লটারি জিততে হচ্ছে, আর স্পেন পার পেয়েছে অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের গোলে! বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই চেনা সমীকরণগুলো ওলটপালট হয়ে যাওয়ার পর অবশেষে মুখ খুললেন চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি। রাত ১০টায় মিশরের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামার আগে সোমবার এক ঠাসা সংবাদ সম্মেলনে স্কালোনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই বিশ্বকাপ কোনো নির্দিষ্ট পাওয়ারহাউস নেই, বরং এখানে কেউ ফেবারিট নয়!

Argentina Messi
গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ দাপটের সাথে জিতলেও, শেষ বত্রিশের ম্যাচে পুঁচকে কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে ঘাম ছুটে গিয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো সেই ম্যাচে ৩-২ গোলের কষ্টার্জিত জয়ের পর আর্জেন্টিনা শিবিরে উদযাপনের চেয়ে স্বস্তিই বেশি ছিল। সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে স্কালোনি বলেন, এই বিশ্বকাপ সবার জন্যই ভীষণ ট্রিকি। আগে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে যেমন পরিষ্কার দু-তিনটি ফেবারিট দল চেনা যেত, এবার তেমন কিচ্ছু নেই। কন্ডিশনও আগের চেয়ে পুরোপুরি আলাদা।

বিশ্বকাপের এই যাচ্ছে তাই পারফরম্যান্সের পেছনে ফুটবলারদের অতিরিক্ত ম্যাচ খেলার ক্লান্তি এবং টুর্নামেন্টের অব্যবস্থাপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন স্কালোনি। ফিফাকে এক হাত নিয়ে তিনি বলেন, খেলোয়াড়েরা মৌসুমে এত বেশি ম্যাচ খেলে এসেছে যে, তাদের পায়ে এখন আর সেই জোর নেই। তাছাড়া দীর্ঘ ভ্রমণ, তীব্র গরম, বাজে পিচ আর মাঠের ঘাস, সব মিলিয়ে বল ঠিকমতো মুভই করছে না! এত প্রতিকূলতার মাঝে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা সত্যিই কঠিন। আর এই কারণেই টুর্নামেন্টের শীর্ষ ৪-৫টি দল তাদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছে না বলে মনে করেন তিনি।

Argentina Team Train
তবে বাকিদের ভরাডুবির মাঝে নিজের দলের পারফরম্যান্সে আপাতত সন্তুষ্ট স্কালোনি। চার ম্যাচের চারটিতেই জেতা আর্জেন্টিনাকে ফুলমার্কস না দিলেও স্কালোনি বলেন, আমাদের পারফরম্যান্স গ্রহণযোগ্য। আমরা চারটা ম্যাচই জিতেছি, এটাই সন্তুষ্ট থাকার বড় কারণ। তবে, জেতার পরেও কিছু জায়গা সব সময়ই ঠিকঠাক করার সুযোগ থাকে।

মিশরের বিরুদ্ধে নামার আগে সালাহদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে স্কালোনি মনে করিয়ে দেন, পায়ের জাদু কাজ না করলে, মেসি-ডি মারিয়ারা মারাদোনার সেই বিখ্যাত ‘আর্জেন্টাইন ডিএনএ’ বা আগ্রাসী চরিত্র বের করে আনবেন। স্কালোনির হুঙ্কার, যখন মাঠে কৌশল কাজ করে না, তখন আমরা আমাদের ডিএনএ’তে থাকা তীব্রতা, জেদ আর লড়াকু মানসিকতা দিয়ে ম্যাচ বের করি। এই দলের সেই চরিত্রটা আছে। ভালো খেলি বা খারাপ—জিততে আমাদের হবেই। কেপ ভার্দের বিরুদ্ধে যদি আমরা ওই চারিত্রিক দৃঢ়তা না দেখাতাম, তবে ব্রাজিলের মতোই আমাদেরও আজ বাড়ি ফিরে যেতে হতো! লাতিন সাম্বার ছন্দ পতন হলেও, স্কালোনির এই কড়া ট্যাকটিক্স আর রূঢ় বাস্তবতাই এখন আর্জেন্টিনাকে টানা দ্বিতীয় ট্রফির স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স