সেই রেফারিকে বিশেষ ফ্লাইটে বাড়ি পাঠানোর দাবি!

আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর মিশরের ক্ষোভ যেন এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েছে! রেফারিং নিয়ে একের পর এক নাটকীয়তার পর এবার বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফার কাছে এক নজিরবিহীন দাবি তুলেছে মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশন।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচ পরিচালনাকারী ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়র এবং তার পুরো রেফারিং টিমকে অবিলম্বে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করে ‘স্পেশাল ফ্লাইটে’ বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে তারা।

afa 2
মিশরীয়দের প্রধান অভিযোগ মূলত দুটি ভিএআর সিদ্ধান্ত নিয়ে। প্রথমত, ম্যাচের একপর্যায়ে মোস্তফা জিকোর এক দুর্দান্ত কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে এমিলিয়ানো মার্টিনেজের মাথার ওপর দিয়ে নেওয়া দর্শনীয় চিপ গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, গোল হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মাঠের অন্য প্রান্তে লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে ফাউল করা হয়েছিল।

দ্বিতীয়ত, ইনজুরি টাইমে এনজো ফার্নান্দেজের জয়সূচক গোলের ঠিক আগমুহূর্তে আর্জেন্টিনার বক্সে মোহামেদ সালাহকে ট্রিপ (ল্যাং) করা হলেও ভিএআর রেফারি নীরব ভূমিকা পালন করেন।

afa 5
মিশরীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হানি আবু রিদা ফিফার কাছে জমা দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগে সরাসরি ‘দ্বিমুখী নীতি’ এবং ‘বৈষম্যের’ গুরুতর অভিযোগ এনেছেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়রের মারাত্মক সব ভুল এবং দ্বিমুখী নীতির কারণে মিশরকে ম্যাচটি হারতে হয়েছে এবং বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রিভিউ না করার পেছনে ম্যাচ অফিশিয়ালদের একগুঁয়েমি স্পষ্ট ছিল। আমরা এই গুরুতর ভুলের তদন্ত সাপেক্ষে রেফারি এবং তার পুরো ক্রু-কে বিশ্বকাপ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি। মিশরের বিরুদ্ধে এটি ছিল একটি সুস্পষ্ট বৈষম্যের অপরাধ।

afa 3
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে রাগে-ক্ষোভে ফেটে পড়েন মিশরের কোচ হোসাম হাসান। ফিফা এবং রেফারিরা মিলে আর্জেন্টিনাকে জোর করে কাপ জেতাতে চাইছে বলে বিস্ফোরক দাবি করে তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপটি পুরোপুরি আর্জেন্টিনার জন্য পূর্ব-নির্ধারিত! আমরা মাঠে ফেয়ার প্লে দেখিনি। আমাদের একটি বৈধ গোল বাতিল করা হলো, সালাহকে ফাউল করার পরও পেনাল্টি চেক করার প্রয়োজন মনে করল না ভিএআর। মাঠের ভেতর রেফারির ওপর আর্জেন্টাইনদের চাপ স্পষ্ট ছিল।

বিধাতার ওপর ভরসা রেখে অত্যন্ত আবেগপ্রোভ হয়ে হাসান আরও বলেন, পৃথিবীটা আসলেই নিষ্ঠুর ও অন্যায়কারী। কিন্তু খেলাধুলাতেও কেন কোনো ন্যায়বিচার থাকবে না? রেফারি চরম অবিচার করেছেন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক। একজন রেফারি এসে পুরো একটা জাতির চার বছরের পরিশ্রম এক নিমেষে ধুলোয় মিশিয়ে দিলেন!

Egypt Protest 01
দলের তারকা খেলোয়াড় মোস্তফা জিকোও কোচের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন। কানাডিয়ান ব্রডকাস্টার 'টিএসএন'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিকো কিছুটা উপহাসের সুরেই বলেন, রেফারি যা করেছেন তা কোনোভাবেই ফেয়ার ছিল না, এটি দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। আমরা ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও আমাদের কিছু করার ছিল না। মিশরের মানুষের কাছে আমরা ক্ষমা চাচ্ছি, আমরা আপনাদের মুখে হাসি ফোটাতে চেয়েছিলাম কিন্তু রেফারির কারণে তা পারলাম না। যা হোক, আর্জেন্টিনাকে তাদের ‘দ্বিতীয়’ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য আগাম অভিনন্দন!