এমবাপের তান্ডবে মরক্কোকে উড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের সেমিতে ফ্রান্স

বোস্টনের জিলেট স্টেডিয়ামে ৬৩ হাজারের বেশি দর্শকের গগনবিদারী চিৎকারের সামনে ইতিহাস আবার নিজেকে পুনরাবৃত্তি করল! চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মরক্কোকে যেভাবে কাঁদিয়েছিল ফ্রান্স, ঠিক একই চিত্রনাট্যে শুক্রবার উত্তর আমেরিকার মাটিতেও অ্যাটলাস লায়নসদের ২-০ গোলে বিদায় করে সেমিফাইনালের টিকিট কেটে নিল দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা। আর এই মহাকাব্যিক জয়ের মহানায়ক আর কেউ নন- কিলিয়ান এমবাপে! প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিসের খলনায়ক থেকে এক ঘণ্টার মাথায় অতিমানবীয় গোলে এক নিমেষে তিনিই বনে গেলেন ম্যাচের ত্রাণকর্তা।

France Win 02
ম্যাচের ২৫ মিনিটে এক কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে এমবাপ্পেকে বক্সের ভেতর নুসাইর মাজরাউই ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু মরক্কোর দেয়াল খ্যাত গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো এমবাপের দুর্বল শটটি অনায়াসে আটকে দিলে স্তব্ধ হয়ে যায় ফরাসি শিবির।

তবে এমবাপ্পে যে সাধারণ কোনো মানব নন, তা প্রমাণ করতেই যেন ম্যাচের ৬০ মিনিটে জাদুকরী রূপ দেখালেন। দেসিরে দুয়ের পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে থেকে মরক্কোর ডিফেন্ডার ইসা দিওপকে স্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করে এমন এক বাঁকানো শট নিলেন, যা বুনোকে পরাস্ত করে জালে জড়িয়ে যায়। এই গোলের মাধ্যমে টুর্নামেন্টে নিজের ৮ম গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে আবারও লিওনেল মেসির পাশে গিয়ে বসলেন রিয়াল মাদ্রিদ মহাতারকা।

France Win 03
বিশ্বকাপের মঞ্চ মানেই এমবাপের রুদ্ররূপ। সেনেগাল, ইরাক, সুইডেন এবং প্যারাগুয়ের পর এবার মরক্কোকেও নিজের গোল শিকারের তালিকায় যোগ করলেন তিনি। মাত্র ১০৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা এখন ৬৪। আরও আশ্চর্যের বিষয় হলো, মাত্র ২০টি বিশ্বকাপ ম্যাচে এমবাপ্পের গোল এখন ২০টি! তিনি এখন বিশ্বকাপে মেসির করা সর্বোচ্চ ২১ গোলের অলটাইম রেকর্ড ছোঁয়ার থেকে মাত্র এক ধাপ দূরে।

France Win 07
তবে ম্যাচের শেষ দিকে ফরাসি সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে মাঠ ছাড়েন এমবাপে। ডাগ আউটে বসে ডান পায়ের গোড়ালিতে বরফের ব্যাগ জড়িয়ে ম্যাচ উপভোগ করতে দেখা যায় তাঁকে। যদিও মাঠ ছাড়ার আগেই নিজের দায়িত্ব পুরোপুরি সেরে গিয়েছিলেন তিনি। ৬৬ মিনিটে এমবাপের চমৎকার পাস থেকেই ব্যালন ডি’অর জয়ী উসমান দেম্বেলে বল নিয়ে দৌড়ে গিয়ে নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে ফ্রান্সের ২-০ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করেন। চলতি বিশ্বকাপে দেম্বেলের এটি পঞ্চম গোল।

ইনজুরির কারণে মাঝমাঠের সেরা তারকা ইসমায়েল সাইবারিকে ছাড়া মাঠে নামা মরক্কো প্রথমার্ধে ফ্রান্সকে বেশ ভালোই চেপে ধরেছিল। বিশেষ করে প্রথমার্ধে বুনোর দুর্দান্ত কিছু সেভ এবং লুকাস দিনিয়ের একটি শট বারে লেগে ফিরে আসলে গোলশূন্যভাবে শেষ হয় প্রথমার্ধ।

France Win 05
ফ্রান্সের রক্ষণভাগের কড়া পাহাড়ায় মরক্কোর আক্রমণভাগ ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগলেও, সাবেক ফ্রান্স অনূর্ধ্ব-২১ দলের অধিনায়ক আইয়ুব বুয়াদ্দির মতো তরুণ প্রতিভারা জানান দিয়েছেন যে আফ্রিকার এই পরাশক্তি ফুরিয়ে যায়নি। ২০৩০ সালে স্পেন ও পর্তুগালের সাথে যখন মরক্কো যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে, তখন তারা বিশ্বমঞ্চে আরও ভয়ঙ্কর দল হয়ে উঠবে।ৱ

টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার খুব কাছে চলে যাওয়া ফ্রান্স আগামী মঙ্গলবার ডালাসে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে স্পেন অথবা বেলজিয়ামের। দীর্ঘ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা কিংবদন্তি কোচ দিদিয়ের দেশমের বিদায়বেলায় ফরাসিরা কি পারবে আরও একটি বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় তুলতে? এমবাপের পায়ের ধার বলছে, অসম্ভব কিছুই নয়!

তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও এএফপি