মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর ফরাসি শিবিরে আনন্দের বন্যা বয়ে গেলেও, একটি কাঁটা খচখচ করছে খোদ অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের মনে। ম্যাচের স্কোর যখন ০-০, তখন পেনাল্টি মিসের সেই তেতো স্বাদ রিয়াল মাদ্রিদ মহাতারকা এখনো ভুলতে পারছেন না। যদিও পরবর্তীতে এক জাদুকরী গোল এবং উসমান দেম্বেলের গোলে অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজেই নিজের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করেছেন, তবুও মাঠের সেই নাটকীয় মুহূর্ত নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন ফরাসি ফুটবলের এই ‘পোস্টার বয়’।
পেনাল্টি শট নেয়ার আগের সেই বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি নিয়ে এমবাপ্পে সরাসরি আঙুল তুলেছেন রেফারির ম্যাচ পরিচালনার ধরনের ওপর। সাধারণত পেনাল্টি নেয়ার আগে গোলরক্ষকরা মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলেন; যেমনটা আগের ম্যাচে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল এমবাপের পিঠে বল ছুড়ে মেরে সস্তা সস্তা ট্রিকস খাটিয়েছিলেন, আর এমবাপেও তাঁকে এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু এবার মরক্কো ম্যাচে এমবাপের মনঃসংযোগ নষ্ট করার কাজটি স্বয়ং রেফারিই করে বসেছেন বলে দাবি ফরাসি অধিনায়কের!
পেনাল্টি মিসের পেছনের সেই ইনসাইড স্টোরি ফাঁস করে এমবাপ্পে বেশ চনমনে এবং ক্ষোভমিশ্রিত কণ্ঠে বলেন, আমি পেনাল্টি শটটি সত্যিই খুব বাজেভাবে নিয়েছিলাম। কিন্তু তখনকার পরিস্থিতি এত গোলমেলে ছিল যে, মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন ছিল। দেম্বেলে যখন আমার হাতে বল এনে দিল, আমি ঠিক তখনই শটের জন্য নিজেকে ফোকাস করতে শুরু করি। ঠিক সেই মুহূর্তে রেফারি আমার কাছে এসে বললেন, কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি!
রেফারির এই আকস্মিক মন্তব্যে পুরোপুরি ভড়কে যান এমবাপ্পে। তিনি আরও যোগ করেন, রেফারির ওই কথাটি আমাকে মারাত্মকভাবে মনোযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। পেনাল্টি নেয়ার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত হওয়ার জন্য আমি মাথায় অনেক রকম পরিস্থিতির ছক কষে রাখি, কিন্তু রেফারির এমন আচরণ এবং এই অদ্ভুত পরিস্থিতির মুখোমুখি আমি ক্যারিয়ারে আগে কখনো হইনি। মাঠের ভেতর এমবাপের সেই হতাশা এবং রেফারির কাছে করা তীব্র প্রতিবাদই বলে দিচ্ছিল, মাঠের সেই নাটকে তিনি কতটা বিরক্ত ছিলেন।
পেনাল্টি নেওয়ার আগের এই দীর্ঘ সময় নষ্ট এবং রেফারির সিদ্ধান্তহীনতা নিয়ে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ফ্রান্সের অভিজ্ঞ কোচ দিদিয়ের দেশমও। ডাগআউটে দাঁড়িয়েই রেফারির ওপর চটে যাওয়া এই মাস্টারমাইন্ড বলেন, আমার যতটুকু মনে পড়ে, প্রথমে ভিএআর রিভিউ দেখে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু এরপর ফাউল হয়েছে কিনা তা পুনরায় চেক করার জন্য আবার কল আসে। তারা মনিটরের সামনে দাঁড়িয়ে প্রায় দুই মিনিট ধরে ফুটেজ রিভিউ করছিল! এই দীর্ঘ দোলাচল আর অনিশ্চয়তাই মূল সমস্যার সৃষ্টি করেছে। আসল কথা হলো, পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হতে বড্ড বেশি সময় লেগেছিল, অথচ কিলিয়ান তার অনেক আগেই শট নেয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
কোচ দেশম অবশ্য শিষ্যের হয়ে সাফাই গাইতে চাননি, তবে রেফারিংয়ের এই গলদ নিয়ে বেশ রসালো এক খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, আমি কিলিয়ানের হয়ে কোনো অজুহাত দাঁড় করাচ্ছি না, তবে এটা যে কোনো ফুটবলারের জন্যই অত্যন্ত কঠিন এবং একটা বাজে পরিস্থিতি ছিল, তা বলাই বাহুল্য। পেনাল্টির এই মহা-নাটক পার হয়েও ফ্রান্স যেভাবে ম্যাচ বের করে নিয়েছে, তা-ই এখন ফরাসি ভক্তদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর।
তথ্যসূত্র: মারকা