ব্রাজিল সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন ভিনিসিয়াস

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পর অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন দলের প্রাণভ্রমরা ভিনিসিয়াস জুনিয়র। সেলেসাও সমর্থকদের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিজের ভেতরের তীব্র হতাশার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ মহাতারকা। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিলকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ায় হেক্সা জয়ের জন্য সাম্বার দেশকে এখন অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ দীর্ঘ ২৮ বছর অপেক্ষা করতে হবে!

এবারের বিশ্বকাপে চোটের অভিশাপ ব্রাজিলকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছিল। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই রদ্রিগো এবং এস্তেভাওয়ের মতো দুই প্রধান অস্ত্র ছিটকে যান। এরপর আসর চলাকালীন রাফিনহা ও লুকাস পাকেতাও ইনজুরির খাতায় নাম লেখান। এমন ধ্বংসস্তূপের মাঝে পুরো দেশের চাপ একা কাঁধে নিয়েছিলেন ভিনিসিয়াস। ৫ ম্যাচে ৪টি গোল আর ১টি অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের সেরাটা দিলেও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। নরওয়ের বিরুদ্ধে হারের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়া ভিনিসিয়ুস সোশ্যাল মিডিয়ায় এক আবেগঘন পোস্টে ভক্তদের উদ্দেশে নিজের মনের কথা উগরে দিয়েছেন।

Vinícius Júnior 01
ইনস্টাগ্রামে ভিনিসিয়াস জুনিয়র লিখেছেন, প্রায় চার বছর পর, একটি বিশ্বকাপ বিপর্যয়ের পর আবারও আমাকে ভাবতে হচ্ছে কী লিখব। সব বয়সী লাখ লাখ মানুষকে আমাদের স্বপ্নকে ভালোবেসে সমর্থন দিতে দেখেছি, তাই এখন চুপ করে থাকাটা অন্যায় হবে। তবে নিজের মনকে শান্ত করতে আমার কয়েকটা দিন সময় লেগেছিল।

জাতীয় দলের জার্সি পরাকে জীবনের সবচেয়ে বড় গৌরব উল্লেখ করে ভিনি বলেন, বিশ্বকাপের শেষ ১৬ থেকে এভাবে বিদায় নেয়াটা কতটা কষ্টের, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমি জানি আমি কতটা কঠোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কতটা ফোকাস ছিলাম। এই হতাশার মাত্রা বিশাল। আমাদের দলটা আরও অনেক দূর যাওয়ার মতো শক্তিশালী ছিল, কিন্তু আমরা তা পারিনি। আমি সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে পৌঁছানোর এই লড়াইয়ে আমি আবারও নিজেকে উজাড় করে দেব।

ব্রাজিলের এই আকস্মিক ও লজ্জাজনক বিদায়ে মাঠের বাইরে ব্যাপক শোরগোল তৈরি হলেও, হেড কোচ কার্লো আনচেলত্তির চাকরি নিয়ে কোনো টানাটানি হচ্ছে না। ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ডের ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছে।

Brazil Vini 01
ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের জাতীয় দলের সমন্বয়কারী রদ্রিগো কায়েতানো সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, এখন আমাদের কাজ হলো শান্ত মাথায় একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা সাইকেল এগিয়ে নেয়া। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত কোচের সাথে আমাদের কাজ চলবে, শুধু দলের ভেতরে প্রয়োজনীয় কিছু রদবদল করা হবে। আগামী বিশ্বকাপের জন্য সেরা প্রস্তুতি নিতে আমাদের এই মুহূর্তে ন্যূনতম শান্ত পরিবেশটুকু প্রয়োজন।

সেলেসাও শিবিরে এখন চরম হতাশা ও কান্নার রোল থাকলেও ভিনির এই ঘুরে দাঁড়ানোর হুংকার আর আনচেলত্তির অধীনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আগামী দিনে সাম্বা ম্যাজিক ফেরাতে পারে কিনা, সেটাই এখন কোটি ভক্তের দেখার বিষয়!