হালান্ড-কেইন দ্বৈরথকে পাত্তাই দিচ্ছেন না নরওয়ের কোচ

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে শনিবার রাত ৩টায় মিয়ামির তপ্ত আবহাওয়ায় মুখোমুখি হতে যাচ্ছে নরওয়ে এবং ইংল্যান্ড। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় এই মহাযুদ্ধের আগে মাঠের বাইরের মনস্তাত্ত্বিক লড়াই জমে ক্ষীর! ইংল্যান্ডের ওপর সব চাপ ঠেলে দিয়ে নরওয়ের হেড কোচ স্টেল সোলবাকেন সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, চাপ যা নেওয়ার তা থমাস টুখেলের ইংল্যান্ডই নিক, তাঁর দল মাঠে নামবে একদম ফুরফুরে মেজাজে। একই সাথে এই ম্যাচটিকে শুধু ‘হ্যারি কেন বনাম আর্লিং হালান্ড’ দ্বৈরথ হিসেবে দেখতে নারাজ এই নরওয়েজিয়ান মাস্টারমাইন্ড।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর (১৯৯৮ সালের পর) বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটে ইতিমধ্যে ইতিহাস গড়েছে নরওয়ে। নক-আউট পর্বে আইভরি কোস্ট এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বিদায় করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে তারা। অন্যদিকে মেক্সিকোর এস্তাদিও আজতেকাতে ৩-২ ব্যবধানে এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে শেষ আটে আসলেও ইংল্যান্ড শিবিরে ইনজুরির মিছিল। মার্ক গুয়েহি, ডেক্লান রাইস এবং রিস জেমসদের মতো তারকাদের খেলা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা থমাস টুখেলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রতিপক্ষের এই নাজুক অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে সোলবাকেন বলেন, ইংল্যান্ডের ওপর চাপ আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তবে আমরা আমাদের পারফরম্যান্সের ওপর জোর দিচ্ছি। খেলা শুরু হলে প্লেয়াররা চাপের কথা ভাবে না। মাঠে খেলাটা ১১ বনাম ১১ জনেরই হবে।

মিয়ামির এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে পুরো নরওয়ে জাতি গত তিন সপ্তাহ ধরে এক অবিশ্বাস্য ফুটবল উৎসবে ভাসছে। কোচের সুরেই সুর মিলিয়ে দলের প্রধান গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডও মিডিয়ার সামনে বেশ রসিয়ে চনমনে এক খোঁচা মেরেছেন। থ্রি-লায়ন্সদের কোণঠাসা করতে হালান্ড বলেন, টুর্নামেন্টে কিছু স্পষ্ট ফেভারিট দল আছে, ইংল্যান্ড তাদের মধ্যে অন্যতম। তাই আপনাদের (মিডিয়া ও ভক্তদের) উচিত সব মানসিক চাপ এই ইংল্যান্ডের ছেলেদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া!

Haaland 01
চলতি বিশ্বকাপে হালান্ড ৭টি গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে যেখানে টগবগ করছেন, সেখানে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেনের গোলসংখ্যা ৬টি। এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত কার গোল করার দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে- কেন নাকি হালান্ড? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সোলবাকেন বেশ বুদ্ধিদীপ্ত উত্তর দেন, এটি মূলত নরওয়ে বনাম ইংল্যান্ডের লড়াই। তবে, এটা কোনো গোপন বিষয় নয় যে, কেন ইংল্যান্ডের এক নম্বর ম্যাচ উইনার এবং আর্লিং আমাদের জন্য ঠিক তাই।

শনিবার মিয়ামির কিচ-অফ টাইমে তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এই তীব্র তাপদাহ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে মস্ত বড় ফ্যাক্টর হতে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে খেলোয়াড়দের এনার্জি ধরে রাখতে দুই দলই বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল বেছে নেবে বলে ধারণা কোচের।

তীব্র গরমের প্রস্তুতি নিয়ে সোলবাকেন বলেন, আমরা খুব হালকা অনুশীলন করছি, একদমই গা ঘামানো কঠোর পরিশ্রম নয়। ট্যাকটিক্যাল সেশনগুলো হচ্ছে খুব ধীর গতিতে। আমাদের মূল লক্ষ্য শনিবারের ম্যাচে ফুটবলারদের সতেজ রাখা। মিয়ামির এই আবহাওয়ায় পুরোটা সময় বলের পেছনে দৌড়ানো অত্যন্ত ক্লান্তিকর হবে। তাই মাঠের ভেতরে বল নিজেদের দখলে রাখার এক অন্যরকম যুদ্ধ চলবে। যে দল বল পায়ে রাখতে পারবে না, তাদের জন্য ম্যাচটি নরক গুলজার হয়ে উঠবে! ভাইকিংদের এই হুংকার আর টুখেল-শিবিরের ইনজুরি আতঙ্ক শনিবারের মিয়ামি থ্রিলারকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা দেখতেই এখন বুঁদ পুরো ফুটবল বিশ্ব।