মায়ামির লোহা গলানো গরম আর অতিরিক্ত সময়ের রুদ্ধশ্বাস নাটক পার করে ইংল্যান্ড যখন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পা রাখল, তখন ফুরফুরে মেজাজে হুংকার ছাড়লেন থ্রি-লায়ন্সদের মাস্টারমাইন্ড থমাস টুখেল। ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং সহ-আয়োজক মেক্সিকোকে বিদায় করার পর, শনিবার জুড বেলিংহামের জাদুকরী জোড়া গোলে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে ধুলো খাইয়েছে ইংল্যান্ড।
আর এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর বুধবারে আটলান্টার সেমিফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে টুখেল বেশ রসিয়ে বলেছেন, মেসির আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে এই মহারণে ইংল্যান্ডকে নেতৃত্ব দেওয়ার চেয়ে রোমাঞ্চকর জায়গা পুরো পৃথিবীর আর কোথাও হতে পারে না!
স্যার গ্যারেথ সাউথগেটের এই হাই-প্রোফাইল উত্তরসূরি নক-আউটের এই চরম স্নায়ুযুদ্ধ উপভোগ করছেন জানিয়ে বলেন, পরিস্থিতি বড্ড তীব্র! তবে আমি এটা দারুণ উপভোগ করছি। এই বিশেষ মুহূর্তগুলোতে আমি নিজেকে পুরোপুরি জীবন্ত মনে করি। বিশেষ করে ম্যাচ শুরুর আগের শেষ ২-৩ মিনিট, যখন সব প্রস্তুতি শেষ করে দল নিয়ে মাঠে নামি, তখনকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এই মুহূর্তে পুরো বিশ্বের অন্য কোনো প্রান্তে আমি থাকতে চাই না।
তবে, প্রতি তিন-চার দিন পর পর নক-আউটের এই মরণ-বাঁচন ম্যাচ খেলাকে এক চরম ‘ইমোশনাল রোলার কোস্টার’ বলেও স্বীকার করেছেন তিনি।
মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে নরওয়েকে বধ করার পর আর এক মুহূর্ত সময় নষ্ট না করে রাতেই চার্টার্ড ফ্লাইটে কানসাস সিটিতে উড়ে এসেছে পুরো ইংলিশ দল। কাকতালীয়ভাবে, তাদের সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনাও বর্তমানে কানসাস সিটিতেই তাদের বেস ক্যাম্প গেড়েছে। মায়ামির চড়া তাপমাত্রা আর আর্দ্রতায় ফুটবলারদের শরীরী ভাষা বেশ ক্লান্ত দেখালেও, টুখেল স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় দুটি ম্যাচের আগে ক্লান্তি একপাশে সরিয়ে রাখতেই হবে।
ইংলিশ বস বলেন, ওদের সতেজ হতেই হবে, এনিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। এখন অনুশীলনের মাত্রা একদম কমিয়ে শুধু দ্রুত শরীর রিকভার করার ওপর জোর দেওয়া হবে। টুর্নামেন্টের শেষ আটটি দিন অল-আউট আক্রমণ করার জন্য সবাই তৈরি। আগামী তিন দিন আমাদের জন্য ক্রুশিয়াল। আমাদের আরেকটি ফ্লাইট রয়েছে, তবে নরওয়ের বিরুদ্ধে এই জয় এবং জয়ের ‘ফিল গুড’ ফ্যাক্টর আমাদের মানসিকভাবে অনেক চাঙ্গা রাখবে।
আটলান্টার জাঁকজমকপূর্ণ মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে লিওনেল মেসি অ্যান্ড কোম্পানির বিরুদ্ধে নামার আগে ইংল্যান্ড শিবিরের চিন্তার ভাঁজ অবশ্য পুরোপুরি কাটেনি। মেক্সিকো ম্যাচে লাল কার্ড দেখার কারণে ডিফেন্ডার জ্যারেল কোয়ানসা এই ম্যাচেও তাঁর দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটাচ্ছেন। চোট কাটিয়ে রিস জেমসের মাঠে ফেরাটা স্বস্তির হলেও, প্রথমার্ধের পরই দলের অন্যতম প্রধান ভরসা ডেক্লান রাইসকে তুলে নেয়া এবং এজরি কোনসার অস্বস্তি টুখেলের কপালে কিছুটা চিন্তার রেখা ফুটিয়েছে।
রাইসকে প্রথমার্ধেই তুলে নেয়ার ‘ইনসাইড স্টোরি’ ফাঁস করে টুখেল ব্যাখ্যা দেন, মায়ামির তীব্র গরমে এজরি কোনসা ক্র্যাম্প এবং হ্যামস্ট্রিংয়ের সমস্যায় ভুগছিল। আর ডেক্লান রাইসের ক্ষেত্রে, বিগত তিন দিন ধরে ও জ্বরে প্রায় বিছানায় পড়ে ছিল।
টুখেল বলেন, আমি জানতাম ও কোনোভাবেই পুরো ৯০ মিনিট খেলতে পারবে না। যেহেতু ম্যাচটি ১২০ মিনিটে (এক্সট্রা টাইম) যাওয়ার একটা বড় সম্ভাবনা ছিল, তাই আমি পরে অতিরিক্ত সাবস্টিটিউশন নষ্ট করতে চাইনি। সে কারণেই রাইসের যতটুকু ক্ষমতা ছিল, তার আগেই তাকে তুলে নিয়ে ট্যাকটিক্যাল চাল চালি, যেন ম্যাচের শেষের দিকে আমাদের ওপর বাড়তি কোনো চাপ না আসে।
এখন দেখার বিষয়, রোববারের পূর্ণ বিশ্রামের পর টুখেলের থ্রি-লায়ন্সরা কতটা চনমনে হয়ে বুধবারের মহাযুদ্ধে মেসির আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দী করতে পারে!