এমবাপেদের যে কৌশলে আটকে রাখতে চায় স্পেন

ডালাসের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। রাত ১টায় যখন ফ্রান্স আর স্পেন মাঠের লড়াইয়ে নামবে, তখন ফরাসি ড্রেসিংরুমে কিলিয়ান এমবাপে, মাইকেল অলিসে, উসমান দেম্বেলে এবং ডেজিরে দুয়ে কিংবা ব্র্যাডলি বারকোলার মতো একঝাঁক ‘চিতাবাঘ’ দেখে যে কোনো প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের রাতে ঘুম হারাম হওয়ার কথা। কিন্তু স্প্যানিশ শিবিরে ভয়ের কোনো বালাই নেই! ফরাসিদের বিধ্বংসী আক্রমণভাগকে রুখতে স্পেন এক অভিনব মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত ছক কষেছে। তাদের সহজ কথা, এমবাপেরা আমাদের আক্রমণ করবে কী, আমরাই বল পায়ে রেখে ওদের দম আটকে দেব!

স্পেনের তারকা উইঙ্গার অ্যালেক্স বানো সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ফরাসিদের ভয়ংকর আক্রমণভাগকে যথেষ্ট সম্মান করলেও শুদুই রক্ষণাত্মক হয়ে ঝড়ের অপেক্ষা করবেন না। বানোর ভাষায়, ওদের আক্রমণভাগের চারজন দুর্দান্ত ফর্মে আছে এবং আমাদের অবশ্যই ওদের ওপর কড়া নজর রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য থাকবে উল্টো, যাতে ওরা আমাদের আটকানো নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে, আমরা ওদের নিয়ে নয়!

Spain Team 03
বানো স্পষ্ট করে দিয়েছেন, স্পেনের আসল শক্তিই হলো বল নিজেদের পায়ে রাখা। যত বেশি সময় বল স্পেনের পায়ে থাকবে, ফ্রান্স আক্রমণ করার সুযোগ তত কম পাবে। অর্থাৎ ‘বল পজেশন’-ই হতে যাচ্ছে স্পেনের প্রধান রক্ষণব্যূহ। অতীতে ইউরো এবং নেশনস লীগের সেমিফাইনালে দিদিয়ের দেশমের ফ্রান্সকে এই কৌশলেই চাটনি বানিয়েছিল স্প্যানিশরা। তবে বানো এটাও মনে করিয়ে দিয়েছেন, অতীত ইতিহাস আজকের ম্যাচে কোনো ট্যাকল করতে আসবে না; প্রতিটা ম্যাচই এক নতুন যুদ্ধ।

মাঠের এই ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধ ছাড়াও স্পেনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ফিফার এক অদ্ভুত ভ্রমণ সূচি বা ট্রাভেল শিডিউল! কিলোমিটারের হিসাবে ফ্রান্সের চেয়ে প্রায় ১৬,০০০ কিলোমিটার বেশি পথ পাড়ি দিতে হয়েছে স্পেনকে। গ্রুপ পর্বে স্পেন ঘাঁটি গেড়েছিল টেনেসি অঙ্গরাজ্যের চ্যাটানুগায়, যেখানে বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে, প্রতিটা ম্যাচের জন্য তাদের তিনটি ভিন্ন টাইম জোনে আকাশপথে উড়তে হয়েছে। অন্যদিকে, ফরাসি দল পুরো টুর্নামেন্টে বোস্টনে নিজেদের বেস ক্যাম্পে আয়েশ করেছে এবং আজই প্রথম তারা ইস্টার্ন টাইম জোনের বাইরে খেলতে নামছে!

France Team 03
ভ্রমণের এই অমানুষিক ধকল নিয়ে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার পেড্রো পোরো অবশ্য ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করে বলেছেন, বাইরে থেকে হয়তো এটাকে বিশাল ধকল মনে হচ্ছে, কিন্তু পেশাদার হিসেবে আমরা এটায় অভ্যস্ত এবং রিকভারি করার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছি।

তবে পোরোর চেয়ে অনেক বেশি অকপট ছিলেন বানোর। তিনি স্বীকার করেছেন, এত বেশি যাতায়াতের কারণে আমরা কিছুটা ক্লান্ত, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। টুর্নামেন্টের এই শেষ প্রান্তে এসে এই ধকলটা শরীরে একটু আধটু লাগেই। তবে ফাইনালে ওঠার উত্তেজনা ও ইচ্ছাশক্তির সামনে এই ক্লান্তি উবে যাবে।

১৬ হাজার কিলোমিটারের ক্লান্তি পায়ে নিয়ে স্পেনের তিকিতাকা ফুটবল কি আজ এমবাপেদের হাই-স্পিড কাউন্টার অ্যাটাককে বোতলবন্দী করতে পারবে? নাকি ড্যালাসের মাটিতে ফরাসিদের সতেজ বারুদ পুড়িয়ে খাক করে দেবে স্প্যানিশ নবাবদের? কোটি কোটি ফুটবল ভক্ত এখন সেকেন্ড গুনছেন সেই মহাজাগতিক লড়াইয়ের বাঁশি শোনার জন্য!

তথ্যসূত: রয়টার্স