ইয়ামালদের সমীহ করলেও ভয় পায় না ফরাসিরা!

মঙ্গলবার ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে যখন ফ্রান্স ও স্পেন মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন দুই শিবিরের স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে। স্পেনের অপরাজিত রেকর্ড আর টুর্নামেন্টের সেরা ডিফেন্স নিয়ে ফুটবল বিশ্বে যতই মাতামাতি হোক না কেন, ফরাসি ড্রেসিংরুমে ভয়ের কোনো লেশমাত্র নেই। সংবাদ সম্মেলনে এসে ফ্রান্সের তারকা ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে এবং ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্স জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেনের শক্তিকে তারা সমীহ করলেও বিশ্বমঞ্চে ফরাসিরা কাউকে ভয় পাওয়ার পাত্র নয়!

ইতিহাস বলছে, ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং গত বিশ্বকাপের রানার্স-আপ ফ্রান্স খুব ভালো করেই চেনে এই স্পেনকে। কারণ ২০২৪ সালের ইউরো কাপের সেমিফাইনাল এবং গত বছরের উয়েফা নেশনস লীগের শেষ চারেও এই স্প্যানিশদের কাছেই লাথি খেয়ে বিদায় নিতে হয়েছিল দিদিয়ের দেশমের দলকে। সেই পুরনো ক্ষতে নুনের ছিটা দিয়ে লিভারপুলের ফরাসি ডিফেন্ডার কোনাতে বলেছেন, ফুটবলে কাউকে ভয় পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আমাদের সেরা প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং আশা করি শেষ পর্যন্ত ফলাফল আমাদের পক্ষেই আসবে।

চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের রক্ষণভাগ যেন এক দুর্ভেদ্য লৌহপ্রাচীর, পুরো টুর্নামেন্টে তারা গোল খেয়েছে মাত্র ১টি! এই নিখুঁত ব্যাকলাইন ভাঙার পাশাপাশি স্পেনের রাইট উইংয়ে আগুন ঝরানো ১৭ বছরের বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালকে বোতলবন্দী করাই এখন ফরাসি ডিফেন্সের মূল চ্যালেঞ্জ।

ইয়ামালের নিখুঁত রান এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত রেখে সতীর্থদের জন্য স্পেস তৈরি করার ক্ষমতাকে সমীহ করছেন কোনাতেও। তবে তিনি হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন, স্পেন একটি অসাধারণ দল, তাদের প্রতিটি খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত দক্ষতা দারুণ। তাই আমরা শুধু ইয়ামালকে নিয়ে পড়ে না থেকে পুরো স্প্যানিশ দলকে রুখে দেয়ার ছক কষছি।

চলতি বিশ্বকাপে দায়ো উপামেকানো এবং উইলিয়াম সালিবার কাঁধে ভর করে ফ্রান্সের রক্ষণভাগও দারুণ জমাট। গত সাতটি বিশ্বকাপের মধ্যে চারবারই ফাইনাল খেলেছে ফ্রান্স। আগামী ১৯ জুলাই নিউইয়র্কের মেগা ফাইনালে পা রাখতে পারলে তারা স্পর্শ করবে ১৯৭৪ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে চারবার ফাইনাল খেলা টুর্নামেন্ট পরাশক্তি পশ্চিম জার্মানির ঐতিহাসিক রেকর্ডকে! তবে এখনই ফাইনাল নিয়ে বাতাসে ভাসতে রাজি নন কোনাতে। তার সাফ কথা, আমরা মাটিতে পা রাখছি, অতি-আত্মবিশ্বাসের ফাঁদে আমরা পা দেব না।

সহকর্মী ডিফেন্ডার ম্যাক্সেন্স ল্যাক্রোইক্সও কোনাটের সুরে সুর মিলিয়ে স্প্যানিশদের কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছেন। গ্রুপ পর্বে কেপ ভার্দের সাথে একটিমাত্র গোলশূন্য ড্র বাদ দিলে স্পেন তাদের সবকটি ম্যাচ জিতেছে। ল্যাক্রোইক্স বলেন, “ভয় নয়, আমরা ওদের শক্তি সম্পর্কে সচেতন। ওরা সব ম্যাচ জিতে এখানে এসেছে, তাই আমাদের মনে সম্মান আছে। তবে দিনশেষে আমরাই জিততে চাই। ইয়ামালকে রুখতে ফরাসি ডিফেন্স তাদের সেরাটা উজার করে দেবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

মঙ্গলবারের এই মহাজাগতিক লড়াইয়ে স্পেনের এই নিরেট লৌহপ্রাচীর ফরাসি বারুদে পুড়ে খাক হয়ে যায়, নাকি ইয়ামাল-রদ্রিদের স্প্যানিশ আর্মাডা ফ্রান্সকে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত করে, তা দেখার জন্য উত্তেজনার পারদ এখন আকাশ ছুঁয়েছে!

তথ্যসূত্র: রয়টার্স